বিজিএমইএ সভাপতি হওয়ার পথে রুবানা হক

mirza imtiaz প্রকাশ:| সোমবার, ৪ মার্চ , ২০১৯ সময় ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ

তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) দুই বছর মেয়াদি পরিচালনা পর্ষদের ৩৫টি পরিচালক পদে ৫৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে সম্মিলিত পরিষদের মোট ১৭ জন (ঢাকার ১২ জন এবং চট্টগ্রামের ৫ জন) ও ফোরামের ২৩ জন (ঢাকার ১৮ জন এবং চট্টগ্রামের ৫ জন)। অন্যদিকে স্বাধীনতা পরিষদের ১৮ জন পরিচালক পদপ্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। শনিবার ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন। সিডিউল অনুযায়ী, আগামী ৬ই এপ্রিল ঢাকা ও চট্টগ্রাম অফিসে একযোগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন পরিচালনায় বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজিএমইএ বেশ কয়েকজন ভোটার জানান, আগামী ৬ই এপ্রিল নির্বাচন হতে যাচ্ছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ৬ই মার্চ।

দুই প্যানেলে বাইরে যারা আছেন তারা যদি প্রত্যাহার করেন, তাহলে তো আর নির্বাচনের দরকার নেই। আর যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার না করেন, তখন ভোট আয়োজন করতে হবে। তবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ফোরাম থেকে রুবানা হক। আর না হলেও রুবানা হক সভাপতি নির্বাচিত হবেন বলে তারা জানান। যেভাবে সভাপতি হবেন রুবানা হক: গত মেয়াদ ছাড়া বিজিএমইএর সব মেয়াদেই ‘সম্মিলিত পরিষদ’ ও ‘ফোরাম’ নামে দুটি প্যানেলের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচিত হয়। তবে ২০১৫ সালে নির্বাচনের আগে সংগঠনের সাবেক সভাপতিদের সংগঠন ‘এক্স বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট ফোরাম’-এর পরামর্শে উভয় প্যানেলের সমঝোতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব সিলেকশন করা হয়। দুই মেয়াদের জন্য সেই সমঝোতা অনুযায়ী এবার সভাপতি হওয়ার কথা ফোরাম থেকে। প্রথমবার সম্মিলিত পরিষদ থেকে মনোনীত সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের কমিটি এখন সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সমঝোতা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচন সামনে রেখে সম্মিলিত পরিষদ এবং ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে যে প্যানেল জমা দিয়েছে তাতে দলনেতা করা হয়েছে ঢাকা উত্তরের প্রয়াত মেয়র বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হককে। তাই নিশ্চিত করে বলা যায়, বিজিএমইএতে আগামী দুই বছর নেতৃত্ব দেবেন রুবানা হক। এছাড়া পোশাক ব্যবসায়ীদের সংগঠনটির প্রথম নারী সভাপতি হতে চলেছেন মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবানা। রুবানা হকের স্বামী প্রয়াত আনিসুল হকও বিজিএমইএর সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি ফোরামের নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ফোরাম নেতা বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, আগের ধারাবাহিকতায় এবারও আমরা সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম সমঝোতার প্যানেল দিয়েছি। তাতে রুবানা হক হচ্ছেন প্যানেল লিডার। যদি অন্য কেউ বা অন্য কোনো প্যানেল নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে ভোটের প্রয়োজন হবে না। সেক্ষেত্রে রুবানা হক বিজিএমইএর সভাপতি হচ্ছেন এটা নিশ্চিত করে বলা যায়। আর যদি কোনো প্যানেল বা অন্য কেউ স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে নির্বাচন হলেও সম্মিলিত পরিষদ-ফোরাম প্যানেল জয়ী হবে, তাতেও কোনো সন্দেহ নেই। সে ক্ষেত্রেও নতুন সভাপতি হবেন রুবানা হক।
গণমাধ্যমকে রুবানা হক বলেন, ফোরাম-সমিলিত পরিষদ সমঝোতার মাধ্যমে একটি প্যানেল জমা দিয়েছি। নির্বাচন নিয়ে আমি আশাবাদী। তাতে আমাকে প্যানেল লিডার করা হয়েছে। তার মানে আপনি বিজিএমইএর নতুন সভাপতি হচ্ছেন এর জবাবে তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ দোয়া করবেন। আমাদের প্যানেলে যারা আছে তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত ও যোগ্য নেতা। আমরা পোশাক খাতের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।
