বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী পর্যন্ত খালটি খনন করা হলো না কেন

0
24

জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯৯৫ সালে প্রণীত মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী এখনো কেন বহদ্দারহাট বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খালটি খনন করা হলো না তা জানতে জানতে চেয়েছেন চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে বিষয়টি জানতে চান মেয়র।

জবাবে চসিকের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে দেরি হচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের খাতে ব্যয় প্রায় ১ হাজার ১১৯ কোটি টাকা। যা প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশ। প্রকল্পটির জিওবি বরাদ্দ ৭৫ শতাংশ খাতের প্রায় ৯১৫ কোটি টাকা ইতিমধ্যে বরাদ্দ পাওয়া গেছে। যার ৯১১ কোটি টাকা জেলা প্রশাসন তহবিলে জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ খাতেই ২০৮ কোটি টাকা এবং ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নে প্রায় ৯৭ কোটি টাকা অর্থাৎ ৩০৪ কোটি টাকা সিটি করপোরেশন তহবিল থেকে ব্যয় করতে হবে। কিন্তু বর্তমানে করপোরেশনের এ ব্যয়ভার বহনের সক্ষমতা নেই।

এ খালের মোট প্রক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১২৫ কোটি ৬১৫ লাখ টাকা। জিওবি ৭৫ শতাংশ ও চসিকের তহবিল ২৫ শতাংশ মিলিয়ে টাকার অঙ্কে যা দাঁড়ায় ৩১৪ কোটি ৩ লাখ টাকা। এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত। অথচ এ প্রকল্পের কাজ এখনো শুরু করা যায়নি।

সভায় উপস্থিত চসিকের নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, এত বড় প্রকল্পের জন্য মোট ২৫ একর জমি অধিগ্রহণ করা লাগবে। কিন্তু আইনে একসঙ্গে এই পরিমাণ জমির অধিগ্রহণের টাকা ছাড়ের কোনো বিধান নেই। তাই জেলা প্রশাসন ৫ ভাগে ভাগ করেছে অধিগ্রহণের বিষয়টা। এ ছাড়া এলএ শাখায় মামলাও আছে।

তিনি বলেন, কাজ শুরু করতে ম্যাচিং ফান্ডের টাকাও দেয়া যাবে না। তাই এই খাল খননে রিভাইস প্রকল্প নিতে হবে। এছাড়াও বর্তমানে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের একটি টিম সম্প্রতি প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

এ সময় মেয়র ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি নতুন নগর ভবন নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা কী তা-ও জানতে চান। তিনি টাইগারপাস অফিসে পার্কিং না থাকা, মূল শহরের বাইরে করপোরেশনের অফিস হওয়ায় কর্মকর্তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে মতামত নেন।

সভায় চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল সোহেল আহম্মেদ, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন, আবু ছালেহ, মনিরুল হুদা, কামরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের একসময় সুনাম ছিল। এখন দুর্নাম বেশি। এ দুর্নাম ঘুচাতে হবে।

তিনি প্রকৌশলীদের পরস্পর দলাদলি না করে আন্তরিকভাবে সততার সঙ্গে কাজ করার পরামর্শ দেন।

মেয়র বলেন, আমি আপনারা সবাই একটা পরিবার। কাজেই মিলেমিশে গুণগতমান বজায় থাকে মতো ঠিকাদারদের কাছ থেকে কাজ আদায় করুন। কাজের কোয়ালিটি নিশ্চিতে কোনো ছাড় দেবেন না। এটা আমার নির্দেশ।