বেহাল সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার চললেও এ কাজে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ নেই

0
43

ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে বেহাল সড়ক-মহাসড়ক সংস্কার চললেও এ কাজে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। বিধ্বস্ত এ ট্টগ্রামে বেহাল সড়ক-মহাসড়কসব সড়কের কিছু স্থানে আপদকালীন ফান্ড থেকে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার কাজ চলছে। এতে ঈদের আগে রাস্তা চলাচল উপযোগী করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে সড়কে বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজট বাড়ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বেশ কয়েকটি সড়কে সংস্কার কাজ চললেও শেষ হয়নি এখনও। সবমিলিয়ে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তির আশংকা থেকেই যাচ্ছে।

এদিকে, নগরীর ক্ষতিগ্রস্ত সব সড়ক ঈদের আগেই মেরামতের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র এম মনজুর আলম। তবে এ জন্য আলাদা কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, মেয়রের নির্দেশের পর বিভিন্ন রোডের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, ঈদকে সামনে রেখে সড়ক বিভাগের অধীন রাস্তাগুলো সংস্কারেও কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়নি। আপদকালীন ফান্ডে কিছু স্থানে জোড়াতালি দিয়ে সড়কে যান চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ প্রেক্ষিতে ঈদের আগে রাস্তাগুলোর পুরোপুরি সংস্কার শেষ হয়ে চলাচল উপযোগী করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

সরকারি হিসাবে চট্টগ্রামের প্রায় ১০৫০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৩৭০ কিলোমিটারে বেহাল দশা। কিন্তু বাস্তবে অবস্থা এর চেয়েও খারাপ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অধীন চট্টগ্রাম জেলায় মোট ৫৯৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১৫০ কিলোমিটার, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এলাকায় ৪৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ২০০ কিলোমিটার এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৬৬ কিলোমিটারের মধ্যে চট্টগ্রাম অংশে ১৭ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা বেশি খারাপ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।

সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, সওজের অধীনে চট্টগ্রাম জেলায় জাতীয় মহাসড়ক দুটি, আঞ্চলিক মহাসড়ক চারটি ও জেলা সড়ক ১৮টি। জাতীয় মহাসড়কের অধীন ১০০ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়কের অধীন ১৫০ কিলোমিটার ও জেলা সড়কে ৩৪৭ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে।

সওজের অধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাইয়ের বিভিন্ন অংশ, চট্টগ্রাম থেকে হাটহাজারী, নাজিরহাট, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া এবং চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাউজান অংশে সড়ক নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে।

এদিকে নগরীর কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত আরাকান সড়ক, জাকির হোসেন রোড, বহদ্দারহাট থেকে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত সড়ক, সিডিএ এভিনিউর অংশ বিশেষ, বিমানবন্দর সড়ক, পোর্ট কানেকটিং রোড, সদরঘাট সড়ক, সিরাজদৌলা সড়ক, কাপাসগোলা, হালিশহর সিডিএ আবাসিক এলাকার সড়ক, চৌমুহনী থেকে আগ্রাবাদ এক্সেস সংযোগ সড়ক, বাকলিয়া এলাকার বিভিন্ন সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সওজের অধীন চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার সড়কগুলোর মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই এলাকায় ১২টি পয়েন্টে ও সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন অংশে বড় বড় খানাখন্দ সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে মালবাহী গাড়ি দুর্ঘটনা কবলিত হচ্ছে এবং তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম-হাটহাজারী-নাজিরহাট মহাসড়কেও সাম্প্রতিক বর্ষণে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এ মহাসড়ক দিয়ে হাটহাজারী, রাউজান, ফটিকছড়িসহ দুই পার্বত্য জেলার ২৮টি রুটের গাড়ি ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বাঁশখালীর প্রধান সড়কে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় এসব সড়কপথ যানবাহন চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কার কাজ চলছে। তবে এ কাজে আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। আগে নেয়া প্রকল্পগুলো ঈদের আগে শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এছাড়া, নিজস্ব সরঞ্জামাদি দিয়ে ছোট-বড় গর্ত ভরাটের কাজ করছেন।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া জানান, সড়ক সংস্কারের জন্য এ বছর কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। আপদকালীন ফান্ড থেকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে বর্তমানে ৫০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, নগরীতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কার শুরু হলেও এজন্য আলাদা কোন বরাদ্দ নেই। সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব সরঞ্জামাদি, লোকবল ও বরাদ্দ থেকে জরুরি ভিত্তিতে এয়ারপোর্ট রোড, পোর্টকানেকটিং রোড, সিরাজুদৌল্লাহ রোড, সদরঘাট রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার ও গর্ত ভরাটের কাজ করা হচ্ছে।