জাতীয় ঐক্যে আগামী দিনের মুক্তির সনদ ঘোষণা হবে

0
9

 বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অামীর খসরু মাহমুদ বলেছেন,জাতীয় ঐক্য আগামী দিনে জাতীকে মুক্তির সনদ এনে দেবে। তিনি বলেন,একদিকে গণতন্ত্রকামী দেশের বৃহত্তম একটি অংশ, অন্যদিকে গণতন্ত্র হত্যাকারী লুটেরাদের দল। দেশের মানুষ এ লুটেরা সরকারেরর হাত থেকে মুক্তি চাই, তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পেতে চায়। তাই আজকে ঢাকায় যে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে সভা চলছে তার দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী। জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে স্বৈরাচার এ সরকারের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে। তার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।তিনি বলরেন, তড়িঘড়ি করে দুর্নীতির মাধ্যমে ইভিএম মেশিন ক্রয় এবং ডিজিটাল আইনের নামে কালো আইন পাশ করে নীল নকশার নির্বাচনের যে ষড়যন্ত্র করছে সরকার তা জনগন মেনে নেবেনা।তানা বলেন বিএনপি নেতাকর্মীদের কণ্ঠ রোধ করতেই হাজার হাজার নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবী মামলা দিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। গত ১৫ দিনে ৩ হাজারের অধিক গায়েবী মামলায় ৩ লক্ষেরও অধিক বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে এই ফ্যাসিষ্ট সরকার।
গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর উত্তর দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র উদ্যোগে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারপ্যার্সনের উপদেষ্টা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সরকার দশ বছরে অনেক লুটপাট করেছে, তাই ক্ষমতা ছাড়তে ভয় পাচ্ছে, সরকার জনগণের আন্দোলনকে ভয় পায়, তাই মেধাবীদের কোটা আন্দোলন, ছাত্রদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন পুলিশ দিয়ে বন্ধ করতে হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসন দিয়েও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। জনগণ এবার নিরাপদ দেশের জন্য, ভোট কেন্দ্র, নিরপেক্ষ অাইন বিভাগ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আবারো আন্দোলন করবে। সে আন্দোলন পুলিশ ও সরকারের গুণ্ডাবাহিনী দিয়ে দমানো যাবে না। নির্বাচন কমিশনের উপর ভরসা করে আর চলতে পারবে না আওয়ামীলীগ। বিএনপি পুলিশের উপর নয়, জনগণের উপর নির্ভরশীল। তাই পুলিশ দিয়ে গায়েবী মামলার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নির্যাতন ও ইসি’র উপর ভর করে ইভিএমের মাধ্যমে ডিজিটাল কারচুপির নির্বাচন করতে চাচ্ছে। এ দেশের জনগণ তা আর হতে দেবে না।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপ্যার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, এস এম ফজলুল হক, বেগম রোজি কবির, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, বিএনপির জনপ্রিয়তায় সরকার ভীত হয়ে বিএনপিকে কোনো মাঠে-ময়দানে সমাবেশ করতে দিচ্ছে না, শোকসভাও পালন করতে হচ্ছে চার দেওয়ালের ভিতরে। সরকার স্বৈরাচারীর সীমানা ছাড়িয়ে গেছে । তারা এখন বিশ্ব স্বৈরাচার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলে দিয়েছে , সেখানে তাকে নানাভাবে মানসিক হয়রানি করছে। আবারো দেশে ‘৫ জানুয়ারি’র মতো একতরফা নির্বাচন করতে চাচ্ছে। কিন্তু এদেশে শহীদ জিয়ার সৈনিকরা বেঁচে থাকতে আর কোনো ‘বিকাশ-এমপি মার্কা’ নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় আরো বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক গাজী শাহজাহান জুয়েল, আবুল হাশেম বক্কর, আবু সুফিয়ান,সাথী উদয় কুসুম বড়ুয়া,শামসুল আলম,ব‍্যরিষ্টার শাকিলা ফারজানা,এম এ আজিজ, মোঃ মিয়া ভোলা, এম এ হালিম, নাজিম উদ্দিন ভিপি এনামুল হক এনাম, নুরুল আমিন, ইন্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, মঞ্জুর আলম,কাজী সালাউদ্দিন, জাকের হোসেন,এস কে খোদা তোতন, গাজী সিরাজ, মঞ্জুর আলম, কামরুল ইসলাম, শেখ নুরুল্লাহ বাহার, শিহাব উদ্দিন মুমিন, মনোয়ারা বেগম মনি,জেলি চৌধুরী, শাহেদুল ইসলাম চেৌধুরী,প্রমুখ
বিএনপি স্থায়ী কমটির সদস্য বলেন, তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনীতি করার আহবানই ছিল সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের রাজনৈতিক শেষ বক্তব্য।আমির খসরু মাহমুদ বলেন,সরকার অন্যায়ভাবে বিএনপির বয়োবৃদ্ধ নেতাদেরকে জেলে বন্দি করে রেখেছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল রাজবন্দিদের মুক্তির জন্য আরো ইস্পাত কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন বীর চট্টগ্রাম থেকে অতীতের মত আন্দোলনের তীব্রতা বাড়াবে নেতাকর্মীরা।