হামলাকারীদের গ্রেফতার না করায়, ফুসে উঠছে রাউজানের মানুষ

mirza imtiaz প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল , ২০১৯ সময় ০৫:০৬ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম রাউজান প্রতিনিধিঃ রাউজানের মোহাম্মদপুর এলাকার মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ার, ৭নং রাউজান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাউজান উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মোজ্জামেল হককে গত ১৭ এপ্রিল প্রকাশ্য দিবালেকে মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যরা হামলা করে । এঘটনার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা বিক্ষুদ্ব হয়ে উঠে । আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা হামলার ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সভা ও সড়ক অবরোধ কর্মসুচি পালন করে । ঘটনার পরদিন গত ১৮ এপ্রিল বিকালে রাউজান উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীম হোসেন রেজা বিক্ষুদ্ব জনতাকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে হামলাকারীদের গ্রেফতার করার আশ^াস দিলে বিক্ষুদ্ব আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় । গত ২০ এপ্রিল রবিবার বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ারের উপর হামলার প্রতিবাদে রাউজানের মুক্তিযোদ্বারা সাংবাদিক সম্মেলন করে হামলাকারীদের গ্রেফতার ও কাগতিয়া মার্দ্রসা ও মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির রাউজান মোহাম্মদপুর ২নং শাখা জঙ্গির আস্তানা বন্দ্ব করার দাবী জানান । হামলাকারীদের গ্রেফতার না করায় গত ২২ এপ্রিল সোমবার বিকালে রাউজানে মক্তিযুদ্ব স্মৃতি স্তম্ভের সামনে মুক্তিযোদ্বারা হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে মানববন্দন কর্মসুচি পালন করে । গতকাল ২৩ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকালে রাউজান উপজেলা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্বারা মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ারের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্দন কর্মসুচি পালন করে । মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যরা গত ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল রাউজানের মুন্সির ঘাটায় ছাত্রসেনা কর্মী উত্তর সর্তার নঈম উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা করে । মুিিনরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যদের হামলার শিকার হয় আল্লামা শফিউল আলম নেজামী, আল্লামা মহিউদ্দিন, রাউজানের মোহাম্মদপুর মোয়াজ্জেম বাড়ীর বাসিন্দ্বা আল্লামা হাফেজ নুরুল আবছার, কাগতিয়ার যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, মাসুদ, ডাবুয়া ইউনিয়নের হিংগলা নতুন পাড়া এলাকার আবদুল মন্নান, রাউজানের মোহাম্মদপুর আলেফ খা হাজীর বাড়ীর দরিদ্র রিক্সা চালক শামশুল আলম, মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা মোজ্জামেল হক । আওয়ামী লীগ নেতা মোজ্ঝামেল হক, হাফেজ আলআমা নুরুল আবছার, রিকসা চালক শামশুল আলম, মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ারের উপর হামলার ঘটনায় পৃথক পৃথক ভাবে রাউজান থানায় মামলা করা হয় । মামলার এজাহারে মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যদের আসামী করা হয় । ঘটনার পর পুলিশ হাশরার ঘটনার সাথে জড়িত মাসুদ, আবু মোসলেম, মনসুর নামের তিনজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করে । হামলার ঘটনায় জড়িত মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির অনান্য সদস্যদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ কোন অভিযান না চালিয়ে নিরবতা পালন করে আসছে বলে অভিযোগ করেন রাউজান উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রাউজান পৌরসভার ২য় প্যণের মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ । রাউজান উপজেলা মুক্তিযোদ্বা সংসদের কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী বলেন, রাউজান উপজেলা রাউজান উপজেলার কাগতিয়া মার্দ্রাসা ও কাগতিয়া ছিল ৭১ সালে রাজাকার আলবদর বাহিনীর ক্যম্প । কাগতিয়া রাজাকার আলবদর বাহিনীর ক্যাম্পে রাজাকার ফয়েজ আহম্মদ টিক্কা খান, রাজাকার ফজল করিম মাষ্টার, রাজাকার মাওলানা আবদুল জব্বারের নেতৃত্বে রাজাকার আলবদর বাহিনীর সদস্যরা রাউজানের কাগতিয়া, জাম্মইন, ডোমখালী, উত্তর গুজরা, বিনাজুরী এলাকার স্বাধীনতার স্বপক্ষের লোকজন ও সংখ্যালঘু সম্পাদায়ের লোকজনকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হতে। কাগতিয়া রাজাকার ক্যম্পটি বর্তমানে কাগতিয়া মার্দ্রসা, মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যলয় । কাগতিয়া রাজাকার ক্যম্পে ৭১ সালে এলাকার লোকজনকে নির্যাতন করার সংবাদ পেয়ে ৭১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্বারা রাজাকার ক্যম্প আক্রমন করে । এই সময়ে রাজাকার আলবদর বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্বাদের সমুখ যুদ্ব হয় । যুদ্ব চলাকালিন সময়ে রাজাকারদের ছোড়া গুলিতে রাউজানের ৭নং র্উাজান ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের অলী খান বাড়ীর বাসিন্দ্বা মুক্তিযোদ্বা মুছা শহীদ হয় । স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে মুক্তিযোদ্বারা পরবর্তী অপারেশন চালিয়ে রাজাকার ফয়েজ আহম্মদ টিক্কা খানকে হত্যা করে। