বেশি মজার দেশি পিঠার উৎসব

0
24

ভাপা, পাটিসাপটা, মুখপাকন, আতিক্যা পিঠা, কড়ি পিঠা, গুড়া পিঠা, জামাই পিঠা, কুনাফা, ম্যারা পিঠা, ডিম সুন্দরি, মধুবিনি, তাল পিঠা, খোলাজালি, ছাইন্না, দুধ চিতই, দুধ পুলিসহ শত শত পিঠার সমারোহ। ছিলো মধুভাত, বিনি ভাত আর হাঁসের মাংসও। গানের সুরে বেশি মজার সব দেশি পিঠার স্বাদ নিচ্ছেন অতিথিরা।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে সিনিয়রস ক্লাবের পিঠা উৎসবের চিত্র এটি।

উৎসব উদ্বোধন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বিশেষ অতিথি ছিলেন লায়ন গভর্নর কামরুন মালেক।

বক্তব্যে মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, সুন্দর সমাজ প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতায় এই বাংলার সংস্কৃতিকে আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করে আমাদের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। এটাই হোক মুজিববর্ষের অঙ্গীকার।

স্টল পরিদর্শনের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, পিঠাপুলি বাঙালি সংস্কৃতিরই অংশ। ঐতিহ্যবাহী এ সংস্কৃতি এতো সহজে হারিয়ে যাবে তা আমি মনে করি না। আশাকরি টিকে থাকবে। সিনিয়রস ক্লাব পিঠা উৎসবের আয়োজন করায় ধন্যবাদ জানাই। চট্টগ্রাম অঞ্চলে হাতঝাড়া পিঠা, ছাঁচ পাক্কনসহ অনেক পিঠা তৈরি হতো। বাণিজ্যিকভাবে পিঠা তৈরি হলে নতুন প্রজন্ম এসব পিঠার স্বাদ পাবে।
উৎসবে ইসরাত জাহান মেরীর মেরী’স কিচেন, বীর চট্টলা, রেবেকা নাসরিনের পিঠালয়, সানজিদা নাসরিনের অরণ্য, সেতারা বেগমের পিঠা হাইলে আইয়ুন, রুবামা শারমিনের স্পাইস, নিবেদিতা বড়ুয়ার পারিজাত, আফরোজা সুলতানা পুতুলের পিঠাঘর, জান্নাতুল ফেরদৌস খানমের বাসন্তী ও মাহনুর তাসনিমের ইডেন ইংলিশ স্কুলের স্টল রয়েছে।

নিবেদিতা বড়ুয়া জানান, চালের গুঁড়া, দুধ, নারকেল, চিনি, গুঁড় দিয়ে তৈরি ১০ পদের পিঠা এনেছি। নকশি, পুলি, ছাঁচ পিঠা, ধূপছায়া, ফুলঝুরি, ম্যারা পিঠা রয়েছে আমাদের স্টলে। আমার মায়ের কাছে পিঠা বানানো শিখেছি। ছোটবেলায় দেখতাম মায়েরা ভোরে উঠে পিঠা তৈরি করতেন। এখন খুব একটা তৈরি হয় না। এখানে এসে খুব ভালো লাগছে।

রেবেকা নাসরিন জানান, এবার ৩৬ পদের পিঠা এনেছেন। দুইদিন লেগেছে এসব তৈরি করতে। অনেক পদ আজ ভোর চারটা থেকে বানিয়েছি, গ্রামের বাড়ি চকরিয়া থেকে খেজুরের রস, চালের গুঁড়া আনিয়েছি। এখানে ভাপা পিঠা তাৎক্ষণিক বানানো হচ্ছে।
দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অনেক পিঠা হারিয়ে যাচ্ছে। দাদি-নানিরা অনেক পদের পিঠা বানাতেন। সিনিয়রস ক্লাবের পিঠা উৎসবে অনেক হারানো পিঠা দেখে খুব ভালো লাগছে। এ ধরনের উৎসব যত বেশি হবে তত গ্রাম বাংলার পিঠেপুলি টিকে থাকবে।