সাজেক যেতে চাইলে…

0
190

নিউজচিটাগাং স্পেশাল:

পুরোটাই পাহাড়ে মোড়ানো পথ। ভৌগলিক অবস্থান রাঙামাটিতে হলেও যাতায়াতের সহজ পথ খাগড়াছড়ি হয়ে। সাজেক বাংলাদেশের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত রাঙ্গামাটি জেলায় অবস্থিত। সাজেক থেকে ভারতের মিজোরাম মাত্র আট কিলোমিটার দূরে। সাজেকের চারপাশের উঁচু উঁচু পাহাড়গুলো পড়েছে ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই। সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ পিপাসু মানুষদের কাছে যে কয়টি ভ্রমণ গন্তব্য সবচেয়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তার মধ্যে অন্যতম হল রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত সাজেক ভ্যালী। তাই আমরা আপনাদের ভ্রমণের সুবিধার্থে নিয়ে এলাম সাজেক ভ্রমণের বিস্তারিত পোষ্ট।

আমরা বিভিন্ন দেশের গ্রীন ভ্যালী দেখতে যাই কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে ২/৩ ঘন্টা, ঢাকা থেকে মাত্র ৭/৮ ঘণ্টা গাড়ি পথে পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটি জেলার সাজেক ভ্যালী টা আমরা কজনই বা দেখেছি । হাতে দুই দিন সময় নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন এ সৌন্দর্য অবলোকন করার জন্য, যা আপনার সুন্দর একটি স্মৃতি হয়ে কল্পনায় গেঁথে থাকবে । সাজেক রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত । সাজেক হলো বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন । যার আয়তন ৭০২ বর্গমাইল । সাজেক রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত হলেও যাতায়াতে সুবিধার কারণে পর্যটকরা খাগড়াছড়ি জেলা দিয়েই সাজেকে আসা যাওয়া করে । চট্টগ্রাম থেকে শান্তি অথবা রিজার্ভ গাড়িতে খাগড়াছড়ি যাওয়া যায়।  নগরীর অক্সিজেন থেকে টিকেট কেটে শান্তি বাসে চড়তে পারেন ভাড়া ১০০টাকা।  ০১৮১৭৭১৫৫৫২

চট্টগ্রাম – খাগড়াছড়ি

পরিবহনের নাম

ছাড়ার স্থান (চট্টগ্রাম)

ছাড়ার স্থান (খাগড়াছড়ি)

রুট

ভাড়া

সময়

শান্তি পরিবহন অক্সিজেন মোড়চট্টগ্রাম। শান্তি কাউন্টারকলেজ রোড, খাগড়াছড়ি

চট্টগ্রাম

হইতে

খাগড়াছড়ি

১৪০/-

সকাল ৮টাহইতেবিকাল ৪টা
লোকাল পরিবহন অক্সিজেন মোড়চট্টগ্রাম। বাস স্টেশনখাগড়াছড়ি।

চট্টগ্রাম

হইতে

খাগড়াছড়ি

১০০/-

সকাল ৮টাহইতেবিকাল ৫.৩০টা

চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি  BRTC এসি বাস (চট্টগ্রাম) কদমতলীঃ ০১৬৮২৩৮৫১২৫ । খাগড়াছড়িঃ ০১৫৫৭৪০২৫০৭ ।

ঢাকা থেকে খাগড়াছড়ি কিভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে শ্যামলী , হানিফ ,ইকোনো ,এস আলম ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । ভাড়া নিবে ৫২০ টাকা । শান্তি পরিবহনের বাস দীঘিনালা পর্যন্ত যায় । ভাড়া ৫৮০ টাকা । এছাড়া BRTC ও সেন্টমার্টিন্স পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায় ।

 

খাগড়াছড়ি জেলা সদর থেকে সাজেক এর দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার । সাজেকে প্রবেশের আগেই পড়বে সাজেকের প্রথম গ্রাম রুইলুই পাড়া যার উচ্চতা ১৮০০ ফুট । এর প্রবীণ জনগোষ্ঠী লুসাই । এছাড়া পাংকুয়া ও ত্রিপুরারাও বাস করে । ১৮৮৫ সালে এই পাড়া প্রতিষ্ঠিত হয় । এর হেড ম্যান লাল থাংগা লুসাই । রুইলুই পাড়া থেকে অল্প সময়ে পৌঁছে যাবেন সাজেক ।

