রাউজানে বন্যার সর্বগ্রাসী ছোবল

0
12

 দুর্গত এলাকাপরিদর্শনে ফজলে করিম এমপি
শফিউল আলম রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
চট্টগ্রামের রাউজানে ব্যাপক বন্যা । বন্যার পানিতে ৫০ হাজার লোক গৃহবন্দ্বি । সর্তা খাল , ডাবুয়া খাল, হালদা নদী কর্ণফুলী নদীর ভাঙ্গনে কয়েক শতাধিক পরিবারের বসত ঘর বিলিন। পানির শ্রোতে এলাকার সড়ক ভেঙ্গে গেছে । চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়কের জলিল নগর বাস ষ্টেশন, পশু হাসাপাতাল, পাইপের গোড়া, বেরুলিয়া, দাইয়্যার ঘাটা, জানালী হাট, গহিরা, হাফেজ বজলুর রহমান সড়কের হাজী পাড়া, শহীদ জাফর সড়কের ছত্র পাড়া, রোংইঙ্গা বিল,পুর্ব ডাবুয়া, দোস্ত মোহাম্মদ চৌধূরী সড়কের কেউকদাইর, সুলতানপুর, লাঠিছড়ি, গনির ঘাট সড়কের পুরো এলাকা, রাউজান নোয়াপাড়া সড়ক, অদুদিয়া সড়ক, পানিতে ডুবে গেছে । সড়কে পানি গড়িয়ে পড়ার কারনে চট্টগ্রাম রাঙ্গামাটি সড়ক সহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল বন্দ্ব হয়ে যায় । বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য রাউজানে ২৪ টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে । বন্যা দুর্গত এলাকায় ম্যাচ, ওরাাল স্যালাইন, মোমবাতি, বালতি,শুকনা খাবার বিতরন করা হয়েছে । আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের খাবার ব্যবস্থা করেছে রাউজান উপজেলা প্রশাসন ।
গত ১২ জুন মঙ্গলবার বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি। দুপুর থেকে বিকালে পর্যন্ত তিনি ডাবুয়া ইউনিয়ন ও হলদিয়া ইউনিয়নের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি দীর্ঘ হাটু পরিমাণ জলমগ্নপথ পায়ে হেঁটে এলাকার মানুষের খবরাখবর নেন। এসময় দুর্গতদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, গত বছরের ক্ষত না শুকাতেয় আবারো তছনছ করে দিয়েছে বন্যা। বন্যার পানি নেমে না যাওয়ায় এখনো ক্ষতি দেখা যাচ্ছেনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্বে রাউজানবাসীর সহযোগিতায় তিলে তিলে গড়া রাউজানের উন্নয়ন কাজ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমার খুব খারাপ লাগছে। তবুও বাস্তবতাকে মেনে নিতে হচ্ছে। বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আপনারাই আমার শক্তি-সাহস আর স্বজন। তাই আপনাদের দুঃখ, দুর্দশা, কষ্ট দুর্ভোগে আমি সবসময় আপনাদের পাশে আছি, থাকবো। বন্যা দুর্গত এলাকা পরিদর্শনের সময় এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর সঙ্গে ছিলেন রাউজান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব একেএম এহেছানুল হায়র চৌধুরী বাবুল, পনি উন্নয়ন বোডের নির্বাহী প্রকৌশলী স্বপন বড়–য়া, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহম্মদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদ্প্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ওযাহিদুজ্জমান, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন রেজা, রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেপায়েত উল্লাহ, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান চৌধুরী লালু। শফিকুল ইসলাম, রাউজান পৌর
সভার কাউন্সিলর জমির উদ্দিন পারভেজ সহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবন্দ্ব ।
প্রবল বর্ষন ও পাহাড়ী ঢলের সৃষ্ট বন্যায় পানিবন্ধী রয়েছে উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের মানুষ। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে হলদিয়া, ডাবুয়া, চিকদাইর, গহিরা, নোয়াজিষপুর, পুর্ব গুজরা ও রাউজান ইউনিয়ন। সোমবার (১১ জুন) ভয়াবহ বন্যা শুরু হলেও মঙ্গলবার (১২ জুন) পর্যন্ত বন্যা পরিস্থিতি তেমন উন্নতি হয়নি। রাউজান পৌরএলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে মাটির গুদাম ও কাঁচা বসতঘর বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক কোমড় পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে যান চলাচল। যান চলাচল বন্ধ থাকায় জলমগ্ন এলাকা অতিক্রম করে গন্তব্যস্থলে যাওয়ার জন্য রিকশা, ভ্যান গাড়ি, পাওয়ার টিলার সংযুক্ত ট্রলি ও চাঁদের গাড়ির উপর ভরসা করছেন যাতায়তকারীরা। রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামীম হোসেন রেজা জানান, অব্যাহত প্রবল ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ী ঢলে মারাত্মক বিপর্যস্ত রাউজানের ৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড। মানবিক কারণে ২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলা প্রাশাসন ১টি কন্ট্রোল রুম চালু রেখেছে। সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সর্বক্ষনিক কর্মস্থলে অবস্থান করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে রাউজান ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও মাঠে রয়েছে। মঙ্গলবার (১২ জুন) দুপুরে বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। বিকেল ৫টা পর্যন্ত রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাউজানের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।