মা-মেয়ে হত্যা মামলা: একজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

0
2

চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় তাদের আত্মীয় মুশফিকুর রহিম (৩০) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আবু সালেহ মো. নোমানের আদালত এই জবানবন্দি রেকর্ড করে। মুশফিকুর রহিম হলেন নিহত মনোয়ারা বেগমের মেজ মেয়ের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, জোড়া খুনের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে নিয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন এক যুবক। তবে তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

এর আগে গত ১৫ জুলাই নগরীর খুলশী থানার আমবাগান আটার মিল এলাকায় নিজ বাড়ির পানির ট্যাংক থেকে মা মনোয়ারা বেগম (৯৪) ও মেয়ে শাহ মেহেরুন নেছা বেগমের (৬৭) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রূপালী ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা শাহ মেহেরুন নেছা বেগম মাকে নিয়ে ওই ভবনে থাকতেন। ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত মেহেরুন নেছা জায়গা কিনে ওই বাড়িটি নির্মাণ করেন।

লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছে, মাকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা এবং মেয়ের মাথার পেছনে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় নিহত মনোয়ারার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। প্রথমে মামলাটি খুলশী থানা পুলিশ তদন্ত করে। তবে ঘটনার এক সপ্তাহ পর মামলাটির তদন্তভার নগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ঘটনার পর মুশফিকুর রহমান ও তার দোকানের কর্মচারী মো. ইমনকে আটক করেছিল পুলিশ। তখন তারা পুলিশকে বিভ্রান্ত করে। তবে কললিস্টের ভিত্তিতে সম্ভাব্য খুনি হিসেবে মুশফিককে নজরে রেখেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর গতকাল তাকে গ্রেফতারের পর সে পুরো ঘটনা স্বীকার করে নেয় পুলিশের কাছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন বলেন, মুশফিক প্রথমে মেহেরুন নেছাকে বসার পিড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনা দেখে ফেলার পর মনোয়ারাকেও সে হত্যা করা। পরে লাশ ট্যাংকে ফেলে আসে। খুনের ঘটনায় মুশফিক ছাড়া আর কেউ জড়িত নেই বলেও আমরা জেনেছি।