ভালোবাসা দিবসের বিশেষ সাজ

0
73

আপনার পছন্দের যে কোনো রঙই হতে পারে আপনার ভালোবাসার রঙ। ভালোবাসার নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। আমার মতে একজন ব্যক্তির মনের মধ্যে যতোদিন রোমান্টিসিজম থাকবে ততোদিনই স্থায়িত্ব পাবে তার ভালোবাসা। আমার কাছে ফ্যাশন বা সাজসজ্জা হচ্ছে নিজের চাওয়া। নিজের ও অন্যের চোখে ভালো লাগার এক অদ্ভুত সমন্বয়। কোনো একটি সাজপোশাক নিজের কাছে ভালো লাগবে এবং অন্যের চোখেও তা যেন দৃষ্টিনন্দন হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে কোনো স্টাইলের ক্ষেত্রেই সব সময় খেয়াল রাখবেন- স্টাইল মানুষের জন্য, মানুষ স্টাইলের জন্য নয়। তাই সাজুন নিজের মন থেকে, মনের মতো করে। যাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং যা আপনি ক্যারি করতে পারেন। শুধু খেয়াল রাখবেন আপনার বয়স, পেশা, স্কিন-কালার, সামাজিক অবস্থান, পরিবেশ, আবহাওয়া- এসব কিছুর ওপর। ভালোবাসা দিবসে সাজতে চাইলে সাজুন আপনার মনের মতো করে। যা আপনার কাছে আপনাকে সুন্দর করে তোলে। যা আপনি ক্যারি করতে পারবেন। প্রাধান্য দিতে পারেন আপনার ভালোবাসার মানুষের পছন্দকে।

ছেলেদের ক্ষেত্রে : ছেলেদের সাজসজ্জার প্রথম কথাই হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। নিজেকে সতেজ ও সুরভিত রাখতে ব্যবহার করতে পারেন লোশন, ডিওডেরান্ট, বডি ¯েপ্র, কিংবা পারফিউম। এছাড়া ছেলেদের রূপচর্চা ও সাজসজ্জা অনেকটাই সেভ করার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ভালো কোনো ব্যান্ডের শেভিং জেল ব্যবহার করে শেভ করে নিন। শেভিংয়ের পর আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করুন। ভালো কোনো ব্র্যান্ডের বডি সোপ দ্বারা শাওয়ার করে নিন। বডি ¯েপ্র বা ডিওডেরান্ট ব্যবহার করুন। এবার ভালোবাসা দিবসের জন্য নির্ধারিত পোশাকটি পরে নিন। পোশাকের সঙ্গে মানানসই জুতা বা স্যান্ডেল পরুন। ঘড়ি, মানিব্যাগ, মোবাইল ঠিকমতো গুছিয়ে নিন। বের হওয়ার আগে মেখে নিন ভালো কোনো পারফিউম।

মেয়েদের ক্ষেত্রে : ভ্যালেন্টাইনস ডের দুএকদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন। আইব্রোটা গ্রেডিং করে নিন। ফেসিয়ালটা করে নিতে পারেন ২/১ দিন আগে। ওয়াক্সিং ব্লিচিং বা ফেয়ার পলিশ করে নিতে পারেন আগের দিন। প্রয়োজন মনে হলে প্যাডিকিওর, মেনিকিওরটাও করিয়ে নিতে পারেন। সব সময় মনে রাখবেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই সৌন্দ্যর্যর মূল উৎস।

পোশাক : পোশাকের ক্ষেত্রে আপনার পছন্দের যে কোনো পোশাকই চলতে পারে। প্রাধান্য দিতে পারেন ভালোবাসার মানুষের পছন্দকেও। তবে আমি বলবো, শাড়িটিকেই প্রাধান্য দিন। বাঙালি যে কোনো মেয়েকেই শাড়িতে অনেক ভালো লাগে। বেছে নিতে পারেন সালোয়ার-কামিজ কিংবা ফতুয়াও। আমার কাছে ভালোবাসার রঙ হতে পারে যে কোনো রঙ অর্থাৎ আপনার পছন্দের যে কোনো রঙই হতে পারে আপনার ভালোবাসার রঙ। সেটাতে আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন।

