সবুজের বুকে হলুদের চাদর

0
62

জুমে জুমে ধান কাটার উৎসব আশ্বিন মাস চলছে। সবুজ পাহাড়ে সোনালী রঙের ধান। এসময় পাহাড়ের রঙ বদলায়। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে পাকা ধানের রঙ।
জুমের ধান পাকতে শুরু করায় ধান তা কেটে গোলায় তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন চাষিরা। পাহাড়ি পাড়াগুলোতে চলছে এখন ফসল তোলার কর্মব্যস্ততা। নতুন ধানের গন্ধে পাহাড়ি জনপদগুলোতে তৈরি হয়েছে উৎসবের পরিবেশ। এবার গত মৌসুমের তুলনায় জুমচাষ বেশি হয়েছে, ধানের ফলনও ভালো হয়েছে। এ কারণে কৃষকের মুখেও ফুটেছে হাসি।
জুম চাষিরা জানান, তাঁরা পাহাড়ে আগাছা পরিষ্কার করে এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি ধান, কলা, মরিচ, আদা, বেগুন, শিম, মারফা, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ফসলের বীজ বপণ করেছেন। আগস্ট মাসের মাঝামাঝি অর্থাৎ ভাদ্র মাসে জুমের ধান পাকতে শুরু করে।

জুমের খেতগুলোতে কোথাও ধান কাটা চলছে, কোথাও চলছে কাটার প্রস্তুতি। টিয়া, ঘুঘু, চড়ুই, বন্য শুকর, ইঁদুরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর হাত থেকে ফসল রক্ষা করতে পাহারা দিচ্ছেন চাষিরা।

নতুন ধানে চাষীদের মুখে সুখের হাসি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলছে ধান কাটার কাজ। যাদের বড় জুম তারা দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন। জুমে কাটা ধান জুমেই মাড়াই করে গোলায় তুলছেন কৃষক।
শত বছর ধরে এভাবে শস্য সংগ্রহ করছেন পাহাড়িরা। ধান কাটার এই সময় পাবত্য চট্টগ্রামেরমানুষের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। সারা বছর এই জুমের ধানই বেঁচে থাকার অবলম্বন।
চাষীরা বলেন জুমে কালা কবরক, কোম্পানি, নাইংচাক, মাউমসিং, চামাচামা, মাউমসিং, বদেইয়া, কোম্পানি, কালো বিন্নি, বিন্নি, হরিণ বিনি, গুরি, বরাবিন্নি ও লোবাবিনিসহ প্রায় ২০–২৫ রকমের ধান আবাদ করেছেন তারা। সব জাতের ফলন ভালো হয়েছে। সব বীজই আমাদের নিজস্ব স্থানীয় জাত। এবার প্রায় ৩ কানি (১২০ শতক) পাহাড়ের ৩ আড়ি (৩০ কেজি) বিভিন্ন ধানের জাত রোপণ করেছি। বৃষ্টি ঠিকমত হওয়ায় এবং নিয়মিত আগাছা পরিষ্কার করায় প্রায় ৩০০ আড়ি ধান পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। নিজেদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান স্থানীয় বাজারে বিক্রি করব।’জুমে ধান কাটার কয়েকজন নারী শ্রমিক বলেন, ‘ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে জুমে ধান কাটার কাজ থাকে। ধান কাটা চলবে প্রায় আশ্বিন মাস পর্যন্ত। বছরের এই সময়টাতে সবচেয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রতিদিনই কাজ থাকে। দম নেওয়ার ফুরসত থাকে না। দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা মজুরীতে ধান কাটার কাজ নিয়েছি। নিজেদের জুমে চাষ করেছি। তবে বাড়তি আয়ের জন্য অন্যের জুমেও কাজ করি।’