বিজিএমইএ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এর নির্বাচনে সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। কিন্তু গত কয়েকটি নির্বাচনে সমঝোতার মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচিত হচ্ছে। গতবারও সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্দিকুর রহমান নেতৃত্বাধীন কমিটি নির্বাচিত হয়েছিল; নির্বাচনের প্রয়োজন হয়নি।
আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, গতবার আমাদের সমঝোতা হয়েছিল সম্মিলিত পরিষদ থেকে সভাপতি হবে। আর পরের বার অর্থাৎ এবার ফোরাম থেকে সভাপতি হবে। সে মোতাবেক এবার আমরা আমাদের ফোরাম থেকে রুবানা হককে মনোনীত করে তাকে সম্মিলিত পরিষদ-ফোরামের দলনেতা হিসেবে প্যানেল জমা দেয়া হয়েছে। গার্মেন্ট মালিকদের প্রায় সবাই ফোরাম অথবা সম্মিলিত পরিষদের সমর্থক। তাই যদি নির্বাচনও হয় তাতেও শতভাগ নিশ্চিত যে, এই সমঝোতার প্যানেলই জয়ী হবে।
শেষদিন বিজিএমইএ কার্যালয়ে রুবানা হকের নেতৃত্বে সম্মিলিত পরিষদ-ফোরাম প্যানেলের মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি টিপু মুনশি, সাবেক সভাপতি ও এফবিসিসিআই সভাপতি সম্মিলিত পরিষদ নেতা শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন এবং বিজিএমইএর বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ফোরামের নেতাদের মধ্যে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান সিনহা, আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ উপস্থিত ছিলেন।
পরিচালনা পর্ষদের ৩৫টি পদের জন্য ২০১৯-২০২১ সেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ২৬টি এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৯টি। বিজিএমইএর নেতা নির্বাচন পদ্ধতি অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদের ৩৫ পরিচালক নির্বাচন করেন সাধারণ সদস্যরা। পরে নির্বাচিত পরিচালকরা একজন সভাপতি এবং ৭ জন সহসভাপতি নির্বাচিত করে থাকেন।
দুই বছর মেয়াদি বিজিএমএমইএর পরিচালনা পর্ষদের নেতৃত্ব বাছাইয়ে প্রায় ৫ বছর পর আগামী ৬ই এপ্রিল নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষদিন ৬ই মার্চ। এর আগে ২০১৫ সালে বিজিএমইএর নেতৃত্ব নির্বাচনের উদ্যোগ নেয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী দুটি প্যানেল সম্মিলিত পরিষদ ও ফোরাম সমঝোতার মাধ্যমে বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুরকে সভাপতি করে একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়েছিল। এরপর পর্ষদের মেয়াদ কয়েক ধাপে বাড়িয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ২০১৩ সালের পর থেকে বিজিএমইএতে সরাসরি সদস্যদের ভোটে নির্বাচন হয়নি।
এদিকে বিজিএমইএর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গত বছরের জানুয়ারিতে স্বাধীনতা পরিষদ নামে একটি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে এই পরিষদ শনিবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাধা এলেও শেষ পর্যন্ত তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র গ্রহণযোগ্য হয়েছে বলে কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিশ্চিত করেছেন।
এবারের বিজিএমইএর নেতৃত্ব নির্বাচনে মোট ভোটার হচ্ছে ১ হাজার ৯৫৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার ১ হাজার ৫৯৭ জন। বাকি ৩৫৮ জন চট্টগ্রামের। এদিকে রুবানা হকের ছেলে নাভিদুল হক নিজের ফেসবুকে দেয়া স্ট্যাটাসে জানান, বিজিএমইএ নির্বাচনের জন্য মা’র মনোনয়নপত্র জমা দিলাম। ইন্‌শাআল্লাহ, মা-ই হতে যাচ্ছেন বিজিএমইএর প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট। বাবার হাত ধরে আজ থেকে বিশ বছর আগে তৈরি পোশাকের ব্যবসার কাজ শুরু করেছিলেন মা। বাবাও বিজিএমই-তে বহু বছর কাজ করেছেন এবং প্রেসিডেন্টও ছিলেন। তৈরি পোশাক শিল্প কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য মা ও তার পর্ষদ অনেক ভালো কাজ করবে আশা রাখি।


আরোও সংবাদ