চুল : নারীর সৌন্দর্যের প্রথম কথাই হচ্ছে সুন্দর চুল। চুল সৌন্দর্য বিকাশের একটি অপরিহার্য উপাদান। ব্যক্তিত্ব পরিবর্তনে চুলের স্টাইল ব্যাপক ভূমিকা রাখে। হেয়ার স্টাইল পরিবর্তন করে একজনের চেহারা মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে দেয়া যায়। সব স্টাইলই যে সবাইকে মানাবে এটা ঠিক নয়। এটি নির্ভর করে ব্যক্তির বয়স, চেহারার ধরন, পেশা, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক অবস্থান সব কিছুর ওপর। যখন কোনো স্টাইলের পর আপনার লুকে যে পরিবর্তনটা আসবে, সেটা যদি পজেটিভ হয় তাহলে স্বাভাবিকভাবেই আপনার আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বেড়ে যাবে। তাই চিন্তা-ভাবনা করে সিলেক্ট করুন আপনার জন্য পারফেক্ট হেয়ার স্টাইল। প্রয়োজনে হেয়ার এক্সপার্টের কনসালটেন্সি গ্রহণ করুন।

চোখ : চোখ মনের আয়না। মানুষের অন্তরের সৌন্দর্য এতে প্রতিনিয়ত প্রতিফলিত হয়। আপনার চোখ কতোটা আকর্ষণীয় তা নির্ভর করবে আপনি কিভাবে লুক দিচ্ছেন তার ওপর। ট্রেন্ড হিসেবে যে কোনো কালারের আই-শ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। চোখ সাজানোর জন্য প্রয়োজন- বেস মেকআপ, কনসিলার, ক্রিম, পাউডার, কাজল, আই-লাইনার, মাশকারা, নানা রকমের আইশ্যাডো, আই মেকআপ ব্রাশ, তুলা, ফ্রেস টিস্যু।

ঠোঁট : সুন্দর ঠোঁট আপনার মুখে এক অন্য মাত্রা এনে দিতে পারে। ঠোঁটই কিন্তু আপনার চেহারার আবেদন বাড়িয়ে দেয়। লিপস্টিক লাগানোর ক্ষেত্রে বেশকিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে পারেন। সারাদিন খুব বেশি তেলেভাজা খাবার না খেয়ে আট ঘণ্টার মতো ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়ে রাখতে চাইলে কিনুন ট্রান্সফার রেজিস্ট্যান্ট লিপস্টিক। সব রকম খেয়ে টানা ৪-৫ ঘণ্টা লিপস্টিক পরে থাকতে চাইলে লং ওয়ারিং লিপস্টিক বাছুন। কিছুক্ষণ পর ঠোঁট শুকিয়ে না যায় তার জন্য ভিটামিন-ই ও অ্যালাই সমৃৃদ্ধ লিপস্টিক বেছে নিন। ফ্রস্টেড লিপস্টিক মানে যেটা লাগালে ঠোঁট হালকা উজ্জ্বল চকচকে ভাব আনে। ম্যাট লিপস্টিক ফ্ল্যাট লুক আনে। এই লিপস্টিকের ড্রাই ফর্মুলা ঠোঁটে শুকনো ভাব বজায় থাকে।

ক্রিম লিপস্টিকে ক্যান্ডেশিলার মতো লাইট ওয়াক্স থাকে। তাই ঠোঁট শুকিয়ে যায় না। তবে বেশিক্ষণ এই লিপস্টিক ঠোঁটে থাকে না। এর মতোই ময়েশ্চারাইজিং লিপস্টিক, স্যাটিন বা শিমার লিপস্টিক মানে খুব গøসি ও ময়েশ্চার সমৃদ্ধ লিপস্টিক। কিন্তু এটা বারবার লাগাতে হয়। অয়েল কনটেন্ট খুব বেশি। টিউবে অনেক গাঢ় দেখায়। ঠোঁটে এই লিপস্টিক অতোটা গাঢ় দেখায় না।

যে কারণেই সাজুন না কেন, সাজ সম্পর্কে বেসিক কিছু ধারণা থাকা প্রয়োজন। খেয়াল রাখা প্রয়োজন নিজের বয়স, সামাজিক অবস্থান, পেশা, গায়ের রঙ, কি ধরনের পোশাক পরেন, লাইফস্টাইল এ সবের ওপর। প্রাধান্য দিন নিজের এবং প্রিয়জনের পছন্দকে। সব সময় খেয়াল রাখবেন মেকআপ মানে মাস্ক পরা নয় নিজের চেহারার প্লাস পয়েন্টগুলোকে ফুটিয়ে তোলা এবং দোষক্রটিকে আড়াল করা।