বিশ্ব পরিবেশ দিবস World Environment Day, সংক্ষেপে WE আজ

0
15

বিশ্ব পরিবেশ দিবস (ইংরেজি: World Environment Day, সংক্ষেপে WED) প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক কর্মোদ্যোগ আর জনসচেতনতার মাধ্যমে পরিবেশ সচেতনতার লক্ষ্যে পালিত দিবস। এই দিনটিতেই জাতিসংঘের মানবিক পরিবেশ কনফারেন্স (United Nations Conference on the Human Environment) শুরু হয়েছিল। এই কনফারেন্স হয়েছিল ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ৫ থেকে ১৬ জুন অবধি। এই কনফারেন্স ঐ বছরই চালু করেছিল জাতিসংঘের সাধারণ সভা। তখন থেকেই প্রতি বৎসর এই দিবস পালিত হয়ে আসছে , দিবসটি প্রথম পালিত হয় ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে। প্রতি বছরই দিবসটি আলাদা আলাদা শহরে, আলাদা আলাদা প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে পালিত হয়। উত্তর গোলার্ধে দিবসটি বসন্তে, আর দক্ষিণ গোলার্ধে দিবসটি শরতে পালিত হয়।
এই দিবসটি আর্থ ডে বা ধরিত্রী দিবসের অনুগামী।
খাদ্যশস্য ও চাষযোগ্য জমির বিপরীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে জ্যামিতিক হারে, বাড়ছে দূষণ। দক্ষতা বৃদ্ধি করে খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদিত খাদ্যের অপচয় হ্রাস এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করে বেঁচে থাকাটাই এখন চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশের ১৬ কোটিসহ পৃথিবীর সাতশ কোটি মানুষের নির্দিষ্ট পরিমাণ জমির বিপরীতে খেয়ে, পরে, বেঁচে থাকতে এ বছর পরিবেশ দিবসের প্রতিপাদ্য- Think.Eat.Save(থিংক ইট সেভ), যার ভাবানুবাদ- ‘ভেবেচিন্তে খাই, অপচয় কমাই’।

মানুষ বৃদ্ধির পাশাপাশি রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারে বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। দূষিত হচ্ছে মাটি, পানি, বায়ু ও নদ-নদী।

তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে খাদ্যশস্য আহরণ, ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণে কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে উল্লেখ্যযোগ্য পরিমাণ খাদ্য অপচয় হয়। এছাড়া উন্নত বিশ্বে খাদ্যমান বজায় থাকা সত্ত্বেও বিপুল পরিমাণ খাদ্য প্রতিবছর অপচয় হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ খাদ্য অপচয়ের কারণে পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ছে।

বিষয়গুলো মাথায় রেখে এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হবে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিতভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পরিবেশগত সমস্যা ক্রমশ প্রকট হচ্ছে, যার প্রভাব থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়।

জনসংখ্যার আধিক্য, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন পরিবেশ দূষণের মাত্রাকে ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে, ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য।

সরকার উৎপাদিত খাদ্যের সংগ্রহ ও বিতরণে অপচয় কমিয়ে আনার প্রচেষ্টাসহ উন্নত খাদ্য ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিয়েছে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের ভূমিকা আজ শুধু নিজ দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, গ্লোবাল ফোরামেও জোরালো ভূমিকা পালন করছে ও নেতৃত্ব দিচ্ছে।

সরকার ২৩টি নতুন আইন ও বিধি প্রণয়নসহ বিদ্যমান পরিবেশ ও বন সংক্রান্ত আইন-কানুন সংশোধনের মাধ্যমে পরিবেশ উন্নয়নে অগ্রগতি সাধন করেছে।

ইউএনডিপি’র সহায়তায় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘কমিউনিটি বেইজড এডাপটেশন টু ক্লাইমেট চেঞ্জ থ্রো কোস্টাল এফরেস্ট্রেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০১১ সালে ইউএনডিপি’র সহায়তাপ্রাপ্ত বিশ্বের সব প্রকল্পের মধ্যে ‘এক্সিলেন্স পারফর্মেন্স অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে।

বন বিভাগের কো-ম্যানেজমেন্ট কার্যক্রমের জন্য ২০১২ সালের ‘ইকুয়েটর প্রাইজ’ পেয়েছে।

সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে আইলা ও সিডর’র মতো প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের ধকল সামলিয়ে সুন্দরবনের ৬৭ শতাংশ এলাকার বনজ সম্পদ আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস এবং ইউএনডিপি’র যৌথ জরিপে উঠে এসেছে।

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বলিষ্ঠ ও যোগ্য নেতৃত্বের কারণে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড-এর ট্রানজিশন কমিটিতে বাংলাদেশ সদস্য পদ লাভ করেছে। এছাড়া গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড পরিচালনার জন্য গঠিত গভর্নিং বডিতে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর পক্ষে সদস্য মনোনীত হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের মাধ্যমে জরিমানাসহ শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় বিশ্বব্যাপী আন্দোলন জোরদার এবং এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগ নেওয়া আমাদের প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশের উপকরণ ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি, খাদ্য-শস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং উৎপাদিত খাদ্যের অপচয় হ্রাসকল্পে সরকারের পাশাপাশি দেশের সব নাগরিককে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

কর্মসূচি

ed.netমঙ্গলবার সচিবালয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী হাছান মাহমুদ জানান, বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পরিবেশ দিবস এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এবার ২০১২ সালের জন্য ১০টি শ্রেণিতে ২৭ জন ব্যক্তি বৃক্ষরোপণে ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার’ পাচ্ছেন। এছাড়া তিনজনকে জাতীয় পরিবেশ পদক, তিনজনকে ‘বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ড লাইফ কনজারভেশন’ এবং সামাজিক বনায়নে সর্বোচ্চ আর্থিক সুবিধাপ্রাপ্ত দুইজনকে পুরস্কার প্রদান করা হবে। প্রধানমন্ত্রী এ পুরস্কার প্রদান করবেন।

মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নতি সাধন করে সারাবিশ্বে একটি ‘পরিবেশবান্ধব সরকার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে বলে দাবি করেন পরিবেশমন্ত্রী।

‘গাছ লাগিয়ে ভরবো দেশ, তৈরি করবো সুখের পরিবেশ’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এ বছর প্রায় ১২ কোটি চারা উত্তোলন করা হবে।

দিসবটি উপলক্ষে র্যালি, পরিবেশ ও বৃক্ষমেলা, চিত্রাঙ্কন, রচনা, বিতর্ক ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।