‘ওয়াগ্যোয়েই পোয়ে’র সাজ সাজ রব

0
57

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘ওয়াগ্যোয়েই পোয়ে’ বা প্রবারণা পূর্ণিমাকে ঘিরে লামার পাহাড়ি পল্লীগুলোতে এখন উৎসবের সাজ সাজ রব। আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিন ব্যাপী উৎসব। পূর্ণিমা দিন প্রতিটি কেয়াং (বিহার) ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পল্লী গুলোতে ফানুস উড়ানো সহ নদীতে হাজারো প্রদীপ প্রজ্বলন, রথযাত্রা, পিঠা তৈরী প্রতিযোগিতাসহ নানা কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী উৎসবে।
সূত্র জানায়, তিন মাস বর্ষাবাস (উপোস) থাকার পর পাহাড়ি মারমা সমপ্রদায়ের লোকজন ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসব পালন করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও লামা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন এবং ১টি পৌরসভার বিভিন্ন পাহাড়ী পল্লীতে ধর্মীয় এ উৎসব পালনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।
লামা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারের উদযাপন কমিটির আহবায়ক ক্যজ্য মার্মা জানান, ওয়াগ্যোয়াই পোয়েঃ উৎসব হচ্ছে মারমা সমপ্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবে এবারো ৩ দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে রথযাত্রা, প্রদ্বীপ প্রজ্বলন, পঞ্চশীল গ্রহণ, ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। লামা মহামুণি ও উপজেলা কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার মাঠে পূর্ণিমা দিন রবিবার আকাশ (স্বর্গ) চুলামণি চৈত্য (জাদি) কে বন্দনার জন্য ‘‘ফানুস’’ উড়ানো হবে । আর নুনারবিল পাড়া হতে নদীতে প্রজ্বলন করা হবে হাজার প্রদীপ।
গজালিয়া ইউনিয়নের উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক উশৈঞ্য মার্মা (জয়) জানান, এবারে উপজেলা প্রবারণা উৎসব সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হবে গজালিয়া গাইন্ধ্যা পাড়াতে। অনুষ্ঠানে হেডম্যান পাড়া, বড় বমু হেডম্যান পাড়া, ডেঙ্গিছড়া, বাইশপাড়ি এলাকার থেকে রথ এসে গ্যাইন্ধ্যা পাড়াতে লোক সমাগম হবে। গজালিয়া গাইন্ধ্যা পাড়াতে সোমবার রথযাত্রার উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল।
পাহাড়ে মারমাদের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী বড়ুয়া, ম্রো , চাকমা, তঞ্চঙ্গারাও এ “ওয়াগ্যোয়েই পোয়েঃ” উৎসব পালন করে থাকে। লামা পৌরসভার বিভিন্ন মারমা পল্লী ছাড়াও উপজেলার ফাঁিসয়াখালী, আজিজনগর, ফাইতং, সরই, গজালিয়া, রূপসীপাড়া, লামা সদর ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার বিভিন্ন বৌদ্ধ মন্দির ও পল্লী গুলোতে ব্যপক অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হবে। মারমা পলী্ল ও ক্যায়াং গুলো থেকে গৌতম বুদ্ধের চুলামণি চৈত্য বন্দনা করতে উড়ানো রং বে-রঙের শত শত ফানুস বাতি লামার রাতের আকাশ রঙিন করে তুলবে।
এদিকে, গতকাল শনিবার লামা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে উপজেলার ৬৯টি বৌদ্ধ বিহারে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, লামা উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও লামা পৌরসভার পক্ষ থেকে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নগদ অর্থ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমা পারুল, গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা, রুপসী পাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা, লামা পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মোহাম্মদ হোসেন বাদশা ও ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. রফিক এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মজনুর রহমান।