হালদায় ডিম ছাড়ার সম্ভাবনা

0
1

মির্জা ইমতিয়াজ শাওন: ভারী বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া আর বজ্রপাত উপেক্ষা করে ডিম সংগ্রহে তৈরি মৎস্যজীবীরা। হালদাপাড়ে চলছে ডিম সংগ্রহকারীদের উৎসবের প্রহর গুনা।

সবাই আশা করছে আজকের প্রবল বৃষ্টিতে প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ডিম ছাড়বে মা-মাছ।

এর আগে এবছর  ৪ মে রাতে ও ৫ মে সকালে রুই, কাতল, মৃগেল, কালবাউশ মাছের গড়দুয়ারা থেকে মদুনাঘাট পর্যন্ত এলাকায় হাটহাজারী ও রাউজানের মাছের ডিম সংগ্রহকারীরা নমুনা ডিম পেয়েছিলোন স্থানীয় ডিম সংগ্রহকারীরা। তাদের আশা, যে কোনো সময় প্রচুর ডিম সংগ্রহ করতে পারবেন।

হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা জানিয়েছেন তারা মা-মাছের আনাগোনা দেখছেন এবং আগে নমুনা ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছেন। সেহেতু এসব মাছের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কেউ যাতে মা-মাছ শিকার করতে না পারে সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। ডিম থেকে রেণু ও পোনা তৈরির জন্য হ্যাচারিগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

চট্টগ্রামের রাউজান-হাটহাজারী উপজেলা সীমানা দিয়ে বয়ে চলা হালদা নদীতে প্রতি বছর চৈত্র থেকে আষাঢ় মাসে মা-মাছ ডিম ছাড়ে। কৃত্রিম পোনার চেয়ে হালদার পোনা দ্রুত বাড়ে। তাই এ পোনার কদর সারা দেশে। পোনা ব্যবসায়ীরা স্থানীয়ভাবে হ্যাচারি তৈরি করে অপেক্ষা করে থাকেন, মা-মাছ কখন ডিম ছাড়বে সে আশায়।

রাউজানের উরকিরচর, মইশকরম, বাড়ীঘোনা, রাম দাশ মুন্সিরহাট, আজিমেরঘাট, কাগতিয়া, বিনাজুরী, দক্ষিণ গহিরা, অংকুরীঘোনা, হাটহাজারীর মাদর্শা, মাছুয়াঘোনা, আমতুয়া, গড়দুয়ারা, পোরলীর মুখ এলাকায় শত শত নৌকা নিয়ে অভিজ্ঞ জেলেরা মাছের ডিম সংগ্রহের জন্য অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

মা-মাছ যাতে ডিম ছেড়ে নিরাপদে ফিরে যেতে পারে এবং কেউ যাতে মা-মাছ শিকার করতে না পারেন, সে ব্যাপারে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাউজান থানার ওসি বলেন, ‘আমরা সজাগ রয়েছি। ডিম ছাড়ার সম্ভাব্য স্থানগুলোতে পুলিশি টহল চলছে।’