শোবার ঘরের সাজ

0
51

ঘর সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে কে না পছন্দ করেন? সারা দিনের ব্যস্ততা আর দৌড়ঝাঁপের পর ক্লান্ত মন আর পরিশ্রান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে একটা সাজানো-গোছানো ঘর দেখলে কিছুটা হলেও মনটা সতেজ হয়ে ওঠে। বাড়ির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ শোবার ঘরটিকে সাজাতে পারেন অনেক সুন্দরভাবে। এ ব্যাপারে পরামর্শ দিচ্ছেন শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলোজির আর্কিটেক্ট ডিপার্টমেন্টের লেকচারার আবিদ আবান অভিক।
স্বল্প পরিসরে হলেও আপনার শোবার ঘরটিকে অল্পতেই অনেক সুন্দর করে সাজানো সম্ভব। বর্তমান ধারা অনুযায়ী শোবার ঘরগুলো হয়ে থাকে ১০ ফিট বাই ১১ ফিট। কিংবা ১১ কিট বাই ১২; তবে সবচেয়ে বড় আকারের শোবার ঘরগুলো হয়ে থাকে ১১ ফিট বাই ১৪ ফিট। খুব সুন্দর করে সাজাতে চাইলে আপনার শোবার ঘরটি হতে হবে ১৪ ফিট বাই ১৬ ফিট। এরূপ আকারের ঘরগুলো আপনি মনের মতো সাজাতে পারবেন। তবে ছোট আকারের ঘরগুলোও খুব অল্প কিছু আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে তুলা যায়। শোবার ঘর সাজাতে কেবল ঘরের আকারের ওপর সব নির্ভর করে না। ঘরটিতে আপনি কী কী আসবাবপত্র ব্যবহার করবেন তার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে।

শোবার ঘরে মূলত থাকে খাট, ওয়াল টেলিভিশন, ওয়ারড্রব, ড্রেসিং টেবিল, জানালার পাশে টি-টেবিল বা কফি টেবিল এবং শোপিস সাজানোর জন্য শোপিস স্ট্যান্ড, ঘরে লাগানো যায় এমন গাছ ইত্যাদি। তবে ইদানীং ছোট রুমগুলোতে জায়গা বাঁচানোর জন্য এটাচ ওয়ারড্রব বা ওয়াল মাউন্টেন কেবিনেট দিয়ে ঘর সাজানো হচ্ছে। অপরদিকে খাট ছাড়া কোনো শোবার ঘরই পরিপূর্ণ নয়। শোবার ঘর মানেই নানা ম্যাটেরিয়ালে তৈরি খাট। কিন্তু ইচ্ছা করলে আপনি শোবার ঘরে খাটের পরিবর্তে শুধু মেঝেতেও শোবার আয়োজন করতে পারেন। শোবার ঘরে খাটের বদলে ম্যাট্রেস বসিয়ে শোবার আয়োজন করা যেতে পারে খুব সহজে। ম্যাট্রেসের ওপর বিছিয়ে দিতে পারেন নানা রঙের নকশা করা চাদর, তার ওপর ছড়িয়ে রাখতে পারেন ছোট ছোট রঙিন কুশন। সেইসঙ্গে যারা রাত জেগে একটু পড়তে পছন্দ করেন তারা খাটের পাশে একটা ছোট টেবিল রাখতে পারেন এবং পাশে বুক সেলফ রাখতে পারেন। ছোট্ট টেবিলটিতে রাখতে পারেন স্বল্প আলো দেয়ার জন্য ল্যাম্প এবং পানির বোতল।

নব দম্পতিরা শোবার ঘরকে সাজাতে পারে কিছুটা ভিন্নভাবে। সেই ক্ষেত্রে আপনি ব্যবহার করতে পারেন হালকা বেগুনি বা গোলাপি রঙ অথবা নীল, সবুজ। এছাড়া শোবার ঘরের দেয়াল রাঙাতে পারেন হালকা সাদা, ধূসর, নীল, টিয়া ইত্যাদি রঙ দিয়ে। তবে দেয়ালের রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও একটি ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে। আপনি আপনার শোবার ঘরকে আকর্ষণীয় করতে একটা দেয়াল হাইলাইট করেন যে কোনে বিপরীত রঙ দিয়ে।

যেমন হালকা সাদা রঙের দেয়াল এবং সিলিং হলে খাটের মাথা রাখার দিকটা টিয়া, হলুদ কিংবা অন্য রঙ দিয়ে হাইলাইট করতে পারেন। ঘরে ঢুকলেই যেন চোখে পড়ে দেয়ালটি। এতে আপনার রুমে আসবে নতুনত্বের ছোঁয়া। হাইলাইট করা দেয়ালটিতে আপনার ও আপনার জীবনসঙ্গীকে নিয়ে তোলা কোনো ছবি বড় আকারে বাঁধিয়ে রাখতে পারেন। দেয়ালের রঙের সঙ্গে মিশিয়ে সিলিং ফ্যানের রঙটিও আপনাকে নির্বাচন করতে হবে।

এছাড়া পর্দার ক্ষেত্রে হালকা সুতি কাপড়ের পর্দা নির্বাচন করা ভালো, এতে ঘরে বাতাস দ্রুত প্রবেশ করতে পারে। আর রঙ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেয়ালের রঙের সঙ্গে বিছানার চাদর, কুশনের সঙ্গে মানিয়ে পর্দা লাগাতে হবে। এছাড়া আপনি আপনার ঘরের এক কোনে রাখতে পারেন ওয়ারড্রব, শোকেস এবং একটু বেশি জায়গা পেলে জানালার এক পাশে রাখতে পারেন বুক সেলফ এবং অন্যপাশে টি-টেবিল বা কফি টেবিল। অন্যদিকে এসি লাগানোর ক্ষেত্রেও রঙ এবং এসি লাগানোর দেয়াল নির্বাচন উল্লেখ্য।

দেয়ালের সঙ্গে মিলিয়ে এসির রঙ নির্বাচন এবং এসি লাগানোর দেয়ালটি নির্বাচন করতে হলে মাথায় রাখতে হবে যে কোন দেয়ালটি বাইরের দিকে আছে। শোবার ঘরে এছাড়া রাখতে পারেন কার্পেট। গাঢ সবুজ, ধূসর, কালো রঙের কার্পেট উপযোগী আমাদের দেশের প্রকৃতি অনুযায়ী।

এছাড়া ঘরে রাখতে পারেন ছোট ছোট খোপ করা টবে অর্কিড, বনসাই, মানিপ্লান্ট গাছ। এছাড়া ছোট অর্কিড খাটের পাশের টেবিলেও রাখা যেতে পারে। বারিন্দায় মাঝারি সাইজের টবে পাতাবাহার, ছোট ফুলের গাছ কিংবা ঝুলানো টবে অর্কিড রাখা যেতে পারে। এতে করে সবুজ কৃত্রিমতাকে ছাপিয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে আপনি বারান্দায় বসার জন্য রকিং চেয়ার রাখতে পারেন।

নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন আপনার শোবার ঘর। আপনার পছন্দের ছবি, শোপিস, দেয়ালের রঙ দিয়ে সাজিয়ে তুলুন আপনার স্বপ্নের রাজ্য। অল্প পরিসরে হলেও স্বল্প আয়োজন ও সুন্দর পরিকল্পনা দিয়ে তেমনটি করা সম্ভব।