মেধাবী এক ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন

0
107

তসলিম খাঁ:
চট্টগ্রামের ষোলশহরে জন্ম নেয়া নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন মেধাবী ছাত্র ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন চট্টগ্রাম, ঢাকা জয় করে খন লন্ডনে বাংলাদেশে বিশেষ সম্মানের আসনে আসীন করার সংগ্রামে রত। অনেক গুণে গুণান্বীত এই মানুষটি স্কুল জীবনেই তাঁর স্বভাবজাত নেতৃত্বের প্রতিভায় ভাস্বর ছিলেন। ১৯৭৪-৭৬ সাল পর্যনন্ত নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ১৯৯২-৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রাক্তন ছাত্র সমিতির তিনি প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক এবং তাঁরই সুযোগ্য নেতৃত্বে ১৯৯৩ সালে স্কুলের প্রথম প্রাক্তন ছাত্র পুনর্মিলনী আয়োজন সম্পন্ন হয়। আরও আছে; ১৯৯১ সালে তাঁরই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল আমাদের স্কুলের মর্ণিং শিফট এবং স্কুল শহীদ মিনার নির্মাণের অমর নায়কও তিনি। এই প্রজন্মের যারা সচেতন তারা ইতোমধ্যেই জেনে গেছেন তাঁর সম্পর্কে। অসচেতনদের জন্যেই বলি, ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের রাজপথ কাঁপানো লড়াকু বীর মনোয়ার হোসেন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সহ-সভাপতি হিসেবে। ছাত্র ইউনিয়ন ছিল সেই আন্দোলনের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন। সরকারি কমার্স কলেজের মেধাবী মুখ মনোয়ার ১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় মাস্টার্স করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকা কালীন শহীদ আব্দুর রব ও প্রীতিলতা হল, আইন বিভাগ চালু, মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ও বাস কনসেশন চালুর জন্যে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৪ সালে লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে খখই যড়হড়ঁৎং এবং পরবর্তীতে লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার হয়ে মনোয়ার হোসেন আইন পেশায় মনোনিবেশ করেন। এ পেশায় তিনি লন্ডনে বিপুল জনপ্রিয়তা পান। দেশের মানুষের সেবায় তিনি সদা তৎপর। মানবিক নানা উদ্যোগে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। যুক্তরাজ্য ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউমান রাইটস ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল তিনি। চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবিতে প্রথম জনপ্রিয় নাগরিক সংগঠন চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁরই নেতৃত্বে চট্টগ্রামে দৃশ্যমান উন্নয়ন পরিলক্ষিত হয়। তাঁদেরই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে শিক্ষাবোর্ড, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কর্ণফুলী ব্রিজ এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর বিশ লক্ষ মানুষকে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষার জন্যে আশি ও নব্বইয়ের দশকে বিশাল এক গণ আন্দোলনের রূপকার তিনি এবং টনক নাড়িয়েছিলে সরকারের। বিভিন্ন সময়ে নানা ধরণের সম্মাননা এবং ক্রেস্ট গ্রহণের পাশাপাশি সম্প্রতি তিনি ‘হুজ হু বাংলাদেশ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়া ব্রিটিশ বাংলাদেশ পেশাদার ব্যবসায়ী সম্মাননা ’১৫ এবং পূর্ব লন্ডনে আইন পেশায় বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। ব্যারিস্টার মনোয়ার সম্প্রতি দেশে ‘চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম সমিতি (ইউকে)’র সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন টিভি-চ্যানেলে ‘টক শো’র জনপ্রিয় কথক মনোয়ার হোসেন নগরীর ষোলশহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ডা. নুরুল হুদা ছিলেন একজন সমাজহিতৈষী। তিনি বোয়ালখালীতে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অসম্ভব মেধাবী সংগঠক এবং সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন।