শুভ জন্মদিন হুমায়ূন আহমেদ

0
104

শুভ জন্মদিন প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ

গেলো কয়েকদিন আগেও আকাশে ছিল কার্তিকের হিম চাঁদ। এ চাঁদ বড্ড প্রিয় ছিল হুমায়ূন আহমেদের। তখনকার চাঁদ দেখতে ইট-পাথরের ঢাকা ছেড়ে চলে যেতেন নুহাশপল্লীর লিচুতলায়। সেখানেই এখন তিনি চিরশায়িত আছেন। আর সেখানকার শুধু লিচুতলা নয়, গাছপালা-লতাপাতা, মাটির গন্ধও তাকে জানায় প্রথম শুভেচ্ছা।

বিদায়েও তোমায় নমিঃ
(১৩ নভেম্বর জন্মতিথিতে উৎসর্গঃ প্রয়াত কথা-সাহিত্যক হুমায়ুন আহম্মেদ স্যার কে)

হলুদ পাঞ্জাবী…
কল্পনায় কতবার পরেছি জানি না,
আবেগে বেঁধেছো,বাধ্য করনি
হেঁটেছি নগ্ন পায়ে,
পাদুকা জোড়া পরা হয়নি।

তুমি নেই তাই—
পড়া হবে না নতুন কোন
মিসির আলী কিংবা বোতল ভুতের কাহিনী,
সৃস্টি হবেনা আর কোন বাকের ভাই কিংবা
নতুন গদ্যের সঞ্জিবনী।

তুমি নেই তাই—
কল্পনার মিঠা স্রোতে
ভেসে বেড়াবোনা আমি আর,পড়বোনা-
সায়েন্স ফিকশন কিংবা নন্দিত নরকে,
গাইবো না গান ওই চাঁদনি পসর রাতে।

ওগো কথার কারিগর—
ভেবো না এ আমার অভিমান
এ আমার ভালবাসার পুস্পাঞ্জলী,
মনের কোণে যতনে রেখেছি তাই
বিদায়েও তোমায় নমিঃ।

ওগো কথাসাহিত্য সম্রাট—
আজি এ জন্মতিথিতে
গাই পুণ্যতার জয়গান,
জানি প্রিয় আসবেনা ফিরে
ভরবেনা মনপ্রাণ।

ওগো হিমাদ্রি শেখর—
হলুদ পাঞ্জাবী পরে নগ্ন পায়ে
চলো যাই দূর বহুদূর,
হাতে হাত রেখে,জন্মতিথিতে
গড়ি স্মৃতি সুমধুর। -নীলকন্ঠ জয়

১৯৭২ সালে নন্দিত নরকে উপন্যাস দিয়েই হুমায়ূন আহমেদ কথাসাহিত্যে পালাবদলের তাৎর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এরপর একের পর এক উপন্যাসে পাঠকের কাছে নন্দিত হয়ে উঠেছেন অভূতপূর্ব জনপ্রিয়তা নিয়ে। আমৃত্যু সেই জনপ্রিয়তার স্রোতে ভাটার টান পড়েনি।

দেশসেরা এই কথাসাহিত্যিকের জন্ম নেত্রকোনার কুতুবপুরে, ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর। বাবা ফয়জুর রহমান আহমেদ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে শহীদ হন। মায়ের নাম আয়েশা ফয়েজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র হুমায়ূন আহমেদ পাঠ শেষে ওই বিভাগেই প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। একপর্যায়ে তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে লেখালেখি, নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণে যুক্ত হন।

হুমায়ূন আহমেদ একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে, একুশে পদক (১৯৯৪), বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), মাইকেল মধুসূধন দত্ত পুরস্কার (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) ইত্যাদি। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের ‘এনএইচকে’ টেলিভিশন তাকে নিয়ে ‘হু ইস হু ইন এশিয়া’ শিরোনামে পনের মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করে। তিনি কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে গত ১৯ জুলাই নিউইয়র্কে মারা যান।