১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত বৃটিশ পার্লামেন্ট

0
39

কার্যকর হতে যাচ্ছে বৃটিশ পার্লামেন্ট স্থগিতের ঘোষণা। স্থানীয় সময় সোমবার রাতে পার্লামেন্টে আগাম নির্বাচন নিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই ভোট শেষে সোমবার রাতে বা মঙ্গলবার সকালের দিকে পার্লামেন্ট স্থগিত করা হবে। ১৪ই অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হবে পার্লামেন্ট। বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ অবস্থায় পার্লামেন্টে কোনো বিল পাস হবে না। গত মাসের শেষের দিকে পাঁচ সপ্তাহের জন্য পার্লামেন্ট স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছিলেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।
জনসনের পার্লামেন্ট স্থগিতের ঘোষণা তীব্রভাবে সমালোচিত হয়। বিরোধীরা অভিযোগ করেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ)-এর সঙ্গে কোনো চুক্তি না করেই বৃটেনের বিচ্ছেদ বা ব্রেক্সিট প্রক্রিয়া সমপন্ন করতে চান বরিস জনসন। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যরা যেন বাধা দিতে না পারে সেজন্যই পার্লামেন্ট স্থগিত করে দিচ্ছেন তিনি। তার ওই ঘোষণার পরপরই দ্রুত পদক্ষেপ নেন বিরোধীরা। পার্লামেন্টে চুক্তিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে বিল পাস হয়। বিল অনুসারে, ১৯শে অক্টোবরের মধ্যে পার্লামেন্ট কোনো চুক্তিতে সম্মত না হলে বা চুক্তিহীন ব্রেক্সিটে সমর্থন না দিলে ইইউ’র কাছে ব্রেক্সিটের সময়সীমা পেছাতে অনুরোধ করতে হবে জনসনকে। তবে রোববার চ্যান্সেলর সাজিদ জাভিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ইইউ’কে ব্রেক্সিট পেছাতে অনুরোধ করবেন না।

বিরোধীদের ওই বিলের পক্ষে ভোট দেন জনসনের দলের ২১ এমপি। তাদের বহিষ্কার করেন তিনি। এ ছাড়া, দলত্যাগ করেছেন শীর্ষ অপর এক এমপি। পদত্যাগ করেছেন দলের হুইপ এবং মন্ত্রী অ্যাম্বার রাড, বরিস জনসনের ভাই জো জনসন সহ একাধিক দলীয় কর্মী। একের পর এক পরাজয়ের মধ্যে আগাম নির্বাচনের ডাক দেন জনসন। কিন্তু বিরোধী দলের সমর্থন না পেয়ে তা প্রত্যাখ্যাত হয়। পরবর্তীতে ফের পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব তোলেন তিনি। সোমবার প্রস্তাবটি নিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ভোট শেষে পার্লামেন্ট স্থগিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, ব্রেক্সিট ইস্যুতে স্বর পাল্টালেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। চুক্তিহীন ব্রেক্সিটকে একটি ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি। বলেছেন, চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হবে একটি ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার জন্য দায়ী থাকবে বৃটিশ ও আইরিশ সরকার। আইরিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ডাবলিন সফরে গেছেন তিনি। বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর সেখানে এটাই তার প্রথম সফর। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের পক্ষে সায় ছিল জনসনের। পার্লামেন্টেও তিনি পূর্বে জানান, চুক্তি সহ বা ছাড়া যেভাবেই হোক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিট সমপন্ন করতে চান তিনি। বিবিসি জানায়, সোমবার আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেবে বিরোধী দলগুলো। যার মানে হচ্ছে, অক্টোবরে কোনো আগাম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না।
ডাবলিনে দেয়া বক্তব্যে জনসন আরো বলেন, এখনো ব্রেক্সিট ইস্যুতে একটি চুক্তি করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এও জানান, ইইউ’কে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা পেছাতে অনুরোধ করবেন না তিনি। তবে আইরিশ প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার জানান, ইইউ ও বৃটেনের মধ্যে স্বচ্ছ বিচ্ছেদ বলতে কিছু নেই। এমতাবস্থায়, আরো একবার ব্রেক্সিট পেছানোর পক্ষে তিনি। বিদ্যমান চুক্তি অনুসারে আগামী ৩১শে অক্টোবর ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
ব্রেক্সিট পেছাতে ইইউ’কে অনুরোধ করবেন না জনসন: জাভিদ
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) কাছে ব্রেক্সিট কার্যকরের সময়সীমা পেছানোর অনুরোধ করবেন না বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। রোববার চ্যান্সেলর সাজিদ জাভিদ এমনটা জানিয়েছেন। এ ছাড়া, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে নাইজেল ফারাজের ব্রেক্সিট পার্টির সঙ্গে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি জোট বাঁধতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য টাইমস।
খবরে বলা হয়, রোববার বৃটেনের সামপ্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিবিসি ওয়ান-এর সঙ্গে কথা বলেন সাজিদ জাভিদ। তিনি জানান, আগামী মাসে ইউরোপীয় সম্মেলনে ব্রেক্সিট পেছানোর অনুরোধ করবেন না জনসন। এতে সপষ্ট ইঙ্গিত মেলে যে, ইইউ থেকে বৃটেনের বিচ্ছেদের বিষয় আদালতে উঠতে পারে। জাভিদ বলেন, আমরা আমাদের নীতিমালা পরিবর্তন করবো না। আমরা আইন মেনে চলবো। তবে আমাদের নীতিমালার ভেতরে থেকেই। আর এ বিষয়ে কী হয় তা জানার জন্য, আপনাদের অপেক্ষা করতে হবে। ১৯শে অক্টোবর আসতে অনেকদিন বাকি।
এ ছাড়া, ব্রেক্সিট পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় তার কাছে। আগামী নির্বাচনে জিততে হলে কনজারভেটিভ পার্টিকে ব্রেক্সিট পার্টির সঙ্গে জোট বাঁধতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এমতাবস্থায় জোট না বাঁধার কথা নিশ্চিত করেননি জাভিদ। তিনি জানিয়েছেন, জয়ের জন্য এমন পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে না কনজারভেটিভ পার্টির। তিনি বলেন, আমাদের কারো সঙ্গে নির্বাচনী জোট বাঁধতে হবে না। আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম ও নিজেদের বার্তা ছড়িয়ে দিতেও সক্ষম। আমি নিশ্চিত আমাদের কারো সঙ্গে জোট বাঁধার প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, ব্রেক্সিট নিয়ে বৃটেনের রাজনীতিতে তীব্র অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী জনসন ও তার নেতৃত্বাধীন জোট। দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়ায় ২১ এমপিকে দল থেকে বহিষ্কার করেছেন জনসন। দলত্যাগ করেছেন একাধিক এমপি। পদত্যাগ করেছেন আরো অনেকে। সর্বশেষ রোববার পদত্যাগ করেছেন কর্ম ও পেনশন মন্ত্রী এবং কনজারভেটিভ হুইপ অ্যাম্বার রাড। পদত্যাগের পর তিনি জানান, তার আশঙ্কা, ইইউ’র সঙ্গে কোনো চুক্তি করার ইচ্ছা নেই জনসনের। তিনি চুক্তিহীন ব্রেক্সিট সমপন্ন করার কৌশল মেনে চলছেন।