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে কাগতিয়া মার্দ্রাসাটি ও কাগতিয়া মাইজপাড়া এলকাটি ক্রমানয়ে মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যলয় হিসাবে গড়ে উঠে । মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটি ত্বরিকতের নামে সমগ্র রাউজানে শাখা গড়ে তোলে । ৭১ সালে রাজাকার আলবদর বাহিনীর নিযাতনের মতো মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যরা রাউজান সহ বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযোদ্বা ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের রাজনৈতিক নেতা কর্মী, আলেম সহ সাধারন মানুষের উপর নির্মম নিয়াতন চালিয়ে আসছে । । গত ১৭ এপ্রিল রাউজানের রমজান আলীর হাটের উত্তর পাশে হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের উপর আওয়ামী লীগ নেতা মোজ্জামেল হকের উপর মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির অনুসারীরা হামলা চালায় । এসময়ে মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ার আওয়ামী লগি মোজ্জামেল হককে হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ারের উপর ও হামলা চালায় । মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ারের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির জঙ্গি আস্তানা কাগতিয়া মার্দ্রাসা ও মোহাম্মদপুর ২নং শাখা বন্দ্ব করার দাবীতে মুক্তিযোদ্বাদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন, মানববনন্দন কর্মসুচি পালন করলে ও প্রশাসন তাদের বিরুদ্বে কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় মুনিরিয়া যুবতবলীগ কুিমটির জঙ্গি আসাতানা বন্দ্ব ও মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যদের গ্রেফতারের জন্য প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন রাউজানের মুক্তিযোদ্বারা । এলাকায় ঘুরে সাধারন মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির কর্মকর্তা পদে আসিন রয়েছে ৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে পাকা হানাদর বাহিনীর সদস্যদের সহায়তা প্রদানকারী রাজাকার তার হলেন, রাউজানের বিনাজুর ইউনিয়নের লেলাঙ্গারা মাদালিয়ার বাড়ীর মাওলানা অ¦দুল জব্বার, মোহাম্মদপুরের মাওলানা আবদল ছালাম, মঙ্গলখালীর মৃত মাওলানা সেকান্দর, লিয়াকত আলী। এ ব্যাপারে রাউজান থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হামলার ঘটনার পর হামলার ঘটনার সাথে জড়িত তিনজনকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে । হামলার ঘটনার সাথে জড়িত অন্য আসামীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাদের গ্রেফতার করা স্ম্ভব হয়নি । হামলাকারীদের গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে । রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় হামলাকারী মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যদের পুলিশ গ্রেফতার না করায় এলাকার সাধারন মানুষ ফুসে উঠতে শুরু করেছে ।
মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যরা গত ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল রাউজানের মুন্সির ঘাটায় ছাত্রসেনা কর্মী উত্তর সর্তার নঈম উদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যা করে । মুিিনরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যদের হামলার শিকার হয় আল্লামা শফিউল আলম নেজামী, আল্লামা মহিউদ্দিন, রাউজানের মোহাম্মদপুর মোয়াজ্জেম বাড়ীর বাসিন্দ্বা আল্লামা হাফেজ নুরুল আবছার, কাগতিয়ার যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন, মাসুদ, ডাবুয়া ইউনিয়নের হিংগলা নতুন পাড়া এলাকার আবদুল মন্নান, রাউজানের মোহাম্মদপুর আলেফ খা হাজীর বাড়ীর দরিদ্র রিক্সা চালক শামশুল আলম, মুক্তিযোদ্বা শফিকুল আনোয়ার, আওয়ামী লীগ নেতা মোজ্জামেল হক, রাউজানের পশ্চিম রাউজান মাঝি পাড়া এলাকার মাওলানা ফোরকান, দক্ষিন হিংগলা এলাকার আল্লামা অবু মুছা সিদ্দিকি সহ এলাকার অনেক লোকজন মুনিরিয়া যুবতবলীগ কমিটির সদস্যদের নির্যাতনের শিকার হলে ও এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের কোন বিচার পায়নি হামলার শিকার হওয়া লোকজন । রাউজানের সাধারন মানুষ হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ।