ড. হাছান মাহমুদের নির্দেশে অগ্নিসংযোগ বিএনপি

0
21

বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের নির্দেশে ও তার সহকারী রাশেদের নেতৃত্বে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির ইফতার আগুনমাহফিলের প্যান্ডেল ও আসবাবপত্র ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির নেতারা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনসমূহ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউনুস তালুকদার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী।

উল্লেখ্য উপজেলা বিএনপি শুক্রবার বিকেলে রাঙ্গুনিয়ার কাদের নগর এলাকায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বাসভবনে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে দুর্বৃত্তরা ইফতার মাহফিলের প্যান্ডেল ও আসবাবপত্র ভাংচুর করে আগুন লাগিয়ে দেয়।

এদিকে ইফতার মাহফিল প্রাঙ্গনের ১০০ গজের মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জেটির সামনে মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার বিকেলে সমাবেশের আয়োজন করেছিল যুবলীগ। দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন শুক্রবার সকালে ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে ‍অবশ্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিএনপি ইফতার মাহফিল করে।

সংবাদ সম্মেলনে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউনুস তালুকদার বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে এ ধরণের ন্যাক্কারজনক হামলায় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের মদদ ছিল। আগুন দেওয়ার সময় পুলিশ প্রশাসন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করে। পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিলে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হত।’

পুলিশ অগ্নিসংযোগের ঘটনায় লিখিত এজাহার গ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে ঈদের পর কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দেন ইউনুস তালুকদার। তিনি বলেন, ‘রমজান মাস হওয়ায় আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছি না। অন্য সময় হলে হরতাল ও ধর্মঘটের মত কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতাম।’

বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা সবচেয়ে বেশি হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বলে জানান ইউনুস তালুকদার। তিনি বলেন, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় রাঙ্গুনিয়াবাসীর বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী কারাবরণ করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘‘চট্টগ্রামের ইতিহাসে ড. হাছান মাহমুদের মত দুর্নীতিপরায়ণ মন্ত্রী আর আছে কিনা সন্দেহ। তার মনোনীত ‘কালেক্টর’রা চট্টগ্রামের প্রত্যেক শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড ও ইটভাটা থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করেন।’
বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জলবায়ু তহবিলের অর্থ আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ করে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ‘নয়টি বেসরকারী সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে জলবায়ু তহবিলের অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। এসব এনজিও’র সভাপতি হচ্ছেন খোদ ড. হাছান মাহমুদ। তিনি এসব এনজিও’র মাধ্যমে জলবায়ু তহবিলের অর্থ আত্মসাত করছেন।’

হাছান মাহমুদকে গণবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি আখ্যায়িত করে গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, ‘আপনি (হাছান মাহমুদ) আপনার নেত্রীকে তুষ্ট করার জন্য আমার নেত্রী ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছেন। এর মাধ্যমে আপনি আপনার নেত্রীর প্রিয়ভাজন হতে পারেন। কিন্তু এতে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।’

এদিকে শনিবার বিকেলে নগরীর দি কিং অব চিটাগাং এ উত্তর জেলা বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এক শ্রেণীর দালাল ইফতার মাহফিল স্থগিত ঘোষণা করে স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। যার কোনো ভিত্তি নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আহমেদ হাসনাত, সহ সভাপতি ও রাউজান বিএনপির সভাপতি হাছান চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি নুরুল আমিন তালুকদার, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা এমদাদুল ইসলাম, শওকত আলী তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ চৌধুরী প্রমুখ।