বান্দরবানে ১২৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র

0
62

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধস ও বন্যার আশঙ্কায় জেলার ৭টি উপজেলায় খোলা হয়েছে ১২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র। বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম পাহাড়বার্তা’কে এ তথ্য জানান।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, টানা তিন দিনের ভারী বর্ষনের কারনে জেলার উপজেলা গুলোর বিভিন্ন এলাকায় বন্যা ও পাহাড় ধসের ব্যাপক আশঙ্কা দেখা যাওয়ার কারনে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ন বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনতে বান্দরবান সদরে ১০টি, লামায় ৫৫টি,রুমায় ৬টি, থানচিতে ৩টি, আলীকদমে ১০টি,রোয়াংছড়িতে ২২টি ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২০টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারনে জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে লামা উপজেলার পৌর এলাকাসহ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। জেলা শহরের ইসলামপুর,আর্মিপাড়া,শেরে বাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।
লামার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার জানান, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুকিপূর্ণ বসবাসকারীদেরকে মাইকিং ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের মাধ্যমে নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
আরো জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারনে বান্দরবানে লামাসহ বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ন বসবাসকারীদের সরে যেতে সকাল থেকে মাইকিং করেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ত্রান তৎপরতা চালানোর জন্য এবং কন্ট্রোল রুম খোলার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে উপজেলা প্রশাসনে জরুরী বার্তা পাঠানো হয়েছে।
লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আশ্রয় কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি আশ্রয়গ্রহীতাদের জন্য তাৎক্ষনিকভাবে শুকনো খাবার, খিচুড়ি ও পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অতি বৃষ্টির কারণে জেলার ৭টি উপজেলায় ছোট-বড় পাহাড় ধসে নিহত ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে এবং অভ্যন্তরিন রুটে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম পাহাড়বার্তা’কে বলেন, পাহাড়ের পদদেশে বসবাসকারীদের সরিয়ে আনতে আমরা আশ্রয় কেন্দ্র খোলার পাশাপাশি ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে আমরা ঝুঁকিপূর্ন এলাকায় বিশেষ টিম পাঠিয়েছি।
প্রসঙ্গত, বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে যাতায়ত ঝুঁকির কারনে উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটক যাতায়াতে বন্ধ করা হয়েছে।