সেবা সংস্থার প্রতিনিধিদের সচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার তাগিদ মেয়রের

0
41

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পটি এ শহরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সেবা সংস্থাকে সচ্ছতা, সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার তাগিদ দেন মেয়র। তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকালে টাইগারপাসস্থ চসিক সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’ জাতীয় নগর দারিদ্র হ্রাসকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে সিটি প্রজেক্ট বোর্ড ও সিটি স্টিয়ারিং কমিটির ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিক প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্ণেল সোহেল আহমদ, মেয়রের একান্ত সচিব আবুল হাসেম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী, চট্টগ্রাম ওয়াসার বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক ড. পীষুষ দত্ত, চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য) সৈয়দ কামরুল আনোয়ার, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ছোটন চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক নীতা চাকমা, সমাজসেবা অফিসার মুহাম্মদ আবুল কাশেম, টাউন ম্যানেজার মো. সারোয়ার হোসেন খান, জিয়াউর রহমান ও আফজাল হোসেন শাকিলসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। মেয়র আরো বলেন শহরে বসবাসরত বৃহৎ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশকে স্বল্প আয়ের দেশ থেকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা সম্ভব নয়। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ শহরে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্প’টি বাস্তবায়ন করছে।ইউএনডিপি’র আর্থিক সহযোগিতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, বস্তিবাসীদের উন্নয়ন কমিউনিটি ভিত্তিক নানা ধরণের পদক্ষেপ এ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা ও জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্বল্পপরিসরে অবকাঠামো উন্নয়ন করে। সে সফলতার ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন প্রান্তিক জনগোষ্ঠী জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পটির আওতাভূক্ত শহরগুলোতে নানান উদ্ভাবনী পদক্ষেপের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। এই প্রসঙ্গে সিটি মেয়র বলেন এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের শহরে দারিদ্র বিমোচনের মাধ্যমে সুষম ও টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে এই প্রকল্প। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে ১২টি সিটি কর্পোরেশন ও ২৪টি প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় বসবাসকারী নি¤œ আয়ের ৪০ লাখ লোকের জীবনমান ও জীবযাত্রা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন কমিউনিটির সদস্যদের নিজের মধ্যে ঐক্য জোরদার করে এবং উন্নত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে বিশেষ করে নারী ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সুযোগ বাড়ানো মাধ্যমে দরিদ্রদের জীবনমান উন্নয়ন এ প্রকল্পের মুল উদ্দেশ্য। তাই এ প্রকল্প প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে শহরে বসবাসরত দরিদ্রদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা, কমিউনিটি ভিত্তিক সংগঠন শক্তিশালী করা, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মস্থান, জলবায়ু সহিষ্ণু অবকাঠামো উন্নয়ন, দারিদ্র্যবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা, নীতি ও পরিকল্পনা জোরদারের উপর কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।