বুয়েট হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতির কক্ষ সিলগালা

0
67

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী অবৈধভাবে হলে অবস্থান করা ছাত্রদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।

এ সময় বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের অফিস কক্ষ সিলগালা করা হয়।

শনিবার (১২ অক্টোবর) বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক মিজানুর রহমান কক্ষগুলো সিলগালা করেন। তিনি লেন, তিনটি কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অভিযান চলবে।

সিলগালা করা কক্ষগুলো হলো- আহসানউল্লাহ হলে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জামী উস সানীর ৩২১, ছাত্রলীগের অফিস কক্ষ ১২১ ও শেরেবাংলা হলে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলের ৩১২ নম্বর কক্ষ।

বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জামী উস সানী বাংলানিউজকে বলেন, ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষকরা এসে আমার রুম সিলগালা করে দিয়েছেন। এছাড়াও বুয়েট ছাত্রলীগের অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত আহসান উল্লাহ হলের ১২১ নম্বর কক্ষও সিলগালা করে দিয়েছেন।

শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে তৃতীয় দফা দাবি ছিল- বুয়েটে সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে সব হল থেকে অবৈধ ছাত্র উৎখাত করতে হবে, অবৈধভাবে হলের সিট দখলকারীদের উৎখাত করতে হবে, সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস কক্ষ সিলগালা করতে হবে, সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের পর ভবিষ্যতে কেউ যদি এ রকম সাংগঠনিক কার্যক্রমে জড়িত হয় কিংবা কোনোরকম ছাত্র নির্যাতনে জড়িত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেবে- তা বিস্তারিত জানিয়ে নোটিশ জারি করতে হবে।

পরবর্তীতে এটি যে অর্ডিন্যান্সে অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তা নোটিশে উল্লেখ থাকতে হবে। পাশাপাশি, এ ধরনের কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কমিটি করতে হবে এবং কমিটি গঠনের বিষয়টিও নোটিশে উল্লেখ করতে হবে।

এর প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সব রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলো।

হলে থাকা অবৈধদের বিষয়ে বলা হয়, অবৈধভাবে যারা আবাসিক হলের সিট দখল করে আছে, তাদেরকে অতিসত্বর হলের সিট খালি করা, সাংগঠনিক ছাত্র সংগঠনগুলোর অফিস কক্ষ বন্ধ করে সিলগালা করার জন্য ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ব্যবস্থান নিবেন। ভবিষ্যতে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে র‌্যাগিং বা ছাত্র নির্যাতনের অভিযোগ আসলে তা ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে দ্রুত বিচার করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।