ভাবীতত্ত্বে আওয়ামী লীগে গরম হাওয়া

0
3415

রিয়াজ হায়দার চৌধুরী::

ভাবীকে সাংগঠনিক নিয়ম মানতেই মঞ্চ থেকে নামিয়ে দিলেন দেবর – মতান্তর থাকলেও এমন খবরে আগুনের হল্কা নেমেছে চট্টগ্রাম মহানগরের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে !

দেবর চট্টগ্রাম শহরের মেয়র। প্রথমবারের কার্যকালের তাঁর সাফল্যের বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন খোদ বিরোধীদল বিএনপি’র মহিলা দলের মহানগরসহ নেত্রী। কিন্তু নিজ দলের মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন বেজায় নাখোশ। দলের বর্ধিত সভা মঞ্চ থেকে তাকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ যদিও সঠিক নয় বলে মেয়র দিয়েছেন ভিন্ন ব্যাখ্যা।

চট্টগ্রামে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও আজম নাছির উদ্দিনের দীর্ঘকালীন বিরোধ’র কথা সকলেরই জানা। তবে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা এই দুই নেতাকেই সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রয়াণের পূর্বাপর সময়ে, বিশেষ করে তার চিকিৎসা প্রক্রিয়া,লাশ গ্রহণ, জানাযা এবং পরবর্তীতেও সর্বোচ্চ সম্মান জানানোতে মেয়র নাছিরের ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোন সুযোগই নেই। সাবেক মেয়রের মৃত্যুতে বর্তমান মেয়রের হৃদয়ের যে ক্ষরণ, তা যে কোন সভ্য বিবেকেই অনুভব হওয়ার কথা।প্রবীণ নেতাদের সাথেই শুধু নয়, অপেক্ষাকৃত নবীন,শিশু-যুবক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের সাথেও মেয়র নাছিরের সদভাবও অস্বীকার করার উপায় নেই।তবুও কেন হাসিনা মহিউদ্দিন ইস্যুতে মাঠের রাজনীতিতে গরম হাওয়া? চসিক নির্বাচন যখন অত্যাসন্ন, তখন ভাবী ইস্যুতে ফের বিভক্তির নেপথ্যে কি অন্য কিছু আছে?-এমন প্রশ্ন এখন রাজনীতি সচেতনদের মাঝে।

সভাটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মেয়র নাছির ।তিনি সাফ জানিয়েছেন, ‘মঞ্চে কে বা কারা থাকবেন তা কেন্দ্রীয় নির্দেশনাটি সিদ্ধান্ত হয়। ‘ সিদ্ধান্তটি মাইক্রোফোনের বারে বারে ঘোষণা হওয়ায় মঞ্চ থেকে শুধু হাসিনা মহিউদ্দিন নন আরো কয়েকজনকেও নেমে যেতে হয়।এতে হাসিনা মহিউদ্দিন অনুসারীরা ভাবছেন বিষয়টি সম্মানহানির।প্রতিবাদে মাঠে নেমেছেন কেউ কেউ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভদ্রজনিত অশ্লীল বাক্য বিলাপ শুধু নয়, মেয়রকে ক্ষমা চাইতে আলটিমেটামও দিয়েছেন। আবার প্রতিবাদকারীদের অবস্থান দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলেও মনে করছেন অন্যরা। খোদ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, প্রবীণ নেতা সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনও বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে পরিণাম ভালো হবে না বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এমন অবস্থায় দলেরে অভ্যন্তরে ভাবীইস্যুতে কতগুলো বিষয় আলোচনার দাবি রাখে। কিছু সাধারণ প্রশ্ন ক্ষমতাসীন নেতাকর্মীদের ভাবতে হবে‌।

