রামগড়-সাবরুম মৈত্রী সেতুর কাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন

0
141

রামগড়-সাবরুম মৈত্রী সেতুর কাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন। ফেনী নদীর ওপর দ্রুত এগিয়ে চলছে রামগড়-সাবরুম মৈত্রী সেতুর নির্মাণ কাজ। মূল সেতুর কাজ শেষ হলে শুরু হবে দেশের ২৩তম রামগড় স্থল বন্দর স্থাপনের কাজও। এসব কাজ সম্পূর্ণ শেষ হলে দেশের অর্থনীতিতে উন্মোচন হবে নতুন দিগন্ত।
গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ-ভারত (রামগড়-সাবরুম) মৈত্রী সেতু-১ এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা জানান, ইতোমধ্যে সেতুটির ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থাপিত ১০টি পিলারের উপর স্প্যান বসানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। চলছে স্প্যানের উপর রড বাঁধাই ও ঢালাইয়ের কাজ। এছাড়া নদীর দু’পাশে অ্যাপার্টমেন্টে মূলসেতুর কাজ নির্মাণাধীন। চুক্তি অনুযায়ী, এ বছরের এপ্রিলের মধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
সেতু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের প্রথম এই মৈত্রীসেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে রামগড়-সাবরুম স্থলবন্দরের কাজ শুরু হবে। এতে সমাজের খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে উচ্চ ও মধ্যবিত্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি সর্বত্র কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হবে। বৈদেশিক বাণিজ্যে এগোবে দেশ, সফল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে যুক্ত হবে সমৃদ্ধির এক নতুন অধ্যায়।
ব্যবসায়ীরা জানান, এই বন্দর চালু হলে ভারতের ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। ফলে দুই দেশের ব্যবসা, বাণিজ্য ও পর্যটনে প্রসার ঘটবে।
এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি বলেন, মীরসরাইয়ে দেশের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক জোন হচ্ছে। এছাড়া কঙবাজার টু চট্টগ্রাম এবং চট্টগ্রাম টু মীরসরাই মেরিন ড্রাইভ এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাই রামগড় হয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সাথে এই অঞ্চলের কানেক্টিভিটি চট্টগ্রামের উন্নয়ন তরান্বিত করবে।
পার্বত্য এলাকার ব্যবসায়ী সুদর্শন দত্ত, মুস্তাফিজুর রহমান ও অধ্যাপক দিলীপ চৌধুরী বলেন, একটা সময় ধরেই নেওয়া হয়েছিল রামগড়-সাবরুম স্থল বন্দর বোধহয় আর হবে না। তবে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে অবশেষে এটি আলোর মুখ দেখেছে। ভারতের আগ্রহ এবং আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ দরিদ্রতা থেকে মুক্তি পাবে।
এর আগে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রামগড় সফরকালে জানিয়েছিলেন, ‘রামগড় স্থল বন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সংযোগ সড়ক (রামগড়-বারৈয়ারহাট পর্যন্ত ৩৮ কিলোমিটার) উন্নয়নের কাজ বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা- জাইকা বাস্তবায়ন করছে। এজন্য খরচ হচ্ছে ৩ হাজার কোটি টাকা। সড়কটি চারলেনে উন্নিত করা হবে। যার কাজ এখন এগিয়ে চলছে। অন্যদিকে আগরতলা থেকে সাবরুম পর্যন্ত রেল লাইনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
জানা যায়, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রামগড়ে স্থলবন্দর স্থাপনের ঘোষণা দেয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৯৯৬ সালের ২৮ জুলাই স্থলপথ ও অভ্যন্তরীণ জলপথে ভারত ও মায়ানমার থেকে আমদানি-রপ্তানি বা খাদ্য ছাড়করণের উদ্দেশে দেশে ১৭৬টি শুল্ক স্টেশনের তালিকা ঘোষণা করে। ওই তালিকায় ৪৮ নম্বর ক্রমিকে ছিল রামগড় স্থল শুল্কস্টেশন।
প্রসঙ্গত, সরকার ঘোষিত ১৭৬টি স্থল বন্দরের বেশকিছু ইতোমধ্যে চালু হয়ে গেছে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় রামগড় স্থলবন্দর স্থাপনের কাজ দীর্ঘদিন ফাইল চাপা থাকলেও ২০১০ সালে স্থলবন্দর স্থাপনের কাজে পুনরায় গতি আসে। অবশেষে গত বছরের ১৬ জুন ভারতীয় হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী সেতু-১ ও রামগড় স্থলবন্দর এলাকার নির্মাণাধীন কাজের অগ্রগতি সরেজমিন পরিদর্শন করেন। ওই সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং অরুণাচলের (সেভেন সিস্টার্স) সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণ করতে বাংলাদেশ-ভারত সরকার বহু আগেই রামগড়-সাবরুম স্থল বন্দর স্থাপনে উদ্যোগী হয়। আর এ বন্দর চালু হলে দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে। অর্থনৈতিকভাবে এ অঞ্চল হবে সমৃদ্ধ।’