সাজেকের বিজিবি ক্যাম্প বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্হিত বিজিবি ক্যাম্প । এখানে হেলিপ্যাড আছে । সাজেকের শেষ গ্রাম কংলক পাড়া । এটিও লুসাই জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত পাড়া । এর হেড ম্যান চৌমিংথাই লুসাই । কংলক পাড়া থেকে ভারতের লুসাই পাহাড় দেখা যায় । কংলাক পাড়া সাজেকের সবচেয়ে উচু পাড়া ।

কিভাবে যাবো সাজেক ?
খাগড়াছড়ি থেকে আপনি তিন মাধ্যমে সাজেক পৌছাতে পারবেন । চান্দের গাড়ী,সিএনজি এবং মটরসাইকেলে ।

সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো খাগড়াছড়ি শহর বা দীঘিনালা উপজেলা শহর থেকে জীপগাড়ি (লোকাল নাম চাঁন্দের গাড়ি) রিজার্ভ নিয়ে ঘুরে আসা । ভাড়া নিবে পুরাতন চান্দের গাড়ী ৫০০০-৬০০০ টাকা আর নতুন মাহিন্দ্রাগুলো ৭০০০-৮০০০ টাকা , এই টাকার মধ্যে আপনি যাবেন তারপর রাত কাটাবেন গাড়ী আবার আপনাকে নিয়ে আসবে বুঝা গেছে ব্যাপারটা ? । এক গাড়িতে গাড়ীর সাইজ অনুযায়ী দশ থেকে ১৫ জন বসতে পারবেন ।লোক কম হলে খাগড়াছড়ি শহর থেকে সিএনজি নিয়েও যেতে পারবেন । ভাড়া ৩০০০ টাকার মতো নিবে ।

এছাড়াও মটরসাইকেলে করে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন এক্ষেত্রে আপনাকে প্রথমে খাগড়াছড়ি শহর থেকে দীঘিনালা যেতে হবে তারপর সেখান থেকে মটরসাইকেলে সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন এক মটরসাইকেলে ড্রাইভার সহ তিনজন বসতে পারবেন ভাড়া আসা যাওয়া রিজার্ভ ১০০০-১২০০ টাকা (দামদর করে নিবেন কম বেশি হতে পারে) । । বাসে খাগড়াছড়ি থেকে দীঘিনালা জন প্রতি ৪৫ টাকা নিবে । দীঘিনালা থেকে ১০০০-১২০০ টাকায় মোটর সাইকেল রিজার্ভ নিয়েও সাজেক ঘুরে আসতে পারবেন ।

ভাই থাকার ব্যাপারটা ?

অস্হির হবেন না বলে দিচ্ছি 🙂 সাজেকে আপনি রাতে থাকতে পারবেন এবং আমি আপনাকে পরামর্শ দিচ্ছি থাকুন একটা রাত অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা হবে আপনার ।

সাজেকে থাকার জন্য বেশ কিছু ভালো মানের রিসোর্ট আছে যাতে আপনি নিশ্চিন্তে নিরাপদে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে থাকতে পারবেন । সেরকম কিছু কটেজের রিভিউ দিয়ে দিলাম 🙂

