বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব বাংলাদেশকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে

0
64

bissho-p-d
বিজ্ঞান মানুষকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে গেলেও অনেকক্ষেত্রে আমাদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। অবশ্য এর জন্য আমরাও অনেকাংশে দায়ী। পরিবেশ রক্ষায় শুধু আলোচনা নই বরং বেশি দরকার সচেতনতা এবং তা নিজ পরিবার থেকেই শুরু করতে হবে। ইনোভেটিভ মাল্টিমিডিয়া ক্যাম্পাসে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে চিটাগাং সায়েন্স ফাউন্ডেশন এর ‘পরিবেশের উপর বিশ্বায়নের প্রভাব’ শীর্ষক আলোচনায় মুখ্য আলোচক ড. মঞ্জুরুল আমিন চৌধুরী এ কথা বলেন। ড. মো. সানাউল্লার সভাপতিত্বে এবং সিএসএফ’র প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক বেলায়েত হোসাইন, অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, উপাধ্যক্ষ সেলিমুজ্জামান মজুমদার,নিউজ চিটাগাং২৪এর ‍নির্বাহি সম্পাদক
মির্জা ইমিতিয়াজ শাওন, ডা. বিধান মিত্র, লায়ন শংকর সেনগুপ্ত, মো. হেলাল উদ্দিন, এস এম নজরুল ইসলাম, অভিজিৎ চক্রবর্তী,  ইমরানুল হাসান আরাফাত, ইয়াসির আরাফাত, মো. নাছির মিঞা, শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। শুভেচ্ছা বক্তব্যে অভিজিৎ চক্রবর্তী বলেন, বিশ্বতাপমাত্রা যেভাবে বেড়ে চলেছে তার জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হব আমরা। বিশ্বায়নের প্রভাব নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন বলেন, এখন সময় এসেছে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া এবং সিএসএফ এর এই আয়োজন সত্যিকার অর্থে প্রশংসার দাবীদার। অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন গবেষণায় আজ পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে জলবায়ুর পরিবর্তন বিভিন্ন সেক্টরকে প্রতিঘাত করবে যার মধ্যে একটি হচ্ছে বিশাল জনগোষ্ঠির বাস্ত্তচ্যুতি। এই দেশ এক বিশাল জনসংখ্যার দেশ হওয়ায় জলবায়ুর নিয়ামকগুলোর মধ্যে যে কোন একটি চলকের পরিবর্তন অবশ্যই গত কয়েকশ বছরের প্রচলিত জীবিকার ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করবে। উপাধ্যক্ষ সেলিমুজ্জামান মজুমদার বলেন, আসলে আমরা যে আমাদের প্রকৃত লাভ-ক্ষতি বুঝি না, এটা আমাদের জাতীয় দোষ। রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি সবক্ষেত্রেই এটি সন্দেহাতীতভাবে সত্য। এখন সময় এসেছে, অতীতের ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে যথার্থ মানোন্নয়নের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করা।মির্জা ইমিতিয়াজ শাওন বলেন, সামাজিক বনায়ন, পাহাড় -নদী-বনভূমি রক্ষা,বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ভূগর্ভস্থ পানি সম্পদের ব্যবহার এসব বিষয়ে মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে সাথে ফসলি জমিতে ঘর বাড়ি তৈরী বন্ধ করতে হবে। আইনে যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে ।রতা না হলে বাংলাধেম হুমকীর সন্মুখীন হবে। ডা. বিধান মিত্র বলেন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে এটা স্পষ্টই প্রমাণিত যে গ্রিন হাউস গ্যাস মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং জলবায়ু পরিবর্তনে এর প্রভাব অপরিসীম। লায়ন শংকর সেনগুপ্ত বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপর্যাপ্ত ব্যবহার ও প্রয়োগের কারণে উন্নত চাষাবাদ কিংবা সুপরিকল্পিত বিজ্ঞানসম্মত বনায়ন- কিছুতেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য ও অগ্রগতি সাধিত হচ্ছে না। এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ রক্ষার্থে কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন করতে হলে প্রয়োজন যুগ ও বিশ্বের সাথে তাল মেলানো উন্নয়নমুখী গতিশীলতা এবং এই অতীব গুরুত্বপূর্ণ গতিশীলতার জন্য সরকারের গতিশীল পদক্ষেপ অপরিহার্য। ইয়াসির আরাফাত বলেন, বিশ্ব উষ্ণায়নের যে প্রভাব প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে, তার সঠিক ও সময়োচিত মোকাবেলা ধাপে ধাপে আমাদেরকে করে যেতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সতর্কতা গ্রহণপূর্বক এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার জনগণ নির্বিশেষে সকলকে সচেষ্ট হতে হবে। 

সভাপতির বক্তব্যে ড. মো. সানাউল্লাহ বলেন, বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দের নাম, সবচাইতে বড়ো আর্তনাদের নাম ‘জলবায়ু পরিবর্তন।’ বিশ্বের আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা এর ক্ষিপ্র ও ক্ষিপ্ত আগ্রাসনে উৎকণ্ঠিত। বিশ্বের সবাই হতবাকঃ দীর্ঘ অতীতের এমন শান্ত-শিষ্ট জলবায়ু হঠাৎ করে কয়েকটি যুগেই এমন বিগড়ে গেল কেন? কেন বিশ্বের অসংখ্য দেশ আজ সম্ভাব্য প্রবল জলবায়ু হামলার কাছে জিম্মি হয়ে গেছে? জলবায়ু পরিবর্তনের মুল কারণ যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি -এটা সকলের জানা। বস্ত্তত, ‘জলবায়ু পরিবর্তন’ সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাসহ সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষকে সাম্প্রতিক সময়ে খুব বেশি উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তিনি আরও বলেন, সিএসএফ এই উদ্দেশ্য চট্টগ্রামসহ সারাদেশে পরিবেশ বিষয়ক ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে এজেন্ডাভিত্তিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে এগিয়ে যাবার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।