৬৯‘র গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সোপান : ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক

0
7

১৯৬৯’র ২৪ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থান দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসের মাইল ফলক বলে মন্তব্য করে সাবেক রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ড. নিম চন্দ্র ভৌমিক বলেন, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সোপান।

তিনি বলেন, ১৯৬৯ সালের তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সামরিক জান্তা আইয়ুব খানের পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ছাত্রনেতা আসাদ ও নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণীর ছাত্র মতিউর। তাদের শহীদ হওয়ার সংবাদ বাতাসের মতো ছড়িয়ে যায় সারাদেশে। দীর্ঘদিন যাবৎ পশ্চিম পাকিস্তানের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত বাংলার ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। সূচিত হয় মহান গণঅভ্যুত্থানের।

শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) নয়াপল্টনে ২৪ জানুয়ারি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় গণতান্ত্রিক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের সে রক্তঝরা পথ ধরে আজকের এই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ, সে সবকিছু অর্জনের ড্রেস রিহার্সাল ছিল ’৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থান-যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে এবং থাকবে চিরদিন।

তিনি আরো বলেন, ১৯৬৯’র ২০ জানুয়ারি আসাদের রক্তের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, সে আন্দোলনের সফল পরিণতিতে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেয়ার আইয়ুব খানের ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা বানচাল করে ’৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে নিঃশর্তভাবে ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত করে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১০ লক্ষাধিক লোকের বিশাল জনসমুদ্রে গণসংবর্ধনা দিয়ে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, ‘৬৯-এর মহান গণআন্দোলনে বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টিই মুখ্য ছিল। দেশের আপামর জনসাধারণের স্বার্থে পাকিস্তানের ভিত কাঁপিয়ে দিয়ে আইয়ুব খানের পতন ঘটিয়েছিল বাংলার জনগন। সেই আন্দোলন ছিল প্রকৃতপক্ষেই জনগণের ভোটাধিকারসহ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। ৬৯’র ২০ জানুয়ারি আসাদের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট সূচিত হয়। কবির ভাষায় সেই দিনের শ্লোগান ছিল ‘আসাদের রক্তমাখা শার্ট জাতির পতাকা’।

তিনি বলেন, ৬৯’র গণআন্দোলন ছিল জনগণের সার্বিক মুক্তির আন্দোলন। সে আন্দোলনের পথ বেয়ে পরবর্তীকালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই কারণেই আমাদের জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে ‘৬৯-এর গণআন্দোলন এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।

সভাপতির বক্তব্যে এম.এ জলিল বলেন, ‘৬৯-এর ২০ জানুয়ারি আসাদকে গুলি করে হত্যা করা হলো, ২৪ জানুয়ারি মতিউর-মকবুল-রুস্তমকে হত্যা করল, সেদিন দাবানলের মতো আগুন জ্বলে উঠেছিল। সারাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে গণঅভ্যুত্থান সংঘঠিত করেছিল। সেটিই ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সত্যিকারের আন্দোলন।

সংগঠনের সভাপতি এম এ জলিলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ গ্রহন করেন বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ন্যাপ-ভাসানী চেয়ারম্যান এম এ ভাসানী, কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান এম.এম. আনিছুর রহমান দেশ, বাংলাদেশ ন্যাপ ভাইস চেয়ারম্যান স্বপন কুমার সাহা, মহানগর সভাপতি মো. শহীদুননবী ডাবলু, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ নেতা আ স ম মোস্তফা কামাল, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমির রঞ্জন দাস প্রমুখ।