শুভ জন্মদিন রিয়াজ হায়দার চৌধুরী

0
60

বয়স ও মুখাবয়ব সবুজ তারুণ্যের হলেও পদের ওজনটা তাঁর বেশ ভারী। প্রতিবন্ধকতা তাঁকে দিয়েছে অধিক সাফল্যে। তিনি বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজের জাতীয় শীর্ষস্থানীয় নেতা। তিনি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান রিয়াজ একাধারে পেশাজীবী নাগরিক সংগঠক সাংবাদিকদের পরীক্ষিত নেতা, রাজপথের চেনা মুখ। সেরা সংগঠক হিসেবে রিয়াজ হায়দার চৌধুরী এবছর চসিকের ‘মুজিববর্ষ অমর একুশে পদক-২০২০’ লাভ করেন। টেলিভিশন টকশো’তে চট্টগ্রাম থেকেই জনপ্রিয় আলোচক তিনি। নিজে নিয়মিত টকশো সঞ্চালনা করে তৈরি করেন নিজস্ব ভক্তবলয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য তিনি। এছাড়া প্রগতিশীল পেশাজীবী মোর্চা পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম নাগরিক উদ্যোগের আহবায়ক হিসেবে ব্যাপক সক্রিয়। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এ সংগঠক চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন-সিইউজে’র দফায় দফায় নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের সর্বোচ্চ জাতীয় সংগঠন বিএফইউজে-বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সহ-সভাপতি। সিইউজে’র ইতিহাসে রেকর্ড ভোটে সবচেয়ে কম বয়সে নির্বাচিত সভাপতি (২০১৬-২০১৮) তিনি। এছাড়া সংগঠনটির দফায় দফায় সাধারণ সম্পাদক (২০০২-২০০৩,২০০৩-২০০৪) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক (২০০৬-২০০৮,২০১২-২০১৪) ও নির্বাচিত হন। প্রায় ৬০ বছরের পুরনো এই সংগঠনের ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে ২০১২ সালে দুশতাধিক দেশের প্রতিনিধিত্বে ইরানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ন্যাম সম্মেলনে অংশ নেন। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল পরিচালনা কমিটি, কমিউনিটি পুলিশিং চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)’র নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিষয়ক নাগরিক পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং চসিকের উদ্যোগে চট্টগ্রামের প্রথম সর্বজনীন অমর একুশে বইমেলা ২০১৯, মুজিব বর্ষ চট্টগ্রাম ও অমর একুশে বইমেলা ২০২০ এর উপদেষ্টা, চট্টগ্রামের সর্বজনীন মুজিব জন্মশতবর্ষ উদযাপন পরিষদের কো-চেয়ারম্যান তিনি। তিনি দুইবার জাপান সফরসহ পেশাগত ও সাংগঠনিক সফর করেন জার্মানি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ন্যাদারল্যান্ডস, ইরান, তুরস্ক, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া ও ভারতসহ ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন রাষ্ট্র। একাধিক গ্রন্থ প্রণেতা এই অনুসন্ধিৎসু সাংবাদিক বহু রাজনৈতিক প্রতিবেদনের জন্য আলোচিত। শুধু রিপোর্টিং নয় প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও কাব্য প্রচেষ্টায়ও তিনি সমধিক পরিচিত। ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ঘুরে রাজনীতি ও পর্যটন নিয়েও দারুণ লিখেছেন। সাংবাদিক প্রশিক্ষণ কোর্সে প্রশিক্ষক হিসেবেও সমাদৃত এই সাংবাদিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, মালয়েশিয়ার ট্যুরিজম বোর্ডসহ দেশ-বিদেশে বিভিন্ন সনদ স্বীকৃতি লাভ করেন। গণমাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় সফলতার সাথে সক্রিয় এ সংগঠক বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের প্রিয় মুখ। বন্দর নগরে চট্টগ্রামে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শৈশব থেকেই বেড়ে উঠেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাশ্রিত পরিবেশে। প্রতিবাদি এই সংগঠক রাজপথেই কাটিয়েছেন কৈশোর ও তারুণ্যের সোনা ঝরা দিনগুলো। রাত জেগে চিকা মারেন, পোস্টার-দেয়ালিকায় কাটিয়েছেন বহু বিনিদ্র রজনী। স্কুল ছাত্রলীগ থেকেই রাজনীতি সংশ্লিষ্টতা। কৈশোরে শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ, মুজিব সেনা, মুক্তিযোদ্ধা ছাত্রকমান্ড, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘আমরা পলাশ’ ও ‘ত্রিতরঙ্গে’ সম্পৃক্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম শহরের দক্ষিণ বাকলিয়ায় কিশোরকালেই প্রতিষ্ঠা করেন ‘বঙ্গ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’। বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বহুল প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের বিশেষ প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান তিনি। এর আগে দৈনিক পূর্বকোণের রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন প্রায় এক যুগ। এছাড়াও একুশে টেলিভিশন, যমুনা টেলিভিশন, NEWS24, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন্দ্রিক বাংলা স্যাটেলাইট টেলিভিশন Stvus, দৈনিক রূপালী, দৈনিক বাংলাদেশের স্বাধীনতায়ও কাজ করেন। সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আর প্রগতির ব্যানারে ছদ্মবেশে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠীর হামলা-মামলার টার্গেট যেন এই তরুণ সাংবাদিক। শৈশব ও কৈশোরে আবৃত্তি চর্চায় যুক্ত রিয়াজ বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রথম শ্রেণীর অনুষ্ঠান সঞ্চালক তিনি। কেন্দ্রটি চালুর আন্দোলনেও সক্রিয় ছিলেন। কেন্দ্রটি চালু হলে সেখানে একুশের প্রথম কবিতার প্রথম একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন। ১৯৯৫ সালেই তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় দেশ চেতনার কাগজ ‘বঙ্গজ’।সংবাদত্রসেবী ঐক্য পরিষদের সচিব (২০০৬-২০০৮ খৃ.) ছিলেন তিনি। এছাড়া জাতীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন চাঁদের হাট, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, পূর্বাশার আলো, পরিবর্তনসহ বিভিন্ন সংগঠনের উপদেষ্টা তিনি। গত দুই যুগেরও বেশি সময়ে রাজনীতি-সংস্কৃতির মাঠে সক্রিয়। ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিলে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সচিব, একুশ মেলার সমন্বয়কারি, যুগ্ম মহাসচিব, মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের যথাক্রমে র‌্যালি কমিটির সদস্য, মিডিয়া কমিটির সদস্য সচিব ও ও ত্রিতরঙ্গ আবৃত্তি দলের সদস্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব, চট্টগ্রাম সাংবাদিক কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি, মা- শিশু ও জেনারেল হাসপাতালের স্থায়ী সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত। তাঁর ‘ইউরোপের পথে পথে’ শীর্ষক প্রতিবেদন দেশের সবচে বেশি প্রচারিত কাগজ ‘বাংলাদেশ প্রতিদিনে’ ধারাবাহিক প্রকাশ হলে পাঠক মহলে ব্যাপক সমাদৃত হয়।

