শরৎ সাজ

0
153

:: হাবীবাহ্ নাসরীন ::

মডেলহালকা নীল রঙের আকাশ তারই মাঝখানে তুলোর মতো সাদা সাদা মেঘের ওড়াউড়ি। ভোরবেলায় বিছানো শিউলি ফুলের চাদর, নদীর ধারে ঝিরিঝিরি বাতাসে কাশফুলের মাথা দোলানো, প্রকৃতির এমন রূপ দেখে বোঝা যায় শরৎ এসেছে। আর শরতের এ সময় আপনার সাজ-পোশাক কেমন হওয়া উচিত তারই বর্ণনা এখানে।

ভোরের দিকটায় হালকা শীত শীত আবার বেলা বাড়লে রোদের প্রতাপ। তারই মাঝে আবার হঠাৎ করে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। শরতের এ হালকা মেজাজের আবহাওয়ায় আপনাকে সাজতে হবে হালকা সাজে। এখন কেমন পোশাক পরবেন সে বিষয়ে ফ্যাশন ডিজাইনার লিপি খন্দকার বলেন, এ সময় যারা শাড়ি পরতে চান তারা বেছে নিন হালকা রঙের শাড়িগুলো। ফিকে নীল শাড়িতে জরিপাড় দেয়া, চাঁপাফুল রঙ, ধানি রঙ, সাদা জমিনে বুটি তোলা জামদানি শাড়ি এবং এর সঙ্গে ম্যাচিং বস্নাউজ। বস্নাউজের হাতা থ্রি কোয়ার্টার হলে ভালো মানাবে।

যারা সালোয়ার-কামিজ পরবেন তারাও এরকম হালকা রঙগুলোই বেছে নিতে পারেন। একেক ঋতুতে একেক রঙের পোশাকের প্রাধান্য থাকে। শরৎকালের নীল রঙ তো রয়েছেই, এছাড়া দিনের বেলা সাদা, অফহোয়াইট, স্কাই, বস্নু, পেস্ট কালারসহ অন্য উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরলে দারুণ লাগবে। তবে রাতের পার্টিতে যে কোনো রঙের পোশাক পরা যেতে পারে। তবে সালোয়ার-কামিজ যথাসম্ভব সুতি হলে ভালো হবে।

কেমন হবে এ সময়ের সাজ? রূপ বিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভিন জানান, এখন যেহেতু বাইরে রোদ-বৃষ্টির খেলা, তাই সাজের ক্ষেত্রে উপকরণটি অবশ্যই যেন পানিরোধক হয়। এ সময়ে দিনের বেলা আপনার গাঢ় সাজ যেমন মানানসই নয়, তেমনি অন্যদের চোখেও তা দৃষ্টিকটু লাগে। এ সময়ের সাজে সব মিলিয়ে সি্নগ্ধ ভাব থাকা চাই। তাই হালকা মেকআপই ভালো। দিনের বেলায় ফাউন্ডেশন না লাগিয়ে হালকা কোনো ফেস পাউডার লাগিয়ে দেখতে পারেন। এতে ত্বক অনেক বেশি মসৃণ ও সুন্দর দেখাবে।

যদি আপনি ফাউন্ডেশন ব্যবহার করতে চান তবে ম্যাটিফায়িং ফাউন্ডেশন লাগান। এতে ত্বক কম ঘামবে ও কম তৈলাক্ত হবে। এর উপরে প্রয়োজনে পাউডার ব্যবহার করতে পারেন। বিশেষ করে মুখের যেখানে সাধারণত বেশি ঘাম হয়। এবার পোশাকের সঙ্গে মেকআপে মিল রেখে লাইট-ব্রাউন কালারের আইশ্যাডো লাগিয়ে নিলে অনেক বেশি ন্যাচারাল দেখাবে। তবে রাতের বেলায় একটু গাঢ় করেই চোখটা সাজাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে মেরুন, কফি, সবুজ, নীলচে শ্যাডগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

এ সময় অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ মাশকারা এবং পেন্সিল আইলাইনার ব্যবহার করুন। দিনের সাজে চোখের নিচের পাতায় আইলাইনার অথবা মাশকারা না লাগানোই ভালো। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে পারেন রঙিন কাজল। নীল, সবুজ, গোলাপি, লাল কাজলের রেখা টেনে নিতে পারেন চোখের কোণে। যারা রঙটা একটু বেশি পছন্দ করেন, তারা পোশাকের রঙের বিপরীত রঙটিও বেছে নিতে পারেন। এটি চোখের কাজল, শ্যাডো, লিপস্টিক সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

দিনের বেলা ব্রাশ-অন এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন। পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে কপালে টিপ দিতে পারেন। দিনের বেলায় ঠোঁটে পিঙ্ক, ব্রাউনসহ অন্যান্য রঙের লিপজেল লাগালে ভালো লাগবে। রাতে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে একটু উজ্জ্বল রঙ যেমন রেড, অরেঞ্জ, রানী গোলাপি লিপস্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে। চুলের ক্ষেত্রে হাতখোঁপা, ফেঞ্চনট করলে ভালো মানিয়ে যায়। চুলের সাজে জমকালো কোনো স্টাইল বেছে না নেয়াই ভালো। কারণ, হালকা পোশাকের সঙ্গে জমকালো চুলের স্টাইল মানানসই নয়।

টিনএজাররা চুলগুলো একটু টেনে পনিটেল করলে ভালো লাগবে। এছাড়া চুলে গুঁজে দেয়া যেতে পারে যে কোনো ফুল। শরতের হালকা সাজ প্রসাধনের সঙ্গে গহনা হিসেবে বেছে নিন হালকা কোনো গহনা। সোনা, রুপা, মুক্তা, অঙ্ডিাইজ, মেটাল, কাচ, মাটি, পুঁতি, কাঠ কিংবা যে কোনো রকমেরই হোক না কেন হাতে প্লেন বালা, গলায় লকেট, কানে দুটো হালকা গহনা কিংবা পাথর বসানো টব অথবা মুক্তা বসানো দুল পরলেই সুন্দর লাগবে।

উচ্চতা যাদের বেশি তারা পরবেন নিচু স্যান্ডেল বা সিস্নপার। আর উচ্চতা কম হলে অবশ্যই হিলওয়ালা জুতা পরবেন। জুতার বেলায়ও লক্ষ্য রাখবেন তা যেন জমকালো পুঁতি অথবা জরি বসানো না হয়। এ শরতে হালকা সাজেই আপনি হয়ে উঠবেন পরিপাটি।