লেবু চাষ করে দিন বদল

0
79

কাগজি লেবু চাষ করে দিন বদল করেছেন ইছহাক আলী। তিনি তার আবাদ করা বাগানের কাগজি লেবু বিক্রি করে প্রতি বছর ১০ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। লেবু চাষে তার সাফল্যে এলাকার অনেকে লেবু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তার বাগানের উৎপাদিত লেবু রাজধানী ঢাকা ও ফরিদপুর যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে মাদারীপুর, বরিশাল, খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে। মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের ইছহাক আলী এক সময় ঘোড়ার গাড়িতে করে সবজি ব্যবসা করতেন। পরে মেহেরপুর থেকে ট্রাক ভর্তি করে ঢাকার বাজারে সবজি নিতেন। সেখানে তিনি ভালো দামে কাগজি লেবু বিক্রি হতে দেখে লেবু চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন। বাড়ি ফিরে সিদ্ধান্ত নেন কাগজি লেবু চাষ করার।
মিষ্টি লেবু২
ইছহাক আলী জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন বছর আগে পার্শ্ববর্তী রঘুনাথপুর মাঠে নিজের তিন বিঘা জমিতে কাগজি লেবু চাষ করেন। তিনি সদর উপজেলার কোলা গ্রামের রজব নার্সারি থেকে চারা কিনেছিলেন। গত বছর তিনি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেন। লেবু চাষের শুরু থেকে গত বছর পর্যন্ত তার ওই তিন বিঘা জমিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ৫০ হাজার টাকা। ভালো লাভ পাওয়ায় গত বছরই তিনি জমি লিজ নিয়ে আরও সাড়ে ৯ বিঘা জমিতে লেবু চাষ করেছেন। তিনি কাগজি লেবুর পাশাপাশি হাইব্রিড জাতের এলাচি লেবুর চাষ করেছেন। এ লেবুর চারা সংগ্রহ করেছেন সিলেট জেলার শ্রীমঙ্গল থেকে। জমিতে সেচ, সার, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ ৩ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার।

চলতি বছরে তার গাছে প্রচুর লেবু এসেছে। এক বছরের গাছ আকারে ছোট হলেও এ বছর ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, একবার চাষ করলে ১০ থেকে ১২ বছর লেবু পাওয়া যাবে। খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বছরে ওই বাগান থেকে ১০ লাখ টাকা লাভ করবেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি আরও জানান, বর্তমানে প্রতিশ’ লেবু ৫০০ টাকা হিসেবে ব্যবসায়ীরা তার বাগান থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

ইছহাক আলীর ছেলে লাবলু হোসেন জানান, বাবার কাজে তিনি সহযোগিতা করেন। দিনের অধিকাংশ সময় তিনি লেবু বাগানে থাকেন ও বাগান পরিচর্যা করেন। প্রতিটি গাছে পর্যাপ্ত লেবু এসেছে। লেবু বিক্রি শুরু হয়েছে। বিক্রি চলবে আশ্বিন মাস পর্যন্ত। লেবু চাষ করে তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে। এরই মধ্যে মোটরসাইকেল কিনেছেন। পাকা বাড়ি তৈরির কাজও চলছে তাদের। তাদের বাগানের লেবুর চাহিদা মেহেরপুরের বাজারে যথেষ্ট রয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাও সরবরাহ হচ্ছে।

প্রতিবেশি যুবক পাতারুল ইসলাম জানালেন, ইছহাক আলীর লেবু চাষে সাফল্যে এলাকার অনেকে লেবু চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তিনি সামনের বছরে তিন বিঘা জমিতে কাগজি লেবুর চাষ করবেন। এরই মধ্যে পিরোজপুর গ্রামের সামছুল হক দুই বিঘা, ইমাদুল হক এক বিঘা ও রবিউল ইসলাম তিন বিঘা জমিতে লেবু চাষ করেছেন। তবে এলাকার অনেক চাষি বললেন, লেবু, কলা, পেয়ারা, পেঁপেসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও সবজি চাষে সফলতা পেলে চাঁদাবাজদের টার্গেটে পড়তে হয়। চাষিকে লাখ লাখ টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য হতে হয়, অন্যথায় মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয়।

মেহেরপুর সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খোদাজ্জেল হোসেন জানান, ইছহাক আলীর লেবু চাষের সাফল্য দেখে এলাকার অনেকে লেবু চাষ করতে শুরু করেছেন। তিনি মাঝে মাঝে ইছহাক আলীর লেবুর বাগান পরিদর্শনে যান এবং পরিচর্যা ও ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান, দেশের বেকার যুবকরা ইছহাক আলীর মতো কৃষিতে উদ্যোগ নিয়ে কাজ করলে একদিকে যেমন বেকার সমস্যার সমাধান হতো, অন্যদিকে দেশ হতো অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর।