মিরসরাই ট্র্যাজেডির ৮ম বর্ষ

0
55

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা:: আজ ১১ জুলাই ভয়াবহ ‘মিরসরাই ট্র্যাজেডি’র দিন। ২০১১ সালের এ দিনে মিরসরাই সদর স্টেডিয়াম থেকে খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে মিনিট্রাক উল্টে খাদে পড়ে ৪৩ শিক্ষার্থীসহ ৪৫ জন নিহত হন। তারপর কেটে গেছে ছয়টি বছর। প্রতিবছর এ দিনে স্মরণকালের ভয়াবহ এ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্বরন করেন স্বজন-প্রতিবেশী, সহপাঠী-শিক্ষকসহ সর্বস্তরের মানুষ।

ফিরে দেখা:
২০১১ সালের ১১ জুলাই মিরসরাই সদর স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্টের খেলা জয়ের আনন্দ নিয়ে একটি মিনিট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছিল প্রায় ৮০জন শিক্ষার্থী। বড়তাকিয়া-আবুতোরাব সড়কের সৈদালী নামক স্থানে চালকের গাফেলতির কারণে উল্টে গিয়ে খাদে পড়ে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৩৮জন শিক্ষার্থী একজন এলাকাবাসী। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরো পাঁচ শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবক। নিহত শিক্ষার্থীদের সকলেই স্থানীয় আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়, আবুতোরাব কলেজ ও আবুতোরাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত ছিলেন। সেদিন একসাথে ৪৩ শিশু-কিশোর, এক গ্রামবাসী আর একজন অভিভাবকের মৃত্যু স্তব্ধ করেছিল পুরো জাতিকে। ৪৫টি তাজা প্রাণ মুহুর্তেই স্মৃতি হয়ে মিলিয়ে গিয়েছিল সেদিন। তার সাথে হারিয়ে গিয়েছিল অজানা হাজারো রঙিন স্বপ্ন। লাশের মিছিলে ভারী হয়ে ওঠেছিল গ্রামের পর গ্রাম। শোকের জনপদে পরিনত হয়েছিল মায়ানী, আবুতোরাব, মঘাদিয়াসহ পার্শ্ববর্তী ৪টি গ্রাম। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে, তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী, সাবেক রাষ্ট্রপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জাতীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এসেছিলেন নিহতদের স্বজন-সহপাঠীদের সান্তনা দিতে। কিন্তু কিছুতেই শোক ভুলতে পারেনি স্বজন কিংবা সহপাঠিরা। ঘটনার প্রথম কয়েক মাস ধরে মানসিক অস্বাভাবিকতা বিরাজ করত সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। শ্রেণীকক্ষে এসে অজ্ঞান হয়ে যেত অনেক শিক্ষার্থী। অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল পাঠদান কার্যক্রম। অজানা আতংক উৎকন্ঠায় দিন কাটতে থাকে অভিভাবকদের। এখনো এসব স্মৃতি ভাবতে গিয়ে আঁতকে ওঠেন নিহতদের পরিবার, স্বজন, সহপাঠি কিংবা শিক্ষকরা।

দায়ী চালকের জেল অতঃপর মুক্তিঃ
ভয়াবহ এই দূর্ঘটনার হোতা পিকআপ চালক মফিজ ঘটনার পরপরই গাঁ ডাকা দেয়। অবশেষে নয়দিন পর বরিশালের কাউনিয়া থানা এলাকার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে মফিজকে গ্রেফতার করে পুলিশ। চারদিকে রব উঠে ঘাতক ড্রাইবার মফিজের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির। পরবর্তিতে আদালত চালক মফিজকে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে ৩ বছরের কারাদন্ড, ১০হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ডের আদেশ দেন। এছাড়াও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালিয়ে গুরুত্বর জখমের অপরাধে আরো দুই বছর কারাদন্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ৩মাসের সশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন। সর্বমোট ৫ বছর ৯ মাস সাজা হয় ওই চালকের। আদালতের দেয়া সেই সাজা খেটে ২০১৫ সালের ২৮ জুলাই মুক্তি পান চালক মফিজ।

দিনটিকে ঘিরে কর্মসূূচি:
আবুতোরাব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মর্জিনা আক্তার জানান, ১১ জুলাই সকাল ৮টা থেকে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথমে কালো ব্যাচ ধারণ করবে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এরপর নিহতদের আত্মার শান্তি কামনায় আয়োজন করা হয়েছে কোরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের। সকাল ৯টায় স্কুল প্রাঙ্গনে স্থাপিত স্মৃতিরবেদি ‘আবেগ’ এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের মানুষ। এরপর বিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে শোকর‌্যালি গিয়ে শেষ হবে ঘটনাস্থলে নিহতদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিরবেদি ‘অন্তিম’ এ।