রাস্তার পাশ থেকে এক ট্রাক টাকা উদ্ধার

0
1689

বগুড়ার শাজাহানপুরে রাস্তার পাশে একটি পরিত্যক্ত ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ট্রাকটি আটক করে পুলিশ।

শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বগুড়ার শাজাহানপুরে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা বিপুল পরিমাণ ছেঁড়া টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের। টুকরো করা নোটগুলো বাতিল ও অপ্রচলনযোগ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখায় রাখা টাকার টুকরো ভর্তি বস্তাগুলো নির্ধারিত স্থানে না ফেলে ট্রাকের চালক শাজাহানপুর উপজেলার খারুয়া বিলের ধারে ফেলে দেন। পরে মঙ্গলবার টাকার টুকরোগুলো নিয়ে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বগুড়া শাখা, বগুড়া পৌরসভা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বগুড়া শাখার জড় সামগ্রী বিভাগের যুগ্ম ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান সমকালকে বলেন, ওই শাখায় প্রতিদিন বাতিল ও অপ্রচলনযোগ্য তিন লাখ পিস নোট (৫০ থেকে এক হাজার টাকা) টুকরো টুকরো করা হয়। আগে সেগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হত। কিন্তু তাতে পরিবেশ দূষিত হয় বলে সম্প্রতি পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এজন্য সেগুলো বর্জ্য হিসেবে পৌরসভার মাধ্যমে ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। আর সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক চত্বরে একটি ডাস্টবিন স্থাপনের অনুরোধ জানিয়ে চলতি বছরের ২০ আগস্ট বগুড়া পৌরসভার মেয়রকে একটি চিঠি দেওয়া হয়। তবে বগুড়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা চত্বরে এখন পর্যন্ত কোন ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়নি। ফলে টাকার টুকরো ভর্তি অর্ধশত বস্তা শাখা চত্বরেই পড়ে রয়েছে। সেখান থেকে কয়েকটি বস্তা পৌরসভার কর্মীরা রোববার বর্জ্য অপসারণের ট্রাকে তুলে নিয়ে যায়।

বগুড়া পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বলেন, এই শহরে বর্জ্য অপসারণের পদ্ধতিটি একটু আলাদা। বগুড়া পৌরসভায় কোথাও ডাস্টবিন রাখা হয়নি। তার পরিবর্তে পৌরসভার মহল্লাভিত্তিক সমিতির (সিবিও) নিয়োজিত কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বর্জ্য সংগ্রহ করে তা নির্ধারিত স্থানে (ডাম্পিং স্টেশন) ফেলে দেয়।

তিনি জানান, শহরের বাসা-বাড়িসহ সম্ভাব্য সব এলাকা থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্যগুলো ফেলার নির্ধারিত স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে বাঘোপাড়া এলাকায়। বর্জ্য ফেলানোর নির্ধারিত স্থান বাঘোপাড়ার পরিবর্তে কেন অন্যত্র ফেলানো হলো-এমন প্রশ্নের জবাবে মামুনুর রশিদ বলেন, বর্জ্যবাহী ট্রাকের চালকের ভুলের কারণে এটি হয়েছে। মাসুম নামে ওই চালককে বলা হয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের টাকার টুকরো ভর্তি বস্তাগুলো নির্ধারিত স্থানে ফেলতে। কিন্তু তিনি ভুল করে সেগুলো তার বাড়ির কাছে শাজাহানপুর উপজেলার খারুয়া বিলের ধারে ফেলে যান। অবশ্য ব্যাংক চত্বরে আরও যে বিপুল সংখ্যক বস্তা রয়েছে সেগুলো যথারীতি বাঘোপাড়ায় ডাম্পিং স্টেশনেই ফেলা হবে।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান সমকালকে বলেন, নির্ধারিত স্থানের পরিবর্তে যারা অন্যত্র বর্জ্য (টাকার টুকরো) ফেলছে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট শাখার সকল কর্মচারি এবং অভিযুক্ত ট্রাক চালককে বুধবার শোকজ করা হবে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।

বগুড়ায় পুলিশের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভুলের কারণে জনমনে অহেতুক সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছিল। আশাকরি ভবিষ্যতে তারা এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন।