রেলের জায়গায় উচ্ছেদ নিয়ে তুলকালাম

0
55

খুলশী থানার সেগুনবাগানে বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন জায়গায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা।

বুধবার (৯ অক্টোবর) সকালে রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা সেমি পাকা ঘর, দোকান-পাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করতে গেলে সেখানে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রামে রেলওয়ের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার সেগুনবাগানে অভিযান চালাতে যান তারা।

তবে স্থানীয়দের বাধার মুখে পড়ে পুরো এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শেষ না করে ২২টি সেমি পাকা ঘর এবং ৮টি দোকান-পাট উচ্ছেদ করেই ফিরে আসেন অভিযান পরিচালনাকারী দলের সদস্যরা।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযানে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. বোরহান উদ্দিন, রেলওয়ের ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা মাহাবুবুল করিম, খুলশী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবির হোসেন প্রমুখ অংশ নেন।

ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা জানান, স্থানীয়দের মধ্যে একটি গুজব ছড়ানো হয়েছিলো- অভিযানে বৈধ-অবৈধ সব স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হবে। যার কারণে কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়ে উচ্ছেদে বাধা দেয়।

তিনি বলেন, আমরা তাদের পুরো বিষয়টি বুঝিয়ে বলেছি। আশ্বস্ত করেছি- বৈধ কোনো স্থাপনা নয়, অবৈধ স্থাপনাগুলো ভাঙা হবে অভিযানে। এতে তারা সরে যান। দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফের উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ৩০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পদ কর্মকর্তা ইসরাত রেজা জানান, সেগুন বাগানে রেলের জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে স্থানীয়দের কয়েকবার নোটিশ দিয়েছি আমরা। তারা স্থাপনাগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় বুধবার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

তিনি বলেন, স্থানীয়দের বাধার মুখে পুরো এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান শেষ করা যায়নি। ফের অভিযান চালিয়ে রেলেওয়ের জায়গা দখলমুক্ত করা হবে।

রোহিঙ্গারা পারলে আমাদের কি দোষ?

উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর পরেই কয়েক হাজার লোক বিক্ষোভ শুরু করেন সেগুন বাগান এলাকায়। এ সময় তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে নানা স্লোগান দেন।

তাদের কয়েকজন দাবি করেন, রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়েই এ এলাকায় বসতি স্থাপন করেছেন তারা। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ‘অন্যায়’ ভাবেই তাদের উচ্ছেদ করছেন।

‘সরকার রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। তাহলে এ দেশের নাগরিক হয়ে আমরা কি দোষ করলাম। আমাদের কেনো উচ্ছেদ করা হবে।’ বলেন স্থানীয়রা।