রোহিঙ্গা ক‌্যাম্পে সকল শিক্ষন কেন্দ্রে স্থানীয় শিক্ষকেরা চরম বেতন বৈষম‌্যের শিকার

0
23
কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া:
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক‌্যাম্প কেন্দ্রীক যে সব দেশী বিদেশী এনজিও রোহিঙ্গা ক‌্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষন কেন্দ্রের মাধ‌্যমে পাঠদান দিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে বাংলাদেশী শিক্ষকদের সাথে বার্মিজ শিক্ষকের চরম বেতন বৈষম‌্য হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যারা বাংলাদেশী নাগরিক না, তারা বাংলাদেশের নাগরিকের মত সমান সুযোগ কিভাবে পায়। বাংলাদেশী শিক্ষকেরা ইংরেজী, গনিত, জীবন দক্ষতা তিনটা বিষয় পাঠদান করে পায় ১৪,৬০০/ টাকা এর মধ্যে যাতায়াত ভাতা ৩,৬০০/ টাকা আর রোহিঙ্গা শিক্ষকেরা বার্মিজ বিষয় পাঠদান করে পায় ১১,০০০/ টাকা, রোহিঙ্গারা ক‌্যাম্পের ভিতরে সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে আর বাংলাদেশীরা সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাংলাদেশীদের সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা না করে রোহিঙ্গাদের আরো সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে বলে জানা গেছে। রোহিঙ্গাদের বেতন বৃদ্ধি করতে বাজেটের দরকার হয় না। আর বাংলাদেশীদের বেতন বৃদ্ধি করতে বাজেটের দরকার হয়?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার বলে আসছেন স্থানীয় জনগনের সুযোগ সুবিধা কথা চিন্তা করতে। আর এনজিওরা রোহিঙ্গাদের সুযোগ সুবিধার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন এনজিওর এডুকেশন সেক্টরে কিছু অসাধু কর্মকর্তা আছে যারা রোহিঙ্গাদের মদদ দিচ্ছে। যাতে রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফেরত না যান। রোহিঙ্গা শিক্ষকেরা যদি ৮,০০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি ১১,০০০ টাকা পায়, বাংলাদেশী শিক্ষকেরা ও ১১,০০০/ টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ১৪,৬০০টাকা পায়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় শিক্ষকদের বেতন ২০, ০০০/ টাকা অত‌্যাবশকীয় হওয়া বলে মনে করেন সুশিল সমাজ।
মহান শিক্ষকতা পেশাকে নিয়ে যারা পরিবার পরিজন চালাচ্ছে তাদেরকে পড়তে হচ্ছে আর্থিক অনটনের মধ‌্যে ।মাসের পর মাস যায়,বছরের পর বছর যায় তাদের বেতন ভাতা সহ আনুসাঙ্গিক সুযোগ সুবিধা বাড়ছেনা।
রোহিঙ্গা ক‌্যাম্প ঘুরে শিক্ষন কেন্দ্রের একাধিক শিক্ষক শিক্ষিকার সাথে কথা বলে এসব তথ‌্য জানা যায়। কয়েকজন শিক্ষক বিনয়ের সহিত তাদের সমস‌্যা ও আর্থিক টানাপোড়নের কথা বলেন। যে সব এনজিও রোহিঙ্গা শিশু কিশোরদের পাঠদানের জন‌্য শিক্ষন কেন্দ্র চালু করেছেন সেখানে কর্মরত স্থানীয় শিক্ষক শিক্ষিকাদের বেতন ভাতা ১৪,৬০০ টাকার মধ‌্যে সীমাবদ্ধ ।সমুদয় বেতন ভাতা থেকে যাতায়ত,টিফিন ও চা নাস্তার খরচসহ প্রায় অর্ধেকেরও বেশি টাকা চলে যাচ্ছে প্রতিমাসে ।অবশিষ্ট ৫/৬ হাজার টাকা নিয়ে সংসার চলতে পারেকি? এসব দুরবস্থা ও সংকট উত্তোলনে মাননীয় জেলা প্রশাসক, আর আর আর সি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক‌্যাম্পে কর্মরত শিক্ষক মহল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোহিঙ্গা ক‌্যাম্পে কর্মরত এক মহিলা শিক্ষিকা বলেন, উপরের কর্মকর্তাদের যখন বেতন বাড়ানোর কথা বলা হয় তখন তারা শিক্ষকদের ভোলনটিয়ার বলে দাবি করেন। তারা মাঝে মাঝে স্কুলে এসে এত বেতন পাচ্ছ তোমরা কোন অজুহাত দেখাবেনা চাকরি চলে যাবে। সারা দিন কষ্টের পর তাদের কাছে শিক্ষকের কোন দাম নেই। গত ২০১৯ জানুয়ারীতে বেতন বাড়লে সবার বাড়বে। কিন্তু মিথ‌্যা আশ্বাস কেন দিল তারা। আমরা শিক্ষকেরা এত অসহায় কেন? কারণ আমরা শিক্ষক তাই? তবু গর্বিত কারণ আমরা শিক্ষক।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে রোহিঙ্গা ক‌্যাম্পে শিক্ষন কেন্দ্রে প্রতিটি রোহিঙ্গা শিক্ষকদের বেতন হচ্ছে ১১ হাজার টাকা।অথচ তারা ক‌্যাম্পে বসবাস করে বিনা খরছে সন্তোষ জনক বেতন পাচ্ছে। অথচ স্থানীয় বাংলাদেশীরা বেতন বৈষম‌্যের শিকার হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর দেওয়া অতিব জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ,উখিয়ার নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের মহাসচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক গফুর মিয়া চৌধুরী।