শুভ জন্মদিন জেমস

0
130

শৈশবেই গিটারকে ভালোবেসেছিলেন, সেই নিমগ্ন ভালোবাসা বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে পারিবারিক জীবন থেকে। একই সাথে তাকে ছিটকে পড়তে হয়েছিল শিক্ষাজীবন থেকেও। যদিও সেই গীটারই হয়ে উঠেছে তার জীবনসঙ্গী, আজন্মের আরাধনা। ব্যতিক্রমী গায়কী আর ভিন্নমাত্রার লিরিকের জন্য তুমুল জনপ্রিয় তিনি।

এমন এক গায়কের কথাই বলছি, যাকে দেশের সব শ্রেণির মানুষ আজ পর্যন্ত সমানভাবে পছন্দ করে আসছেন। ক্রমাগত এই জনপ্রিয়তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আরো প্রসারিত হচ্ছে। গানে-সুরে চমক লাগিয়ে বহির্বিশ্বে তিনি বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করে চলেছেন। তার নাম আর গান মানেই উপমহাদেশের তরুণ প্রজন্মের কাছে সুরের মাদকতা।

হ্যাঁ, দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘নগর বাউল’-এর কর্ণধার ও ভোকালিস্ট মাহফুজ আনাম-এর কথাই বলছি। সবার কাছে যিনি ‘জেমস’ নামে পরিচিত। কিংবদন্তি এই রকস্টার শুধুই জেমস নামেই নন, ভক্তদের কাছে তিনি ‘গুরু’ নামেও পরিচিত।

আজ ২ অক্টোবর ৫৬ বছরে পা রাখলেন সঙ্গীতের এই নন্দিত তারকা। ১৯৬৪ সালের এই দিনে পৃথিবীতে এসেছিলেন তিনি। জন্ম নওগাঁয় হলেও সেখানে কৈশোর কাটিয়ে চট্টগ্রামের আজিজ বোর্ডিং-এ ঠাঁই হয় তার। বন্ধুদের নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ব্যান্ড ‘ফিলিংস’।

১৯৮৭ সালে ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম অ্যালবাম ‘স্টেশন রোড’ প্রকাশ হয়। ১৯৮৮ সালে আসে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘অনন্যা’। পরবর্তীতে ‘ফিলিংস’-এর নাম পরিবর্তন করে দেন ‘নগর বাউল’। সেই নগর বাউল থেকেই জেমস বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতে সৃষ্টি করেছেন ইতিহাস। জন্ম দিয়েছেন বহু জনপ্রিয় গান।

তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে- ‘পদ্ম পাতার জল’, ‘বাংলাদেশ’, আমি তারায় তারায় রটিয়ে দেবো’, বাবা’, লিখতে পারি না’, ফুল নেবে না অশ্রূ নেবে বন্ধু’, ‘তুমি জানলে না’, ‘যদি কখনো ভুল হয়ে যায়’, ‘বিবাগী’, ‘আরও কিছুক্ষণ কি রবে বন্ধু’, ‘লেইস ফিতা লেইস’, ‘এই গানই শেষ গান’, ‘ফেরারী’, ‘একা’ অন্যতম।

জেমস-এর ব্যান্ড ও একক অ্যালবামের মধ্যে আরো রয়েছে- লেইস ফিতা লেইস, নগর বাউল, দুষ্টু ছেলের দল, পালাবে কোথায়, দুঃখিনী দুঃখ করো না, আমি তোমাদেরই লোক ও কাল যমুনা। এছাড়া বাংলাদেশি সিনেমায় তার গান বেশ জনপ্রিয়। বলিউডের বেশ কয়েকটি সিনেমায় গান করেছেন জেমস। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অনেক স্বীকৃতি।

জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশের ব্যান্ড সঙ্গীতের এই বরপুত্রকে নিউজজি২৪ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা-অভিনন্দন।