রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি,উত্তেজনা

0
19
কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।
কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ি ডাকাত গ্রুপের সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করেছে। তবে এসময় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে টেকনাফের জাদিমুড়া শালবাগান নছিরউল জামান ক্যাম্পে পুলিশ ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা গুলি ছোড়ে। এতে ক্যাম্পে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন টেকনাফের নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মনির। তিনি জানান, মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে টেকনাফের শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি জায়গায় শীর্ষ ডাকাত জকির ও সেলিমের গ্রুপের সদস্যরা অবস্থান করছে খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। এসময় ডাকাতদের ধাওয়া করলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি বর্ষণ করে পাহাড়ি অঞ্চলে ঢুকে পরে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ওপর নজর রাখেন এমন একাধিক দায়িত্বশীল পদস্থ কর্মকর্তা জানান, টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ডাকাত দলের যারা সক্রিয় রয়েছে তারা হলো- জাকির ডাকাত, মোহাম্মদ সেলিম, মোহাম্মদ কামাল, আমান উল্লাহ, মোহাম্মদ হামিদ, হামিদ মাঝি, খায়রুল আমিন, মাহমুদুল হাসান, হামিদ, নেছার, সাইফুল ওরফে ডিবি সাইফুল, রাজ্জাক, বুল ওরফে বুইল্লা, রফিক, মাহনুর ওরফে ছোট নুর। তারা একাধিক দলে ভাগ হয়ে নানা অপরাধ করছে। তাদের মূল নেতা হিসেবে রয়েছে আবদুল হাকিম। এখন নিজেদের মধ্যে কোন্দলে ক্যাম্প এলাকায় গোলাগুলির ঘটনা বাড়ছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একাধিক মাঝি জানান, দিনে-দুপুরে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা পুলিশকে ভয়ে দেখানোর জন্য গুলি বর্ষণ করেছে। প্রায় ৩০-৪০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গত রাতেও পাহাড়ি দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন মারা যাওয়া খবর ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ রোহিঙ্গারা খুব ভয়ের মধ্যে রয়েছে।
টেকনাফ শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি সৈয়দুল আমিন বলেন, ‘ক্যাম্পে গোলাগুলি নতুন কোনও ঘটনা নয়। প্রায় সময়ই সেখানে দিন-রাতে গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে। এই ক্যাম্পটি পাহাড়ি এলাকায় হওয়ায় কিছু পাহাড়ি ডাকাত এসব কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। গতকাল রাতে গোলাগুলি ঘটনায় একজন মারা যাওয়ার খবরে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যরা সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। কিন্তু কোনও মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। তবে ক্যাম্প ঘিরে সবার মুখে গোলাগুলিতে এক ব্যাক্তি মারা যাওয়ার খবর।
র‌্যাব-১৫, সিপিসি-১ টেকনাফ ক্যাম্প ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহাতাব বলেন, ‘গোলাগুলির খবর পেয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকায় কাউকে কোনও ধরনের অপরাধে জড়াতে দেওয়া হবে না। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে ডাকাত গ্রুপসহ অন্যান্য যেসব অপরাধ চক্র সক্রিয় রয়েছে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। কয়েকজনকে বিভিন্ন সময় গ্রেফতারও করা হয়েছে। অন্যরা শিগগিরই ধরা পড়বে।