সজারুটি আর বাঁচল না

0
12

খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে মানুষের বর্বর আচরণের মুখোমুখি হওয়া সজারুটি আর বাঁচল না। চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শুক্রবার (০৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে সজারুটি মারা যায়।

চিড়িয়াখানার চিকিৎসক সাহাদাত হোসেন শুভ জানান, আহত সজারুটি চিড়িয়াখানায় আনার পর থেকে কিছুই খায়নি। বলতে গেলে খাওয়ার যে শক্তি প্রয়োজন সেটিও আর অবশিষ্ট ছিল না। আমরা ক্ষতস্থানে ওষুধ দিয়েছি। স্যালাইন দিয়েছি। পানি দিয়েছি। খাবার দিয়েছি। কিন্তু খাবার খায়নি সজারুটি।

ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, সজারুটির শরীরের ৯০ ভাগ কাঁটাই নির্দয়ভাবে টেনে তুলে নিয়েছিল মানুষ। তার কাঁধে এক ইঞ্চি ক্ষত হয়েছে ধারাল অস্ত্রের আঘাতে। পেছনের ডান পা ভেঙে গেছে। নাইলনের রশি বেঁধে টানা হেঁচড়া এবং নির্বিচারে মেরেছে অসচেতন মানুষ। সব মিলে প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে রক্তশূন্যতায় মারা গেছে সজারুটি।
সজারু
সজারুটিকে চিড়িয়াখানার নির্ধারিত স্থানে ‘কবর’ দেওয়া হয়েছে বলে জানান ডা. শুভ।

বৃহস্পতিবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল তিনটার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলা থেকে দুজন রিকশাচালক এসে সজারুটিকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় দিয়ে গেছেন। চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর মো. মঞ্জুর মোর্শেদ ওই দিন বাংলানিউজকে বলেছিলেন, সীতাকুণ্ডের জঙ্গলে এখনও সজারু আছে। আমাদের চিড়িয়াখানায় পাঁচটি সজারু আছে, যার প্রত্যেকটিই সীতাকুণ্ড থেকে ধরে আনা হয়েছে। সীতাকুণ্ডে পাহাড়ের নিচে জমিতে খাবারের সংগ্রহে এসে সেগুলো ধরা পড়ে যায়।

‘আজ যেটি পাওয়া গেছে সেটিও খাবারের খোঁজেই এসেছিল। কিছু দুষ্ট লোক সজারুটিকে ধরে আহত করেছে। এখন যদি সেটিকে বাঁচাতে পারি তাহলে আমাদের চিড়িয়াখানায় ছয়টি সজারু হবে।’ বলেন মঞ্জুর মোর্শেদ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সজারুটিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গলসলিমপুরের বরইতলায় দেখতে পায় স্থানীয় লোকজন।

সজারুটিকে চিড়িয়াখানায় যারা এনেছে তাদের বরাত দিয়ে মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, রশি দিয়ে বেঁধে সজারুটিকে প্রথমে পেটানো হয়েছে। এতে সজারুটির শক্তি কমে এলে তার শরীরের চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি কাঁটা তুলে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যে রশিটি সজারুটির গলায় ফাঁসের মতো করে আটকে যায়। কাঁটা তুলে ফেলায় প্রচুর রক্তক্ষরণ এবং ঘাড়ে ফাঁস লাগার কারণে সজারুটির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে গেছে।

তিনি জানান, ঘটনাটি স্থানীয় একজন সাংবাদিক দেখে আহত সজারুটিকে তাদের কবল থেকে উদ্ধার করে। এরপর দুজন রিকশাচালককে দিয়ে সেটি চিড়িয়াখানায় পাঠান ওই সাংবাদিক।