মুক্ত চিন্তা অনুশীলন এর মধ্যে সত্যের যাত্রী রিয়াজ হায়দার। আজ সদা হাস্যেজ্বল, মিষ্টভাষী রিয়াজ হায়দারের জন্মদিন। সাহসী এবং সংবেদনশীল সুন্দর মনের ভাল ও সৎ মানুষের উজ্বল উদাহারণ তিনি। রিয়াজ হায়দার চৌধুরীর পিতা বিশিষ্ট ব্যাংকার মরহুম সামসুল হক। তিনি চট্টগ্রামের দরফ চৌধুরী বাড়ির এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে ২০ মার্চ জন্ম গ্রহন করেন।বনেদি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান রিয়াজের পিতার চাকরিসূত্রে অবস্থানের কারণে জন্ম ঢাকায় হলেও চট্টগ্রামেই তাঁর বেড়ে ওঠা। তাঁর পিতামহ মরহুম ওবায়দুল হক চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতের প্রথমে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ও পরবর্তীতে জওহরলাল নেহ্‌রুর বিশ্বস্ত অনুগামী ভারতের প্রধানমন্ত্রী- কংগ্রেস দলনেতা লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর প্রমোদতরীর ক্যাপ্টেন। দায়িত্বরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করলে কলকাতার ইকবালপুরের সামরিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। রিয়াজের অপর পিতামহ অবিভক্ত ভারত ও পাকিস্তানের সেনা ও বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। তধ্মধ্যে ছোটজন পাকিস্তান এয়ারফোর্সে চাকরিরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধশুরর পর্বে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি হয়ে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমলে ‘বন্দিবিনিময় চুক্তি’র আওতায় দেশে ফিরে আসেন। আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কোন পদে না থাকলেও কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচন এবং চট্টগ্রাম মহানগরে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রকাশনা ও গবেষণা এবং সাংগঠনিক গণসংযোগে বিশেষ অবদান রয়েছে এই পেশাজীবী সাংবাদিক নাগরিক সংগঠক রিয়াজের । চট্টগ্রামে তিনি প্রথম সাংবাদিক নেতা যিনি সাংবাদিক সমাজের জন্য বিশেষ অবদান রাখায় বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় গিয়ে তাকে কৃতজ্ঞতা স্মারক তুলে দেন। ২০০৬ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশের প্রেসক্লাব গুলোতে যখন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ছবি টানানো হতো না, তখনই দুঃসাহসী রিয়াজ হায়দার চৌধুরী চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অভ্যন্তরে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে নিজের চেয়ারে বসার আগেই জাতির পিতার ছবি টাঙান।

এ দিনে আমাদের সবার প্রিয় রিয়াজ হায়দার চৌধুরীকে চট্টগ্রামের প্রথম ২৪ ঘন্টার অনলাইন পত্রিকা “নিউজচিটাগাং” পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।