রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মবার্ষিকী

0
15

আজ পঁচিশে বৈশাখ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৬তম জন্মবার্ষিকী। ১৮৬১ সালের এদিনে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় মহর্ষী দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘর আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বাঙালির কবি -বাংলার কবি, বিশ্বকবি, কবিগুরু।

রবীন্দ্রনাথের ধর্মীয় ও দার্শনিক চেতনা ছিল- শুধু নিজের শান্তি বা নিজের আত্মার মুক্তির জন্য ধর্ম নয়। মানুষের কল্যাণের জন্য যে সাধনা তাই ছিল তার ধর্ম। তার দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন। মানবতাবাদী এই কবি বিশ্বাস করতেন বিশ্বমানবতায়। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কবিতায়, গানে, গল্পে সেই দর্শনের অন্বেষণ করে গেছেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ বাঙালির মন-মানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বাঙালির ঐতিহ্যলালিত দর্শন ও সাহিত্য তার রচনার মধ্য দিয়ে বিশ্ব সাহিত্যসভায় পরিচিতি পায়। ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি এবং এশীয় হিসেবে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন কবিগুরু। বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিশ্বজনীন হয়ে উঠেছে রবীন্দ্রনাথের মাধ্যমে। বাংলা সাহিত্যকে তিনি বিশ্বের দরবারে সম্মানের আসনে পৌঁছে দিয়েছেন।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বহুমুখী সৃজনশীলতা বাংলা সাহিত্য ও শিল্পের প্রায় সবকটি শাখাকে স্পর্শ করেছে, সমৃদ্ধ করেছে। কবিতা দিয়ে তার সাহিত্য চর্চা শুরু। তার হাতেই বাংলা ভাষায় প্রথম সার্থক ছোটগল্পের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলা উপন্যাসকে তিনি আধুনিক ও সার্থক উপন্যাসে তুলে এনেছেন। শুধু সৃজনশীল সাহিত্য রচনায় নয়, অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র নিয়ে তার ভাবনাও তাকে অত্যন্ত উঁচু স্থানে নিয়ে গিয়েছে। তার লেখা গান বাঙালির হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয় আজো। বাংলাদেশের মানুষের কাছে রবীন্দ্রনাথ প্রেরণাদায়ী পুরুষ। যে কোন রাজনৈতিক অস্থিরতায়, আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথের কবিতা, গান আন্দোলনরত মানুষকে দেখায় পথের দিশা।