রক প্যারাডাইস : সাজেকের কংলাক পাড়াতে অবস্হিত এ কটেজটি আপনাকে বেস্ট ভিউ দিবে সাজেকে,মনে হবে যেন মেঘের রাজ্যে ভেসে যাচ্ছেন,মুল সাজেক রুন্ময় পাড়ার উপরে এই রক প্যারাডাইস কটেজটি অবস্হিত । এর মালিক বিজু দা অসম্ভব ভালো মানুষ 🙂 বুকিং করতে ফোন করতে পারেন ০১৮৪২৩৮০২৩৪ নাম্বারে ।
মেঘ মাচাং : মেঘ মাচাং সাজেকের বেস্ট একটা কটেজ 🙂 মেঘের রাজ্যে ভেসে যাবার এইতো সুযোগ মেঘ মাচাং এ 🙂 বুকিং দিতে ফোন করতে পারেন ০ ১৮২২-১৬৮৮৭৭  নাম্বারে ।
এছাড়াও আছে নিরিবিলি কটেজ ,লুসাই কটেজ যা থেকে মেঘ এর ভিউ ভালো পাওয়া যায় । এগুলো ছাড়াও আলো রিসোর্ট ,জলরিসোর্ট সহ ছোট খাট আরও অনেক কটেজ ওখানে রয়েছে 🙂 রয়েছে উপজাতিদের ঘর বাড়ী যেখানে থাকাও খাওয়ার ব্যবস্হা রয়েছে ।

এসব কটেজ ছাড়াও ভিআইপি কিছু রিসোর্ট রয়েছে যেমন সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে আছে সাজেক রিসোর্ট যার ভাড়া ১০-১৫ হাজারের মধ্যে । বুকিং নাম্বার : ০১৮৫৯০২৫৬৯৪ ,আছে রুন্ময় রিসোর্ট যার ভাড়া রুম প্রতি ৪৫০০-৫০০০ টাকা ,যোগাযোগ : ০১৮৬২০১১৮৫২
যাবার আগে ফোন দিয়ে বুকিং করে যেতে পারেন কারণ ছুটির দিনগুলোতে ভালো ভালো সবগুলো কটেজ ও রিসোর্ট বুকড করা থাকে 🙂 তবে এগুলো ছাড়াও অনেক কটেজ খালী পাবেন সমস্যা নেই 🙂
যাওয়া হলো থাকার ব্যবস্হাও হলো খাওয়ার ব্যবস্হাওতো দরকার তাইনা ? ওখানে রিসোর্টগুলোতে বললে আপনাকে পছন্দমত রান্না করে দিবে সেক্ষেত্রে প্রতিবেলা প্রতিজন ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে মেনু হিসেবে পাবেন ভাত আলুভর্তা ,মুরগীর মাংশ ইত্যাদি তবে চাইলে রাতে ওরা বারবি কিউ করে দিবে 🙂 যাবার দিন আগে আগে ফোন করে খাবারে কথা বলে রাখবেন তাহলে উনারা খাবারের ব্যবস্হা করে রাখবে 🙂

আর হ্যাঁ ফল পাবেন খুব সস্তায় সেখানে পেঁপে,আনারস,কমলা,কলা এগুলো অনেক সস্তায় পাবেন । পেট আর মন পুরে খেতে ভুলবেন না যেন 🙂

যারা এডভেঞ্চার পছন্দ করেন তারা সাজেক এর অপরুপ সৌন্দর্য্য দেখা ছাড়াও দেখে আসতে পারেন কমলক ঝর্না, সাজেকে এর রুইলুই পাড়া থেকে দুই থেকে আড়াই ঘন্টার ট্রেকিং করে দেখে আসতে পারেন সুন্দর এই ঝর্নাটি, বুনো রাস্তা আর ৮০-৮৫ ডিগ্রি খাড়া পাহাড় বেয়ে নামতে আর উঠতে হবে অনেক খানি তারপর ঝিরিপথ পাবেন, ঝিরিপথ ধরে এগিয়ে আবার উঠতে হবে কিছুটা, এইভাবে আরো কিছুক্ষন ট্রেক করার পর পৌছে যাবেন ঝর্নার কাছে। ঝিরিপথ টিও অসম্ভব সুন্দর, এডভেঞ্চারটি ভালো লাগবে আশা করি। রাস্তাটি বর্ষার সময় খুব পিচ্ছিল থাকে তাই খেয়াল রাখবেন চলার সময়। গাইড রুইলুই পাড়া থেকে ঠিক করে নিবেন, ঝর্নার কথা বললেই হবে, ৩০০-৩৫০ টাকা নিবে।

