৩৫ বছরেও চন্দ্রঘোনা কেআরসি স্কুলের শিক্ষকদের এমপিও ভুক্ত করা হয়নি

0
22

 নজরুল ইসলাম লাভলু,:

কাপ্তাই স্কুল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৩৫ বছর অতিবাহিত হলেও কাপ্তাই উপজেলাধীন চন্দ্রঘোনা কেআারসি স্কুলের শিক্ষকদের এমপিও ভুক্ত করা হয়নি। অর্থের অভাবে বর্তমানে নাজুক পরিস্থিতিতে সাড়ে ৩ শতাধিক ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে শংকিত রয়েছে শিক্ষার্থীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাইয়ের শিল্প এলাকা হিসাবে পরিচিত চন্দ্রঘোনা কেপিআরসি এলাকা। ১৯৫৩ সালে কর্নফুলি পেপার মিলস লিমিটেড (কেপিএম) এবং পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে কর্নফুলি রেয়ন মিলস (কেআরসি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুই শিল্প কারখানায় কর্মরত কর্মকর্তা, শ্রমিক কর্মচারীদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য প্রথমে ঐতিহ্যবাহী কেপিএম স্কুল ও পরবর্তিতে গড়ে উঠে কেআরসি স্কুল। বাংলাদেশ কেমিক্যালস ইন্ড্রাষ্ট্রিজ কর্পোরেশনের ( বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রনে এই দু’শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগ, বেতন ভাতা সহ যাবতীয় শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হতো। কিন্ত কেপিএম স্কুলের কার্যক্রম স্বাভাবিক ভাবে চললেও ২০০২ সালের ১৫ ডিসেম্বর কেআরসি স্কুলের ভাগ্যে আসে এক চরম দুঃসময়। বিসিআইসির নিয়ন্ত্রাধীন কেআরসি মিল সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হওয়ার ফলে বিসিআইসি কতৃর্ক প্রতি মাসে দেওয়া স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। জানা গেছে, ছাত্রছাত্রীর চাপ সামাল দিতে না পারায় ১৯৮৪ সালে পৃথক ভাবে কেআরসি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর হতে ২০০২ সালের আগে পর্যন্ত রাঙামাটি জেলার মধ্যে ফলাফলের দিক দিয়ে ৩ বার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কৃতিত্ব অর্জন করে কেআরসি স্কুল। এরপর থেকেই স্কুলটি তার ঐতিহ্য হারিয়ে বর্তমানে কোন রকমে পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই সংকটের কারনে ২০০২ সালের পর থেকে একে একে চাকরি ছেড়ে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা নিয়েছেন এই স্কুলের নামকরা অনেক শিক্ষক। কেআরসি স্কুলের প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম জানান, বর্তমানে ৬ জন মহিলা শিক্ষক এবং ৪ জন পুরষ শিক্ষক ৬ষ্ঠ শ্রেনী হতে ১০ম শ্রেনী পর্যস্ত ৩৫৪ জন শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান করাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া সামান্য টিউশন ফি’ দিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হয়। তিনি জানান, শিক্ষকদের বেতনের হার এতো কম যে, যা দিয়ে ওই শিক্ষকের পরিবারতো দূরের কথা নিজের আনুষঙ্গিক খরচও মিটেনা। তিনি অতি দ্রুত কেআরসি স্কুলকে এমপিও ভূক্ত করার জন্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানান। কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মফিজুল হক জানান, এমূহুর্তে কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয় এমপিও ভূক্ত হওয়া খুবই জরুরী। না হলে অচিরেই বন্ধ হয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তিনি আরোও জানান, রাঙামাটি থেকে নির্বাচিত সাংসদ দীপংকর তালুকদার এই স্কুলের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বার বার অনুদান দিয়েছেন। এছাড়া, তিনি তার তহবিল হতেও নগদ অনুদান দিয়েছেন যাতে স্কুলের পাঠদান ব্যাহত না হয়। কিন্ত এটা সাময়িক সমাধান। তাই এই স্কুলটি বাঁচানোর জন্য তিনি দ্রুত এমপিও ভুক্ত করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানান। কাপ্তাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদির আহমেদ জানান, অনেকটা স্বেচ্ছাশ্রমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’ হতে যৎসামান্য বেতন নিয়ে শিক্ষকরা শিক্ষকতা করছেন। কিন্ত এই সামান্য অর্থ দিয়ে একজন শিক্ষকের পরিবার চালানো বর্তমান সময়ে অসম্ভব। তাই স্কুলটি দ্রুত এমপিও ভূক্ত হওয়া জরুরী বলে তিনি মনে করেন। এবিষয়ে তার দপ্তরের যা করণীয় তিনি তা করবেন বলেও জানান। কাপ্তাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রঘোনা কেআরসি উচ্চ বিদ্যালয়ের সাড়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষা কার্যক্রম যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য এই এলাকার শিক্ষানুরাগী সচেতন মহল সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।