রাইখালী কৃষি গবেষনা কেন্দ্রে বীজবিহীন নতুন পেয়ারার জাত উদ্ভাবন

0
9

অমৌসুমে ফলে বাজার সয়লাব থাকবে

নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই(রাঙামাটি)

কাপ্তাই উপজেলাধীন রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের উদ্যানতত্ব বিভাগের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাগণ দীর্ঘ প্রায় ৭ বছর ধরে গবেষনা করে বীজমুক্ত(বিচি বিহীন) পেয়ারার নতুন জাত উদ্ভাবন করেছেন। উদ্ভাবিত নতুন জাতের এই পেয়ারার নাম ” বারি পেয়ারা-৪”।নতুন জাতের এই এ পেয়ারা অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে দেশে পেয়ারা চাষ আরো সমৃদ্ধশালী হবে। পাশাপাশি অমৌসুমি ফল হিসেবে দেশের বাজার সয়লাব থাকবে। ইতিমধ্যে গাজীপুরস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউট উদ্ভাবিত নতুন জাতের পেয়ারা নিয়ে ব্যাপক প্রচারনা চালাচ্ছে।
দেশে সারা বছরই কমবেশি পেয়ারা চাষ হলেও এটি মূলত গ্রীষ্মকালীন ফল। উদ্ভাবিত নতুন জাতের বারি পেয়ারা-৪ এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এতে কোন বীজ থাকেনা। দেখতে লম্বাটে এবং পুরো পেয়ারাই খাওয়ার উপযুক্ত।
রাইখালী পাহাড়ি কৃষি গবেষনা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড: আলতাফ হোসেন জানান, বারি পেয়ারা- ৪ সর্ম্পূণ বীজ বিহীন। আকারে বড়, রোগ ও পোকামাকড় সহিষ্ণু এবং অমৌসুমী একটি ফল। কম বেশি সারা বছর ফলটি পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক আহরন করা হয় সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পযর্ন্ত। উচ্চ ফলনশীল ফলটি খুবই সুস্বাদু। সেপ্টেম্বর মাসে যখন দেশে পেয়ারাসহ অন্যান্য ফল তেমন পাওয়া যায় না, তখন এফলটি আহরন শুরু হয়। নতুন উদ্ভাবিত জাতটি পার্বত্য এলাকাসহ সারা দেশে চাষ উপযোগী।
চাষাবাদ: উদ্ভাবিত পেয়ারা উষ্ণ ও আদ্র জলবায়ুর ফল। সব রকমের মাটিতে এ পেয়ারা চাষ করা যায়। তবে জৈব পর্দাথ সমৃদ্ধ দো-আঁশ থেকে ভারী এঁটেল মাটি যেখানে পানি নিষ্কাশনের বিশেষ সুবিধা আছে, সেখানে পেয়ারা ভালো জন্মে। ৪ দশমিক ৫ থেকে ৮ দশমিক ২ মাত্রার অম্ল ক্ষারত্বের মাটিতে এটি সহজে জন্মে। বিচি না থাকায় পেয়ারাটি ছোট বড় সকলের নিকট গ্রহণ যোগ্যতা পেয়েছে। পেয়ারার এই বিশেষ জাত আমাদের দেশী পেয়ারার চেয়ে অনেক দামী। বাজার মূল্য অধিক হওয়ায় কৃষকের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে এবং এ ফল চাষে উদ্ধুদ্ধ করবে। এতে বাজারে পেয়ারা প্রাপ্তির সময়ও বাড়বে।
নতুন জাতের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য: উদ্ভাবিত জাতটি উচ্চফলনশীল ও অমৌসুমি একটি পেয়ারার জাত। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে নিয়মিত ফল ধরে। আমাদের দেশে সাধারণত জুন মাসে ফুল আসে এবং আগষ্ট মাসে ফল সংগ্রহ করা হয়। উদ্ভাবিত নতুন জাতটিতে জুন মাসে ফুল আসে এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকে ফল সংগ্রের উপযুক্ত হয়। ফলটি সম্পূর্ণ বীজবিহীন ও কচকচে। ফলের আকার ৭ দশমিক ১৪ থেকে ১০ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার। ফলের গড় ওজন ২৮৪ গ্রাম এবং টিএসএস শতকরা ৯ দশমিক ৫ ভাগ।ফলের গাত্র মসৃন। পরিপক্ক অবস্থায় হলদে সবুজ, শাঁস সাদা এবং খেতে খুবই সুস্বাদু। ফলটি ৮-১০ দিন পর্যন্ত সাধারণ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা যায়। বছরে প্রতি হেক্টরে ৩২ টন ফলন হয়।
পোকামাকড় ও রোগবালাই:
প্রস্তাবিত জাতটিতে উল্লেখযোগ্য রোগবালাইয়ের আক্রমণ তেমন পরিলক্ষিত হয়নি। তবে ছাতরা পোকার আক্রমণ দেখা গেছে।আক্রমণের প্রথম অবস্থায় আক্রান্ত পাতা ও ডগা ছাঁটাই করে ধ্বংস করতে হবে। আক্রমণ বেশি হলে”ইমিডাক্লোরোপ্রিড অথবা ডাইমেথোয়েট” গ্রুপের কীটনাশক অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করে সুফল পাওয়া যায়।
পাহাড়ি কৃষি গবেষনা কেন্দ্র, রাইখালীর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম বলেন, উদ্ভাবিত বারি পেয়ারা- ৪ সর্ম্পূণ বীজমুক্ত ও এটিতে রোগবালাই এবং পোকামাকড়ের প্রার্দুভাব কম থাকায় এর গ্রহণযোগ্যতা বেশি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষনা ইনষ্টিটিউটের অনুমোদন পাওয়া গেলে দেশে পেয়ারা চাষে বিপ্লব ঘটবে বলে তিনি মন্তব্য করেন