মমতা ও জয়ললিতার প্রশংসায় মোদি, সৌজন্য নাকি কৌশল?

0
3

মমতা ও জয়ললিতা  মোদিভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লোকসভায় দেয়া নিজের প্রথম ভাষণে সবাইকে অবাক করে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ব্যাপক প্রশংসা করেছেন।

বুধবার প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর বক্তৃতা করতে গিয়ে মমতাকে ‘বোন’ সম্মোধন করে মোদি বলেন, “মমতা দিদি যেভাবে পশ্চিমবঙ্গকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য উন্নয়নের কাজ চালাচ্ছেন তাকে আমরা সম্মান করি। যে ভালো কাজ করে তার কথা বলতেই হবে। এভাবেই প্রতিযোগিতা চলুক রাজ্যগুলোর মধ্যে। তবেই তো দেশ মডেল হবে।”

পশ্চিমবঙ্গে ‘বাম দুঃশাসনের’ অবসান ও রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তৃণমূল নেত্রী কঠোর পরিশ্রম করেছেন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। মমতার পাশাপাশি তামিলনাড়ুর এআইডিএমকে প্রধান জয়ললিতারও প্রশংসা করেন মোদি।

লোকসভা নির্বাচনের আগে থেকেই কথিত বাংলাদেশি বিতাড়ন ইস্যুতে মোদি-মমতা বাকযুদ্ধ তুঙ্গে ছিল। যার ফলে বিশেষ আমন্ত্রণেও মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যাননি মমতা। কিন্তু লোকসভায় মমতার প্রশংসা করে ফের কিছুটা বরফ গলানোর চেষ্টা করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি।

অবশ্য, এটা মোদির একটা কৌশল হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ কয়েকদিন আগে বাম দলগুলোর প্রতি সহানুভূতিশীল হয়েছেন মমতা। তাদেরকে নিজের দল গোছাতে বলে জানিয়েছিলেন, “বিজেপিকে আমি দেখব। আপনারা ঘর সামলান।” তাই কৌশলী মোদি বোধহয় সেদিকেই নজর দিয়েছেন।

তবে, মোদির ঘনিষ্ঠরা এর মধ্যে কোনো রাজনীতি খুঁজে পাচ্ছেন না। তাদের বক্তব্য, মোদি বরাবরই পারস্পরিক সহযোগিতাভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় বিশ্বাসী। তাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দুই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাজের প্রশংসা করেছেন। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক লড়াই যে বাধা হবে না, প্রথম দিন থেকেই তার ইঙ্গিত দিয়ে আসছেন মোদী।

কিন্তু বিরোধী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর অনুসারীদের এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, লোকসভায় এনডিএ’র বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাজ্যসভায় তারা সংখ্যালঘু। তাদের সংখ্যা মাত্র ৬২। যার ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে কোনো বিল পাস করাতে গেলে মোদি সরকারকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তাই তার প্রয়োজন জয়ললিতা, মমতা ব্যানার্জি ও নবীন পট্টনায়কদের সমর্থন।

রাজ্যসভায় তৃণমূলের ১২ জন, এআইএডিএমকের ১০ জন এবং বিজু জনতা দলের ৬ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। তাই রাজ্যসভার বৈতরণী পার হতেই মোদির মুখে মমতা-জয়ললিতার ভূঁয়সী প্রশংসা কিনা তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

কংগ্রেসের সংসদ সদস্য অধীর চৌধুরী বলেছেন, রাজ্যসভার কথা ভেবে মমতার মন জয় করতেই মোদীর এই প্রশংসাবাণী। অবশ্য বামপন্থীরা বিষয়টিকে ‘গোপন সমঝোতা’ হিসেবে দেখছেন। সিপিএমের সংসদ সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেছেন, এই ঘটনায় বিজেপি-তৃণমূল গোপন সমঝোতার বিষয়টি আরও একবার প্রকাশ্যে এলো। সূত্র: আইআরআইবি