সাজেক থেকে ফেরার সময় হাজাছড়া ঝর্ণা , দীঘিনালা ঝুলন্ত ব্রিজ ও দীঘিনালা বনবিহার দেখে আসতে পারেন । একদিনে এই সব গুলো দেখতে হলে যত তারাতারি সম্ভব বেড়িয়ে পড়বেন ।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে আপনি ঘুরতে পারবেন রিসং ঝরনা এবং আলুটিলা গুহা । সিএনজি বা বাসেই চলে যেতে পারেন এই দুই স্পটে । চাইলে চান্দের গাড়ীর সাথে এভাবে রিজার্ভ করতে পারেন যে সাজেক থেকে ফেরার দিন খাগড়াছড়ি আলুটিলা রিসং ঝরনা ঝুলন্ত ব্রীজ এগুলো ঘুরিয়ে দেখাতে হবে সেক্ষেত্রে গাড়ীর রিজার্ভ খরচ এক থেকে দেড় হাজার টাকা বৃদ্ধি পেতে পারে 🙂

 

কোথায় থাকবেনঃ খাগড়াছড়িতে থাকার খুব একটা প্রয়োজন হয়না তারপরও খাগড়াছড়ি রাতে থাকতে শহরেই অনেক হোটেল পাবেন 🙂

এখন আসুন খাগড়াছড়ির ভিন্ন একরুপে যাই 🙂 খাগড়াছড়িতে রিসং ঝরনা ,আলুটিলা ,হাজাছড়া ঝরনা আর সাজেক এগুলো ছাড়াও আপনি অসাধারণ কিছু ঝরণা দেখতে পারবেন সেগুলো হলো সিজুক ১,সিজুক ২,তৈদুছড়া ১,তৈদুছড়া ২ ।

চারটার মাঝে সিজুক ১,২ এই দুইটা ঝরনা একদিকে আর তৈদুছড়ার দুইটা আরেকদিকে । তবে অবশ্যই অবশ্যই সিজুকের ঝরনাগুলোই সবচয়ে সুন্দর ঝরনা ।সিজুক ১ এবং দুই ঝরনাতে বর্তমানে নিরাপত্তার কারণে যাওয়া যায়না ,সেনাবাহিনীর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে

সিজুক বা তৈদুছড়ার ঝরনাগুলো দেখতে আপনাকে প্রথমেই দিঘীনালা যেতে হবে সেখান থেকে গাইড নিয়ে তারপর ঝরনাগুলোতে যেতে হবে । চাঁন্দের গাড়ীর প্রয়োজন হতে পারে সেই গাড়ী আপনাকে সাজেক যাবার দিকের রাস্তার দিকে নিয়ে যাবে তারপর এক জায়গায় নামিয়ে দিবে সেখান থেকে আপানকে ট্রেকিং করে ঝরনাতে যেতে হবে ,প্রায় এক দেড় ঘন্টা লাগতে পারে সিজুক ১ ঝরনাতে পৌছাতে সেখান থেকে আধাঘন্টার মতো ট্রেক করলেই পেয়ে যাবেন সিজুক ২ ঝরনাটি । তারপর আবার গাড়ীর কাছে ফিরে এসে আপনাদের প্লানমতো হয়তো সাজেকে চলে যেতে পারেন অথবা দিঘীনালা বা খাগড়াছড়ি ফিরে যেতে পারেন ।।

তৈদুছড়াতে যেতে চাঁন্দের গাড়ীর প্রয়োজন নেই এটাতে কাছেই সর্বোচ্চ এক ঘন্টা হাটতে হবে দীঘিনালা থেকে ।

দীঘিনালাতে থাকার প্রয়োজন হতে পারে সেক্ষেত্রে আপনি দীঘিনালা গেস্ট হাউজে থাকতে পারেন, এটি দীঘিনালা শহরের বাস স্ট্যান্ডের উল্টো পাশে অবস্থিত । এটি দীঘিনালার আবাসিক হোটেল গুলোর মধ্যে একটু মানসম্মত । এখানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে রুম নিয়ে থাকা যাবে ।

 

দীঘিনালার চাঁদের গাড়ির ড্রাইভার রাজ – ০১৮২০৭৪১৬৬২, ০১৮৪৯৮৭৮৬৪৯ । শিবু- ০১৮২০৭৪৬৭৪৪ ।