যুবলীগের শেল্টারে জাটকা নিধন

0
25

প্রশাসনের নামে চাঁদাবাজি

জাটকা নিধনজেলার কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে নির্বিচারে চলছে জাটকা ইলিশ নিধন। স্থানীয় কোস্টগার্ড ও পুলিশকে হাত করে স্থানীয় যুবলীগ কর্মীদের 
সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার সকালে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্থানীয় যুবলীগ নেতাদের শেল্টারে জেলেরা নদীতে শতাধিক ট্রলার নিয়ে নেমেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, মার্চ থেকে এপ্রিল এ দুই মাস মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে সরকার সব ধরনের জাটকা ইলিশ আহরণ, বাজারজাতকরণ, শিকার, সংরক্ষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।

এ আইন ভঙ্গকারীদের জেল জরিমানাসহ অন্যান্য শাস্তির বিধান থাকলেও স্থানীয় যুবলীগ কর্মীদের সহযোগিতায় শনিবার ভোর থেকে শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার নিয়ে কমলনগর উপজেলার লুধুয়া মাছ ঘাট এলাকায় নির্বিচারে মাছ শিকার চলছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, চরফলকন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. শিবলী ও মোসলেহ উদ্দিন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রত্যেক ট্রলার থেকে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য কর্মকর্তা, কমলনগর থানা পুলিশ ও সাহেবের হাট কোস্টগার্ড মো. আলমের নামে ৫ হাজার টাকা করে আদায় করছে।

অভিযোগ উঠেছে খুলনা ও বাগেরহাট থেকে ট্রলার ও জেলে ভাড়া করে কমলনগর উপজেলার মেঘনা নদীতে নির্বিচারে ইলিশ শিকার করছে জেলেরা। রহস্যজনক কারণে লুধুয়া মাছ ঘাটে কোনো ধরনের অভিযানে নামছে না কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসন।

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য অফিস নদীতে অভিযান চালিয়ে চরফলকন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. শিবলীর ৫টি ট্রলার আটক করে রাখলে সেই মৎস্য কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেন।

পরে রামগতি ও কমলনগর আসনের এমপি মো. আবদুল্লাহ নির্দেশে জেলা প্রশাসককে আটককৃত ট্রলারগুলো ছেড়ে দেয়ার নির্দেশ দেন। পরে যুবলীগ নেতা আরও বেপরোয়াভাবে প্রশাসনকে বৃদ্ধাআঙ্গুল দেখিয়ে জেলেদের নিয়ে মাছ ধরার জন্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের অত্যাচারে কমলনগর উপজেলা প্রশাসন অসহায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা কোস্টগার্ডের প্রত্যক্ষ মদদে তাদের চোখের সামনে জেলেরা মাছ ধরছে নদীতে।

অভিযোগের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে সাহেবের হাট কোস্টগার্ড কন্টিজেন্ট কমান্ডার মো. আলম জানান, আমরা শুক্রবার নদীতে অভিযান করেনি কিন্তু তবে কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।

কমলনগর উপজেলা মৎস্য অফিসার মো. ইব্রাহিম হানিফ শাহিন বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্চ দিয়ে বলতে পারি আমাদের কোনো কর্মকর্তা, কিংবা আমি এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত নই। তবে সাহেবের হাট কোস্টগার্ডের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ আমরা ও পাচ্ছি। লোকবলের অভাবে ঠিকমতো নদীতে অভিযান করা সম্ভব হচ্ছে না তবুও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

অভিযোগের ব্যাপারে চরফলকন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. মোসলেহ উদ্দিন জানান, আমরা ইলিশ মাছের আড়তদার। এ কারণে আমাদের বিভিন্ন ধরনের অপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই।’

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও টান্সফোর্স কমিটির সভাপতি আব্দুল আওয়াল জানান, নির্বিচারে ইলিশ শিকারের বিষয়টি অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলেকউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের কোনো কর্মকর্তা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে ছাড় দেয়া হবে না। তবে একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নদীতে মাছ ধরতে জেলেদের উৎসাহ দিচ্ছে বলে অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাটকা রক্ষা করতে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।’

এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে স্থানীয়রা।