রবির ৫ কোটি গ্রাহক পাচ্ছে নগদ

0
157

মোবাইল ফোন অপারেটর রবির চার কোটি ৯০ লাখ গ্রাহককে নিজেদের করে নিচ্ছে মোবাইলে আর্থিক লেনদেন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান নগদ।

বিপুল সংখ্যক এ গ্রাহকের তথ্য রবি থেকে ট্রান্সফার হতে মাত্র একদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুক। এসব গ্রাহক পরদিন থেকে নগদের ওয়ালেট ব্যবহার করতে পারবেন।

গ্রাহক বিচারে বর্তমানে দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর রবির সব সিম ব্যবহারকারী স্থানান্তর হলে নগদের গ্রাহক ছয় কোটি ছাড়িয়ে যাবে। বর্তমানে তাদের গ্রাহক আছে এক কোটি ২২ লাখ।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিও এ বিষয়ে অনাপত্তি পত্র দিয়েছে বলে জানা গেছে। ‘ নগদের গ্রাহক বাড়ানোর লক্ষ্যে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের গ্রাহকদের নগদ এ গ্রাহকীকরণের নিমিত্তে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন কর্তৃক অনাপত্তি প্রদান সংক্রান্ত’ বিষয়ে এক চিঠিতে এ অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে।

টেকশহরডটকমকে মিশুক জানান, ‍”রবির গ্রাহকদের কষ্ট করে আইডি ও ছবি বায়োমেট্রিক করে নতুন করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে না। রবির সব গ্রাহকের বায়োমেট্রিক করা আছে। তাই এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনভার্ট হয়ে যাবে। মে মাস নাগাদ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।”

‘আমাদের এখন টেস্টিং চলছে। বিভিন্ন জায়গায় পাইলটও করছি। এত বিশাল গ্রাহক- রবি ও এয়ারটেল মিলে প্রায় ৫ কোটি। এক সঙ্গে একদিনে তারা শিফট হবে, নগদের গ্রাহক হয়ে যাবে- বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ ডাকঘরের সঙ্গে যৌথভাবে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান।

মিশুক জানান, ‘জাস্ট *১৬৭ ডায়াল করে পিন চেইঞ্জ করলেই সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালেট ওপেন হয়ে যাবে। খুব সহজে কনভার্ট হয়ে যাবে’।

অন্য মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোও নগদের সঙ্গে যুক্ত হতে চাচ্ছে উল্লেখ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশুক জানান, ‘রবির এটা ঠিকঠাক হলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। কারণ এটি বিরাট ট্র্যানজেকশন। বিশ্বে একদিনে পাঁচ কোটি গ্রাহক ট্রান্সফার হয়নি। এরপর গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের বিষয়টি দেখা হবে।’

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে রবি লাভবান হবে উল্লেখ করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় প্রতিযোগিতা এনে দেওয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আরো বলেন, ‘এতে রবির গ্রাহকরা ফিক্স থেকে যাবে। তারা মুভ করবে না। মানুষ তো আজকে একটা সিম নিচ্ছে, কালকে আর একটা নিচ্ছে। এ সেবা পেলে তাদের গ্রাহকরা আর শিফট করবে না।’

এটা রবির বড় সুবিধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, একজন গ্রাহককে ফিক্স রাখার জন্য ইন্টারনাল কস্ট ৫০০ টাকার উপরে। এ পরিমাণ অর্থ তাদের কারণে মোবাইল অপারেটরটির সেভ হয়ে যাচ্ছে।’

এছাড়া এসব গ্রাহকদের টপআপ করতে রিটেইল পয়েন্টে যেতে হবে না। কারণ সে নগদের সেবা ব্যবহার করে মোবাইল ব্যালেন্স রিচার্জ করতে পারবে। তাদের জন্য দেওয়া প্যাকেজের অফার এখন বাজারে থাকা অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা- বলছিলেন মিশুক।

মোবাইলে আর্থিক লেনদেনে দেশে সাধারণত যে চার্জ করা হচ্ছে তা অনেক বেশি বলে মনে করছেন নগদ ব্যবস্থাপনা পরিচালক । তিনি বলেন, হাজারে ২০ টাকা ডাকাতি ছাড়া আর কিছু নয়। নগদ ২০ টাকাকে সাড়ে ৯ টাকায় নামিয়ে এনেছে। এটা কেউ চিন্তা করেনি। তাদের ক্যাশ আউট চার্জ ১৪ টাকা ৫০ পয়সা। এরমধ্যে ক্যাশব্যাক দেওয়া হচ্ছে ৫ টাকা। তাহলে গ্রাহকের খরচ হচ্ছে সাড়ে ৯ টাকা।

এখন ঘটনা উল্টো হয়ে গেছে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা অভিযোগের সুরে বলেন, “সাধারণের ব্যয় কমানোর এমন পদক্ষেপে সাধুবাদের বদলে এখন রেট বাড়ানোর জন্য রেগুলেটরের চাপ, বিভিন্ন ফোন কলের চাপ পাচ্ছি। এটা সাড়ে ৯ টাকা হতে আবার ১৮ টাকায় নিয়ে যেতে বলা হচ্ছে। তবে আমাদের পরিকল্পনায় আছে এ খরচ ৫ টাকার নীচে নামিয়ে আনা।”

তানভীর আহমেদ মিশুক বলেন, ‘বাংলাদেশ মাত্র ই-কেওয়াইসি পলিসি নিয়ে কাজ করছে। এ পদ্ধতি নগদ চালু করেছে ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি। নগদই প্রথম বাংলায় লেখা এনআইডির ওসিআর রিড করে একটি ছবি তোলার পর নির্বাচন কমিশনের জাতীয় ডেটাবেইজ থেকে যাচাই শেষে এক মিনিটের মধ্যে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে পারছে।

এনআইডির ছবির সঙ্গে তাৎক্ষণিক তোলা ছবি এআই দিয়ে যাচাইয়ের প্রযুক্তিসহ পুরো প্রক্রিয়াটি এখন চারটি দেশ নগদের কাছ থেকে কিনতে চেয়েছে। এরমধ্যে সিঙ্গাপুরও রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গ্রাহক ‍সুরক্ষা ও নিরাপত্তার বিষয়ে নগদের এমডি জানান, তারা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করেন, বিশ্বের এক নম্বর ব্যাংকের কার্যক্রমও সেটিতে চলে। তাই এখানে হ্যাক বা নিরাপত্তা ভাঙ্গার কোনো সুযোগ নেই।

তবে প্রতারকদের বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে গ্রাহক নিজের পিন নম্বর তাদের হাতে তুলে দিলে অন্যসব পদক্ষেপ বৃথা হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার বিকল্প নেই বলে মনে করেন তিনি।

গ্রাহক স্থানান্তরের বিষয়ে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম টেকশহরডটকমকে জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের জনগণের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে তারা সব সময় খুবই আন্তরিক। দেশের প্রথম এমএফএস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের যাত্রা শুরু হয়েছিল রবির হাত ধরেই।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা নগদের সেবা গ্রহণে গ্রাহকদের অনুরোধ জানানোর বিষয়ে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। দেশের প্রচলিত আইন-কানুন অনুসরণ করেই চুক্তি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।