হাতের কাছেই আকর্ষণীয় বেড়ানোর জায়গা

0
2

সমুদ্র আর পাহাড়ে ঘেরা চট্টগ্রাম নগরে হাতের কাছেই রয়েছে আকর্ষণীয় সব বেড়ানোর জায়গা। দিনভরই ঘুরে বেড়াতে পারেন এসব জায়গায়।

শহরের দক্ষিণ প্রান্তে গেলে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত আর প্রজাপতি পার্কের সৌন্দর্য। এর সঙ্গে ওয়েস্টার্ন ক্রুজে (প্রমোদতরী) চড়ে নদী-সমুদ্রের মোহনা দেখা। আবার পশ্চিম প্রান্তে গেলে আছে ফয়’স লেকের চিড়িয়াখানা, কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। আর উত্তরে ক্যাফে টোয়েন্টি ফোর ও স্বাধীনতা পার্কের দৃশ্য উপভোগ। তাই কোথায় যাবেন পরিকল্পনা করে নিন এখনই।

পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত

সৈকতে ঈদের দিন থেকে টানা কয়েক দিন মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকে। বিশেষ করে বিকেলে সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। চাইলে স্পিডবোটে চড়ে এক চক্কর দেওয়া যায়। সঙ্গে ঘোড়ার পিঠে চড়ে সৈকতের আশপাশে ঘুরে তীরে বসলেই যেন মন ভালো করে নেওয়া যায়। সৈকত-লাগোয়া বিপণিকেন্দ্র ও রেস্তোরাঁয় ঢু মেরে কিনতে পারেন শামুকসামগ্রী দিয়ে তৈরি নানান তৈজসপত্র আর খেতে পারেন কাঁকড়া ভাজা। পতেঙ্গা সৈকতে এলে কমবেশি সবাই ঘুরে যান কর্ণফুলীর ১৫ নম্বর ঘাট। এ ছাড়া কর্ণফুলীর অভয়মিত্র ঘাট তো আছেই।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

নতুন সাজের চিড়িয়াখানা সবার ভালোই লাগবে। বর্ণিল হাঁটার পথ, পাশে দেয়ালচিত্রে পশু-পাখির অবয়ব আর সংলগ্ন পাহাড় ঘিরে দেশীয় পশুপাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার কাজ চলছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায়। চিড়িয়াখানার সাথে অভয়ারণ্যের ধারণার সংযোগ ঘটিয়ে নতুন আঙ্গিকে মানুষের আকর্ষণ বেড়েছে। মূলত শিশু ও দর্শনার্থীরা যাতে প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে পশু-পাখির সাথে পরিচিত হতে পারে সেটাই লক্ষ্য বলে জানান চিড়িয়াখানা সংশ্লিষ্টরা। চিড়িয়াখানা পরিচালনা পর্ষদের সচিব মো. রুহুল আমীন বলেন, “আমাদের সমস্ত কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু শিশুরা। “চিড়িয়াখানার ভিতরে হাঁটার পথ এবং পাহাড় ঘেরা গাইড ওয়ালটি রঙিন দেয়ালচিত্রে রাঙানো হয়েছে শিশুদের আকৃষ্ট করতেই। যাতে এখানে প্রবেশের সাথে সাথেই এত রঙ তাদের মন আনন্দে ভরে ওঠে।”

প্রজাপতির ‘রাজধানীতে’

শত প্রজাতির প্রজাপতির সঙ্গে ‘মিলে মিশে’ ঘুরতে পারেন প্রজাপতি পার্কে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই প্রজাপতির এ আবাস। পার্কের সবকিছু প্রজাপতির আদলে করা। দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে প্রজাপতি জাদুঘর। যে জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে বিরল প্রজাতির সব প্রজাপতি। প্রতিদিন খোলা থাকে সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা সাতটা। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন আছে কনসার্ট। জনপ্রতি ২০০ টাকা খরচ করলেই প্রজাপতির রাজ্যে বসে উপভোগ করা যাবে কনসার্টও।

প্রমোদতরীতে চড়ে কর্ণফুলীর মোহনায়

প্রমোদতরী ওয়েস্টার্ন ক্রুজে চড়ে ঘুরে আসা যায় বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলীর মিলনস্থল থেকে। বন্দরের বহির্নোঙর দেখার এ এক দারুণ সুযোগ।

জাহাজেই মিলবে জাদু প্রদর্শনী ও সুরের মূর্ছনা উপভোগ। ঈদের পরদিন থেকে টানা ৭ দিন রয়েছে প্রমোদতরীতে ঘুরে আসার ব্যবস্থা। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় চট্টগ্রামের বোট ক্লাব ঘাট থেকে ছাড়ে জাহাজ। দুই ঘণ্টার এই ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি খরচ পড়বে ৮০০ টাকা করে।

ফয়’স লেক

পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত আঁকাবাঁকা ফয়’স লেকের দুপাশেই সবুজের সমারোহ। এখানে আছে অ্যামিউজমেন্ট ও ওয়াটার পার্ক এবং রিসোর্ট। মজার ১৪টি রাইড নিয়ে সাজানো হয়েছে অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। জলকেলিতে মেতে ওঠার নানা আয়োজন রয়েছে ওয়াটার পার্ক সি ওয়ার্ল্ডে। অ্যামিউজমেন্ট পার্ক থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ১০ মিনিটের পথ পেরোলেই দেখা মিলবে সি-ওয়ার্ল্ড। লেকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। রেস্তোরাঁয় মিলবে দেশি-বিদেশি সব খাবার। আবার লম্বা ছুটি কাটাতে সঠিক গন্তব্য হতে পারে ফয়’স লেক রিসোর্ট। এতে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হ্রদমুখী কক্ষ। নিরিবিলি পরিবেশে লেকের পাশেই পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে তোলা হয়েছে বাংলো। পার্ক খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

ক্যাফে টুয়েন্টি ফোর

প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য সেরা ঠিকানা হতে পারে ক্যাফে টোয়েন্টি ফোর। চট্টগ্রাম সেনানিবাস-সংলগ্ন এই বিনোদনকেন্দ্রের অবস্থান ভাটিয়ারিতে। সেনাবাহিনীর সমরাস্ত্রও দেখা যাবে পার্কের ভেতরে। বোটে চড়ে ঘুরে বেড়ানো যাবে কৃত্রিম লেকে।

আর রেস্তোরাঁয় রকমারি খাবারদাবার তো আছেই। এই বিনোদনকেন্দ্র খোলা থাকে সকাল নয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত।

মিনি বাংলাদেশ দেখতে স্বাধীনতা পার্কে

নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় গড়ে তোলা এই পার্কে রয়েছে ‘মিনি বাংলাদেশ’। এতে রয়েছে সংসদ ভবন, স্মৃতিসৌধ, কার্জন হল, আহসান মঞ্জিল, দরবার হল, কান্তজির মন্দিরসহ নানা স্থাপনার রেপ্লিকা। তবে পার্কের মূল আকর্ষণ ২২০ ফুট উচ্চতার রেস্তোরাঁ। এই রেস্তোরাঁ থেকে পাখির চোখে দেখা যায় চট্টগ্রাম শহর। পার্ক খোলা থাকে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত।

এ ছাড়া কাজীর দেউড়ি ও আগ্রাবাদ শিশুপার্ক, জাম্বুরি মাঠ, কাট্টলী সমুদ্রসৈকতেও ঘুরে আসতে পারেন।