যেখানে ভরসা ঘোড়াগাড়ি!

0
63

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীতে চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে ঘোড়াগাড়ি এখানে একমাত্র ভরসা। চরাঞ্চলে নির্দিষ্ট সড়ক না থাকায় বালুপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে বেশ বেগ পোহাতে হয় গাড়িচালকদের।

তবে এ অঞ্চলে যাত্রী বহনে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়।

জানা যায়, চৌহালী উপজেলার সাত ইউনিয়নই যমুনা নদীভাঙনে বিপর্যস্ত। এ এলাকার মানুষের কৃষিনির্ভর জীবিকা নির্বাহ দীর্ঘ অতীতের। তবে যমুনার দুপাড় ভাঙনের ফলে মাঝ নদীতে জেগে ওঠা বালুচরে স্বপ্ন বোনেন চরাঞ্চলের চাষিরা। জমির ফসল বাজারজাত কিংবা সংরক্ষণ করতে নিতে হয় চরাঞ্চল থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরের হাটবাজারে।

শুষ্ক মৌসুমে বালু বা হাঁটুপানির পথে এসব পণ্য পরিবহনে করতে হয় ঘোড়াগাড়িতে। আর বর্ষায় নৌকার যাতায়াতের মাধ্যম নৌকা। তবে বর্তমানে যমুনায় অসংখ্য ছোট-বড় চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে চরাঞ্চলে যাত্রী পরিবহনে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল ও ঘোড়াগাড়ির সংখ্যাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

চরাঞ্চলে এখন অনেকেই ঘোড়ার গাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এ জন্য অনেকের নামও পরিবর্তন হয়ে গেছে।

যমুনা চরাঞ্চলের ঘোড়াগাড়ি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন বাবলু মিয়া। কিন্তু তাকে ডাকা হয় ঘোড়া বাবলু নামে। তিনি সাত বছর ধরে ঘোড়াগাড়ি চালান।

এ ব্যাপারে তিনি জানান, যমুনায় নৌ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় পণ্য পরিবহনে ঘোড়াগাড়ির কদর বেশি। দৈনিক ৮০০-১০০০ টাকা আয় করেন তিনি। ঘোড়ার খাবারের জন্য তাকে প্রতিদিন ব্যয় করতে হয় ১০০-৩০০ টাকা। বাকি টাকায় চলে সংসার।

বাবলু বলেন, শুষ্ক মৌসুমে চরাঞ্চলে উৎপাদিত সব ফসল ঘোড়াগাড়িতে পরিবহন করতে হয়। দুই বছর আগেও গোসাইবাড়ি চরে ৩-৫টা গাড়ি ছিল। আর এখন ২৫-৩০টা ঘোড়াগাড়ি হয়েছে। দিন দিন ঘোড়াগাড়ির চাহিদা বাড়ছে।

এ ছাড়া একই চরের ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক রমজান আলী জানান, যমুনার চর শুকিয়ে গেছে। এ কারণে চরাঞ্চলে যাতায়াতে এখন ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলের চাহিদা বাড়ছে। নৌকাঘাট থেকে গোসাইবাড়ি বাজারের দূরত্ব ৪-৫ কিলোমিটার। দুজন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করলে ২০০ টাকা ভাড়া।

বালুচর হওয়ায় যাতায়াতে একটু বেশি সময় লাগে, তার পরও সারা দিন মোটামুটি তেল খরচ বাদে এক হাজার টাকা থাকে।

যমুনার চরের স্থল ইউনিয়নের তেগুরি চরের জহুরুল ইসলাম ও বকুল হোসেনসহ অনেকেই জানান, বর্ষায় নৌকা। আর চরাঞ্চলের বালুর পথে রিকশা, ভ্যান চলাচল করে না। এখানকার ফসলসহ সব ধরনের পণ্য পরিবহনে তাদের ভরসা করতে হয় ঘোড়াগাড়ির ওপর।

এ বিষয়ে স্থল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, যমুনায় চর জেগে ওঠায় নৌ চলাচল বন্ধ হয়েছে। এ কারণে চরাঞ্চলে যাতায়াতের সুবিধার্থে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল ও পণ্য পরিবহনে ঘোড়াগাড়ি ব্যবহার বেড়ে গেছে। অনেকেই কৃষি ও মৎস্য শিকারের পেশা ছেড়ে ঘোড়াঘাড়ি ও মোটরসাইকেল কিনে ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।