“বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাই ঈদ আনন্দের আরাধ্য লক্ষ্য”

0
12

ডিসি হিলে সম্মিলিত ঈদ আনন্দ উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, ঈদের আনন্দকে ভাগাভাগি করে নিয়ে মানুষে মানুষে সম্প্রীতি, সৌভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা সমাজ থেকে বৈষম্য দুর করবে। একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠাই একটি স্বাধীন দেশের আরাধ্য লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মেয়র আজ ৩০ জুন শুক্রবার, বিকেলে নজরুল স্কয়ার ডিসি হিলে দুই দিন ব্যাপী সম্মিলিত ঈদ আনন্দ উৎসব চট্টগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাঙালির চিরন্তন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারার সাথে ঈদ উৎসবের যোগসূত্রতায় নতুন প্রজন্ম পরিশুদ্ধ হতে পারে। আজকাল আমাদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবে আকাশ সংস্কৃতির আগ্রাসন চলছে। বিকৃতি, উন্মাদনা ও উলঙ্গপনায় যুব সমাজ শিকড়চ্যুত হচ্ছে এবং একটি ভোগবাদী সমাজের নষ্ট কীটে পরিণত হচ্ছে। এই অবক্ষয় রোধ করা না হলে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ধারনের মধ্য দিয়ে আমাদের পবিত্র হতে হবে। উৎসবের উদ্বোধক বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি শিল্প উদ্যাক্তা মঈন উদ্দিন আহমদ মিন্টু বলেন, মন থেকে চিন্তা-চেতনা থেকে সংকীর্ণতা ধূয়ে-মুছে না গেলে কখনো আত্মশুদ্ধি হয় না। আত্মশুদ্ধি না হলে আনন্দও বিষাদময় হয়ে উঠে। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রত্যেককে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজ প্রগতির পথের কাঁটা অপসারন করতে হবে। সমাজ যতই এগুবে ততই আমরা পরিপূর্ণ মনুষ্যত্ব অর্জনে সক্ষম হবো। তাই অর্থনৈতিক মুক্তিই হবে আনন্দ উদযাপনের সবচেয়ে বড় উপলক্ষ্য। সভাপতির ভাষনে সম্মিলিত ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক শেখ মাহমুদ ইসহাক বলেন, ঈদের আনন্দের সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও মুক্তআলো বাতাসের অবগাহন রচনায় ঈদ আনন্দ উৎসব নতুন মাত্রা সংযোজন করবে। এই আনন্দ নির্মলতায় ও পবিত্রতায় সকলকে শুদ্ধ করলেই আমাদের আনন্দের সীমা থাকবে না। চট্টগ্রামে প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত ঈদ আনন্দ উৎসবের আয়োজনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা সিটি মেয়রের আ জ ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বে নজরুল স্কয়ার ডিসি হিল থেকে বেড়িয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে আবার একই স্থানে ফিরে আসে। সম্মিলিত ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী সংস্কৃতিক কর্মী খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায়ে অনুষ্ঠিত ঈদ আনন্দ উৎসবের আলোচনায় সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সদস্য সচিব আবদুল মান্নান ফেরদৌস। ঘোষনা পত্র পাঠ করেন সমন্বয়কারী কে এম মামুন রাজা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সদস্য সচিব এ এম মহিউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মাহবুবুল হক মিয়া, শ্রমিক নেতা শফি বাঙালি, বিশিষ্ট সমাজসেবক হাজী মো. শাহবুদ্দিন, সমাজ কর্মী তিলোত্তমা চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান ডা. শাহেলা আবেদীন রিমা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেয়রের একান্ত সহকারী সচিব রায়হান ইউসুফ, নগর যুবলীগ সদস্য মীর আবদুল মামুন, সুমন দেবনাথ, সংস্কৃতি কর্মী রাশেদুল ইসলাম, চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক ভিপি এড. কামরুল আজম চৌধুরী টিপু, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাদক ফয়সাল বাপ্পী, সংস্কৃতি কর্মী কবি সজল দাশ, দিলীপ সেনগুপ্ত, রতন আচার্য্য, চট্টগ্রাম আইন কলেজের সাবেক সভাপতি টিপু শীল জয়দেব প্রমুখ। অনুষ্ঠানের শুরুতে উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন নিবেদন শিল্পী গোষ্ঠী পরিচালনায় রুপম মুৎসুদ্দি টিটু। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করেন নিক্কন একাডেমী পরিচালনায় নৃত্য শিল্পী সেতু বিশ্বাস। একক সংগীত পরিবেশন করেন সংগীত শিল্পী আলাউদ্দিন তাহের, কামরুল আজম চৌধুরী টিপু, পলি শারমিন, বিউটি দাশ, কাজল দত্ত ও জয়দ্বীপ চৌধুরী আকাশ। আগামীকাল ১ জুলাই শনিবার বিকেল ৪ টায় আলোচনা সভা। প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, মুখ্য আলোচক চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম। দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চের সম্পাদক সৈয়দ ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।