শিক্ষাবিদ-শিশুসাহিত্যিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ড.সৌরভ শাখাওয়াত

0
70


প্রফেসর হাসিনা জাকারিয়া বেলা

একজন প্রানবন্ড, উদ্যোগ আর অবিরাম স্বপ্ন জাগানিয়া শিক্ষাবিদ, শিশু সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ও নাট্য ব্যক্তিত্ব ড. সৌরভ শাখাওয়াত পুরো নাম শাখাওয়াত উল্লাহ চৌধুরী, ১৯৭১ সনের ১লা জানুয়ারী জন্মেছেন চট্টগ্রাম জেলার সন্ধীপ উপজেলার দীঘাপাড় গ্রামে।

শিক্ষাজীবনে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ হতে (১৯৮৬) সনে এস.এস.সি. ও ১৯৮৮ সনে এইচ এস সি পাশ করে লোক প্রশাস বিভাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে অনার্স, মাস্টার্স, ২০০৮ সনে সমাজ বিজ্ঞানে পি.এইচ.ডি. ডিগ্রী লাভ করেন, ২০০৯ সনে লন্ডন ইন্সিটিটিউট হতে পোষ্ট ডক্টরা ডিগ্রী অর্জন করেন । ২০১৪ সনে গবেষণা কমিটি ইন্দোনেশিয়া বাডি লোহর ইউনিভার্সিটি হতে শ্রেষ্ট পুরস্কার লাভ করে ও জার্মানীর ল্যামার্কট প্রকাশন হতে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। পথশিশুদের জন্য নাটকের মাধ্যমে শিক্ষা বিষয়ক স্কুলিং ধারণার প্রবর্তন করেন বর্তমানে সাদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন। সাদার্ন ইউনিভার্সিটি প্রেস হতে প্রকাশিত তার গ্রন্থ ইধহমষধফবংয ঝঃঁফরবং(ঐরংঃড়ৎু, ঈঁষঃঁৎব ্ ঝড়পরবঃু) পাঠক সমাদৃত।

সৌরভ সেই দুর্লভ গুণ আর ক্ষমতার অধিকারী যা চারপাশের বৈরী পরিবেশকে অনায়াসে প্রসন্ন আর সজীব করে তুলতে পারে। চোখে মুখে স্বপ্ন নিয়ে অতিক্রম করেছে দুস্তর পথ। শিশুদের প্রতিভা বিকাশে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছে দীর্ঘদিন ধরে। শিশু মনস্তত্বেও বিচিত্র জগতে বিচরণ করে লিখেছেন বিভিন্ন আঙ্গিকের সৃজনশীল শিশুতোষ ছড়া, কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস ও নাটক। চোখ জুড়ে নীল, লাল স্বপ্নে বিভোর শিশুদের শিশু সাহিত্যের স্বপ্নীল স্বর্গে, মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস লাল পরী, নীল পরী ও একাত্তরের বিচ্ছু, ট্যাংক দানবের হুংকার, পাহাড়পুরের ডাইনী বুড়ী। সৌরভ সেই অক্লান্ত পথের যাত্রী যে বিশ্বাস করে তীর্থ যাত্রায় শিশুদের সঙ্গে নিতে হবে। এ শুদ্ধতার প্রতি অনুরাগ তাকে ক্রমাগত সমৃদ্ধির দিকে আলোকিত পথ দেখায় তার রচনা ও সাংগঠনিক শিল্প চর্চায়। আছে সেই সরল স্বচ্ছতা যাতে নিস্পাপ শিশুমনের স্বপ্ন, আশা ও আকাঙ্খা প্রতিফলিত। যেমন পূর্ণিমার চাঁদের অমল ধবল আলো প্লাবিত রাখে জলাকার। সৌরভের জন্য শুভ কামনা।

১৯৮৫ সনের দৈনিক আজাদীর আগামীদেও আসরে প্রকাশিত হয় তার ছড়া ‘মশা’। ১৯৮৮ সনে ছড়াকার নুর মোহাম্মদ রফিকের অনুপ্রেরণায় মনোনিবেশ করেন এবং প্রথম গল্প টোকলা মামার কান্ড, প্রকাশিত হয় দৈনিক আজাদীর আগামীদের আসরে।

১৯৮৮ সনে ছড়াকার জসীম মেহবুব ও কচি মাসুদ আনোয়ারের সান্নিধ্যে সকাল শিশু সাহিত্য আসরে নিয়মিত যোগ দিয়ে শানিত করেন তার লেখনি। ১৯৯০ সনে প্রকাশিত হয় তার প্রথম ছড়া ও কিশোর কবিতা গ্রন্থ ‘মন থাকেনা ঘরে’ নাট্যজন আসাদুজ্জামান ও নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজীর অনুপ্রেরণায় রচনা করেন অনু নাটক গুড়োবালি, একাত্তরের বিচ্চু, কুসুমপুরের ভূত। হুরওে,উড়াল পাখি, অদ্ভূত ভূত, রূপজগতের মানুষ, কারফিউ, কাকতাড়–য়া, মুক্তির মতো অসাধারণ শিশুনাটক পুরস্কৃত হয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিশু নাট্য উ ৎসব।১৯৯২ সনে প্রকাশিত হয়, ছড়াগ্রন্থ ছু মন্তর ছু, হুল্লোড় ১৯৯৫ সনে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই সম্পাদিত কচি কাঁচা মেলায় মজার ছড়া গাঁয়ে সেদিন প্রকাশিত হলে শিশু সাহিত্য আকাশে নক্ষত্রের মতো আলোর দ্যুতি ছড়ান। ছড়া গ্রন্থ ছু মন্তর ছু (১৯৯২) ও হুল্লোড় (১৯৯৪) প্রথম অভিনয় ও আবৃত্তি শেখা (১৯৯৮)। ১৯৯৩ সনে প্রতিষ্ঠা করেন অভিনয় ও নাটক শেখার সৃজনশীল জগত চিলড্রেন্স থিয়েটার স্কুল ও কিডস্ কালচারাল ইন্সিটিটিউট। ১৯৯১-১৯৯৩ থিয়েটার ওয়ার্কশপ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন পাশাপাশি নাটকে অভিনয় করেন।১৯৯৫ সনে লিয়াকত আলী লাকীর উদ্যেগে বাংলাদেশ শিল্প কলা একাডেমী ঢাকা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম জাতীয় শিশু নাট্য উৎসব। উৎসবে সৌরভ শাখাওয়াত রচিত ‘কুসুমপুরের ভূত নাটকটি দর্শক নন্দিত হওয়ায় প্রধান অতিথি বর্তমান প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনা কর্তৃক অভিজ্ঞানপত্র লাভ করেন এবং নাট্য রচনার নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। রচনা করেন মজার মজার নাটক অদ্ভূত ভূত, ছোবল, জয়ধ্বনি, কারফিউ, রনবুড়ির দেশে , ফুলবানুর বায়োস্কোপ, রূপ জগতের মানুষ, মামদো ভূতের ছানা, হুররে, মুক্তি খোয়াব, ইচ্ছে ঘুড়ি ইত্যাদি। পিপলস্ থিয়েটার এসোসিয়েশন ২০০৬ সনে শ্রেষ্ঠ শিশু নাট্য সংগঠক ও ২০০৯ সনে শিশুনাটকের নাট্যকার পদক অর্জন করেন।

২০১৩ সনে টেলিভিশনে সৃজনশীল শিশুতোষ নাট্য প্রযোজনার জন্য ইউনিসেফ প্রবর্তিত মিনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।