ভাবুন তো, ‘হাসিনা মহিউদ্দিনকে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়রর স্ত্রী হিসেবে, নাকি মহিলা আওয়ামী লীগের একাংশের সভানেত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করবেন? যদি মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবেই মূল্যায়ন করেন, তবে অপর অংশের সভানেত্রী ও আওয়ামী পরিবারের অন্য অঙ্গ ও সহযোগী ও আদর্শিক সহায়ক সংগঠন যেমন;  যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, কৃষক লীগ, তাঁতী লীগ সহ অন্য সংগঠনগুলোর সভাপতিদের কি মঞ্চে বসানো উচিত নয় ? যদি চট্টগ্রাম মহানগরীর এই সংগঠন গুলোর একজন করে নেতাকে মঞ্চে বসাতে চান, তাহলে উত্তর ও দক্ষিণ জেলা এবং  অন্য পাঁচটি জেলার প্রতিনিধিদেরকেও  তো মঞ্চে বসাতে হয় ।  তাহলে কি পুরো সমাবেশস্থল জুড়েই থাকবে মঞ্চ।  তাহলে নেতা আর কর্মীর তফাৎ টা কি ? দলীয় সিদ্ধান্ত  মান্য করা বা সাংগঠনিক চর্চাটাও বা কই ?

অন্যদিকে হাসিনা মহিউদ্দিনকে যদি নিছক সাবেক মেয়রের কিংবা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতির স্ত্রীর মর্যাদা দিয়েই মঞ্চে তুলতে হয়, তাহলে মরহুম গণমুখী নেতা  ও  সাবেক সভাপতি মন্ত্রী এম এ মান্নান, আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু, আতাউর রহমান খান কায়সার, কাজী ইনামুল হক দানুর স্ত্রীকেও কি এভাবে সিদ্ধান্ত অমান্য করে মঞ্চে তুলতেন? বিতর্কহীন নেতা এমএ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধুরী স্ত্রী পুত্র-কন্যারাও তো তাহলে সমভাবেই মঞ্চে হিস্যা দাবি করতে পারেন। তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী পরিবারের সাথেই সম্পৃক্ত।

রাজনীতিতে ব্যক্তিগত ভাবাবেগের পক্ষপাতিত্ব নাকি সাম্যতা শিষ্টাচার ও গণতন্ত্রের শিক্ষাটা জরুরী ?

এভাবে সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও হাসিনা মহিউদ্দিন মঞ্চে বসলে ঘটতে পারত অঘটন। কেননা এই নেত্রী অতিসম্প্রতি তাঁর চশমা হিলের বাসা থেকে মহানগরীর আরেক প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতার কন্যা, যুব মহিলা লীগ মহানগরের আহ্বায়ক সায়রা রোশনীকে সিঁড়ি থেকেই তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। রোশনীরও ক্ষোভ আছে হাসিনা মহিউদ্দিনের উপর, যা তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে চোখ বুলালেই সহজেই বুঝা যায়। প্রতিনিধি সভাটির আগেই বর্ধিত সভায় রোশনী তাই হাসিনা মহিউদ্দিনের উপস্থিতিতেই শীর্ষ নেতাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন মঞ্চে কে বা কারা উঠতে পারবেন ! রোশনীর প্রশ্নের জবাবে তখনই মহানগর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন জানিয়েছিলেন সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের কথা। কাজেই সেদিন মঞ্চে হাসিনা মহিউদ্দিন বসলে রোশনীও বসতে চাইতেন কিংবা বিক্ষোভ-করতেন যুব মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা। সেই বিক্ষোভ সামাল দিতে গিয়ে দু’পক্ষে ঘটতে পারত বড় কোনো অঘটনও । দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাঁর মঞ্চে ওঠার আগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক সভা সঞ্চালকের অনুরোধে মঞ্চ থেকে নেমে যাওয়া: দুটোই যেমন বিবেচনার দাবি রাখে, তেমনি চট্টগ্রামে মহিলা আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরে এই নেত্রীকে নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। ভূমি দখলের অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। মহিলা আওয়ামী লীগের নেত্রীরা বিভিন্ন সময় হাসিনা মহিউদ্দিনকে নিয়ে আপত্তি তোলেন। মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাবেক প্যানেল মেয়র রেখা আলম চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর রেহেনা বেগম রানুসহ অনেককেই প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। । বিশৃঙ্খলা চাননি । চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ থেকে দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেত্রী নমিতা আইচ’রা কেন সরে গেলেন? – ভাবী কেন্দ্রীক আবেগের ফল্গুধারায় এই  প্রশ্নও আজ বিবেচনার দাবি রাখে ! দলের অভ্যন্তরেই আছে ক্ষোভ। মেয়র নাছির হয়তো সেই ক্ষোভে দেশলাই কাঠিটি জ্বালাতে চাননি।

ভাবুন তো, হাসিনা মহিউদ্দীনকে মঞ্চে বসাতে গিয়ে যদি সভার শৃঙ্খলা ভঙ্গ হতো কিংবা কোন অযাচিত ঘটনা ঘটতো, তার দায় কি এই ইস্যূতে মাঠের কথিত নিন্দা প্রকাশকারীরা নিতেন ?

