ভ্যাটসহ পাওনা না দেওয়ায় অপারেটরদের টাকা নেয়নি বিটিআরসি

0
23

ভ্যাট পরিশোধ নিয়ে বিটিআরসির সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের রাজস্ব জমা হয়নি।

বুধবার এই প্রান্তিকের (এপ্রিলে-জুন) বিভিন্ন পাওনা যেমন অপারেটরদের রাজস্বের অংশ, সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা তহবিল ও বাৎসরিক তরঙ্গ ফি পরিশোধের শেষ দিন ছিল।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো বলছে, ভ্যাট নিবন্ধন না থাকায় বিটিআরসিকে ভ্যাটের টাকা দিতে পারছেন না তারা। আর বিটিআরসি বলছে, বছর-বছর ভ্যাটসহ সরকারের পুরো পাওনা নিচ্ছেন তারা, ভ্যাট ছাড়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে এনবিআরের কোনো নির্দেশনাও মোবাইল ফোন অপারেটররা দেখাতে পারেনি।

গ্রামীণফোন, রবি এবং বাংলালিংক মিলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সরকারের মোট পাওনা আনুমানিক ১ হাজার কোটি টাকার মতো হতে পারে। তাহলে ১৫ শতাংশ হিসেবে ১৫০ কোটি টাকার মতো ভ্যাট।

মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটব এর মহাসচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এস এম ফরহাদ জানান, মোবাইল ফোন অপারেটররা বুধবার চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের ( এপ্রিল – জুন) বিভিন্ন পাওনা যেমন রাজস্বের অংশ, সামাজিক দ্বায়বদ্ধতা তহবিল ও বাৎসরিক তরঙ্গ ফি ইত্যাদির অর্থ মূসকের অংশ বাদ দিয়ে জমা দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিটিআরসি সেই অর্থ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

‘ গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর বর্তমান মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন (মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২) অনুযায়ী অর্থ আদায়কারী প্রতিষ্ঠানের মূসক নিবন্ধন থাকার বিষয়ে বাধ্যবাধকতা আছে’ উল্লেখ করেন তিনি।

এস এম ফরহাদ বলেন, বিটিআরসি এখন পর্যন্ত মূসক বা ভ্যাট নিবন্ধন না করায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দেশের ১৬ কোটিরও বেশি মোবাইল গ্রাহকের কথা মাথায় রেখে মোবাইল অপারেটরা তাদের উল্লেখিত প্রান্তিকের সরকারি পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে গিয়েছিলেন।

বিটিআরসির সিনিয়র সহকারী পরিচালক জাকির হোসেন টেকশহরডটকমকে জানান, বছর-বছর সরকারের সব পাওনা ভ্যাটসহ বিটিআরসিকে পরিশোধ করে আসছে মোবাইল ফোন অপারেটররা। গত প্রান্তিকেও (জানুয়ারি-মার্চ) ভ্যাটসহ পাওনা পরিশোধ করেছে তারা।

‘এবার এ বিষয়ে বাজেটে কোনো নির্দেশনা নেই, এনবিআররের কোনো নির্দেশনা দেখাতে পারেনি মোবাইল ফোন অপারেটররা। তাহলে কীভাবে ভ্যাট ছাড়া সরকারের পাওনা গ্রহণ করবে বিটিআরসি। আইন ও নিয়মের মধ্যেই সব কিছু হতে হবে’ বলছিলেন জাকির হোসেন।

এদিকে অ্যামটব মহাসচিব বলছেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বিটিআরসি উভয়ের নিকট ভ্যাট আইন অনুযায়ী কীভাবে অর্থ পরিশোধ করা যাবে এ ব্যপারে নির্দেশনা চেয়েও আজ পর্যন্ত কোন জবাব পাননি তারা।