মেয়র নাছির সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর স্ত্রীকে ভর্ৎসনা কিংবা হুকুমের স্বরে মঞ্চ থেকে নেমে যেতে বলেননি। তিনি সভা সঞ্চালনাকালে বিনীত ভাষায় হাসিনা মহিউদ্দিন কিংবা কারও নাম উল্লেখ করে নয়, সিদ্ধান্তের বাইরে যেয়ে কেউই যাতে মঞ্চে না ওঠেন, নিজেদের সম্মান রক্ষার দোহাই দিয়েও একাধিকবার সেই অনুরোধই জানিয়েছিলেন।এটি শিষ্টাচার, সাংগঠনিক স্বচ্ছতা ও দৃঢ়তারই পরিচায়ক। গণতান্ত্রিক এবং যে কোন দেশের ল্যান্ডমার্ক দলের অভ্যন্তরে এই চর্চাটি থাকা উচিত।তবুও মেয়র নাছির  সভা সঞ্চালনা করতে গিয়ে কেউ মনে কষ্ট পেয়ে থাকেন বিনয়ের সাথে দুঃখ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমকে। এরপরেও আল্টিমেটাম, হুঙ্কার, অশ্লীল বাক্য পরিস্থিতি অসহিষ্ণুই করছে। চট্টগ্রামের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের একটি অংশ যদি মনে করে থাকেন যে, চট্টগ্রাম নগরের সাধারণ সভ্য মানুষরা সব মরে গেছেন, তাহলে ভুল হবে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার যদি আদর্শিক কর্মী তাঁরা হন, তাহলে এটাও শেখা উচিত, বঙ্গবন্ধুর অপর কন্যা শেখ রেহানা দলীয় ফোরামে কোন মিটিং এ মঞ্চে বসে থাকেন না।  সেখানে কোন ভাবীর প্রশ্ন আসবেই বা কেন !

আজ কারণে-অকারণে মাঠের রাজনীতির দোহায় দিয়ে মরহুম জননেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে ব্যবহার করা হচ্ছে । ছিঁচকে চোর ও সন্ত্রাসীরা পোস্টারে তার ছবি ব্যবহার করছেন । যারা কথায় কথায় “বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে”র সাথে ‘ভাইয়ের চট্টগ্রামে’র উদাহরণ-তুলনা টানেন, তারা প্রকারান্তরে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশকে এবং চট্টগ্রামকে খাটো করেন। অন্য শীর্ষ নেতাদেরও অবমাননা করেন।দলীয় আদর্শ ও চেতনা বোধকে বিসর্জনই দেন।

মনে রাখতে হবে, বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ  ও বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার বাইরে বড় কোনো আওয়ামীলীগার নেই।

ভাবুন তো, যারা দলীয় সভাপতি হিসেবে জাতির পিতার শেখ হাসিনা দায়িত্বে থাকতেই “চট্টগ্রাম অমুকের” , ” চট্টগ্রাম তমুকের” বলে আওয়ামী লীগের ব্যানার ব্যবহার করেই স্লোগান দেন, তারা আসলে কতটুকু বঙ্গবন্ধু কিংবা তার কন্যার প্রতি নিবেদিত ? তাদের কাছে  বঙ্গবন্ধু , আওয়ামী লীগ কিংবা বাংলাদেশ বড়, নাকি ভাই ও ভাবী  বড়?– মরহুম জননেতা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই তার কথিত এই অনুসারীদের কাছে এমন প্রশ্ন যে কেউ রাখতেই পারেন।

 ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে এই অপরিণামদর্শী উগ্রসমর্থক ও তাদের নিয়ন্ত্রক নেতা দাবীদারদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জীবন ঝুঁকি নিয়ে, শোককে শক্তিতে পরিণত করে, সংযম সাধন করে দেশী-বিদেশী শত ষড়যন্ত্রের পরেও দল ও দেশকে আকড়ে রেখেছেন বলেই  মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের ‘মেয়র ‘ও ‘জননেতা’ হয়েছেন। হাসিনা মহিউদ্দিন তো সেই ক্ষেত্রে অনেক পরেই বিবেচনাযোগ্য।

 ‘আমরা কি শুধু ভাই আর ভাবীর রাজনীতিই করবো ?’ – বললেন বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের একজন সাধারণ বিবেকবান কর্মী।

বেকুব আর গৃহভৃত্য টাইপের রাজনৈতিক কর্মীরা অহেতুক ভাবী ইস্যূতে মরহুম ভাইয়ের নাম ব্যবহার করে তাঁকে (ভাইকে) বিতর্কে টেনে আনছেন । ভাবছি, ভাই বেঁচে থাকলে দলীয় সিদ্ধান্তের পর  নিঃসন্দেহে  মঞ্চের ধারেকাছেও যেতে পারতেন না ভাবী।

চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভাগ্য যে, বেয়াদবদের কাছ থেকে আদব শিখতে হচ্ছে। আদব আর সন্মানের দাবিতে বেয়াদবরা যখন মাঠে সোচ্চার, তখন  আর কী বলার আছে ! কেউ যদি নিজেকে চট্টলবীর মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভ্য রাজনৈতিক কর্মী মনে করেন, তবে তাঁকে মনে রাখতে হবে, মহিউদ্দিন চৌধুরী বেয়াদবদের গুরু নন । বিশৃঙ্খলা তিনি পছন্দ করতেন না। দলের সভা সমাবেশ চলাকালেও তিনি প্রকাশ্য অঙ্গুলি ইশারায় শৃঙ্খলা রক্ষার চেষ্টা করতেন ‌। সত্তিকারের মহিউদ্দীন অনুরাগীরা নিশ্চয়ই এসব ভুলে যাননি।

তবে যারা নিজেদের সংগঠনের কর্মচারী ভাবেন কিংবা নেতা বিশেষের ব্যক্তিগত কর্মচারীর মত সংগঠনে তৎপর, তাদের কাছে সংগঠনের সিদ্ধান্ত, নিয়মানুবর্তিতা, আদর্শ ও  ইমেজ কিংবা বিতর্কিত হওয়া না হওয়াতে কিছুই  যায় আসে না । এটাই তো স্বাভাবিক । এখন সংগঠনকেই ভাবতে হবে, ভবিষ্যতেও কী দলে এই শ্রেণীটাই পৃষ্ঠপোষকতা পাবে? -এখন নেতৃত্বকেই খুঁজে নিতে হবে গন্তব্য।

 এবার দলের নির্ধারকদের দায়িত্ব প্রসঙ্গে আসা যাক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দলীয় সিদ্ধান্ত, শৃঙ্খলা নাকি ‘ভাবীতত্ত্ব’ বড় ? -নীতিনির্ধারকদের কাছে এই প্রশ্নের জবাব প্রত্যাশা সাধারণ বঙ্গবন্ধু প্রেমীরা করতেই পারেন। মহিউদ্দিন চৌধুরীর সন্তান শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিষ্টার চৌধুরী মহিবুল হাসান নওফেলের অবস্থানও প্রত্যাশা করেন লক্ষ লক্ষ্ মুজিবপ্রেমি।

প্রসঙ্গক্রমে শিক্ষা উপমন্ত্রী নওফেলের একটি বক্তব্য খুবই প্রণিধানযোগ্য। অতিসম্প্রতি তিনি একটি বক্তৃতায় “ভাইয়ের রাজনীতি নয়, আদর্শের চর্চা করার” জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই তরুণ নেতার বক্তব্যের ভাষা বা মর্মকথা অনুধাবন করা উচিত  ভাই কিংবা ভাবির অনুসারীদের।

(লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহসভাপতি ও পেশাজীবী-নাগরিক সংগঠক)