শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা বন্ধে ভালো নেই ওরা

0
70

মোঃ নজরুল ইসলাম লাভলু, কাপ্তাই। অদৃশ্য এক মহাশক্তির কবলে পড়ে সারা বিশ্ব আজ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। চীনের উহান রাজ্য থেকে আগত মরনঘাতি করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের প্রতিটি দেশে মহামারি দেখা নিয়েছে। বিজ্ঞানীরা এই ভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কারের পরও করোনার প্রভাব কমছেনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করার উপায় হলো, নিজ নিজ বাসায় সামাজিক দুরত্ব রক্ষা করে অবস্থান এবং মুখে মাস্ক পরে চলাচল করা। এদেশেও এই ভাইরাসের প্রভাব চোখে পড়ার মতো। কেননা প্রতিদিনই বহু মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে এবং তার সাথে অনেক মানুষ মরণঘাতি এই ভাইরাসের প্রকোপে মৃত্যু বরণ করছে। তবে এই মহামারি করোনা ভাইরাস যখন থেকে এদেশে এসেছে, তখন থেকেই সরকার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কার্যত লগডাউন ঘোষনা করেছে। করোনা মোকাবেলায় ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাৎক্ষনিক বন্ধ ঘোষনা করে দিয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বরের দিকে করোনার প্রকোপ কিছুটা কমলে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ২০২১ সালের মার্চে সীমিত পরিসরে স্কুল খুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু বিগত মার্চ এবং চলতি এপ্রিল ২০২১ মাসে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে, ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও টানা বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই উপজেলা শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক অগ্রসর একটি উপজেলা। প্রতিবছর এই উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের পাবলিক পরীক্ষা, জাতীয় পুরষ্কার, মেধা অন্বেষনসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মেধা তালিকায় অবস্থান করে থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় কাপ্তাই উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় ১ বছর ১ মাস হতে চলছে। স্কুল কলেজ গুলো বন্ধ হওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যেমনটা মিস করছে, তেমনি মিস করছে তাদের সহপার্টিদের। বন্ধুদের সঙ্গে হৈ-হুল্লোড় আর আড্ডাও নেই। ক্লাসে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেই পড়াশুনা। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সব কিছু বদলে দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনে এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। তারপরও থেমে নেই জীবন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকলেও অনেক শিক্ষার্থী অনলাইনে ক্লাসে অংশ নিচ্ছে, পরিকল্পনা মাফিক সময়কে কাজে লাগাচ্ছে। আবার কাছের মানুষদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে সচেতন করে তুলছে। কাপ্তাই উপজেলার কয়েকটি স্কুল এবং কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থীদের কেমন কাটছে এই গৃহবন্দী জীবন, তাদের সে অনুভুতি গুলো তুলে ধরতেই কয়েকজন ছাত্রছাত্রীর সাথে কথা হয়। আলাপকালে কর্ণফুলী কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাসাসিং মারমা, একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাফরিন জানান, দীর্ঘ ১ বছর ১ মাসেরও অধিক সময় ধরে প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে পারছি না, খুব মিস করছি সহপাঠীদের। ঘরে বসে একগোঁয়েমী লাগছে। কাপ্তাই নৌ-বাহিনী কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী সায়েমা তাসনিম বলেন, কতদিন হয়ে গেলো এলার্মের আওয়াজে ঘুম থেকে উঠে প্রাণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া হয়না। কি এক সময় এলো, এমনটা কি কেউ ভেবেছিলো ! পুরো পৃথিবী আজ থমকে গেছে, নেই কোন কোলাহল, নেই কোন ব্যস্ততা। সর্বশ্রেষ্ঠ হয়েও আজ একটি ক্ষুদ্র অনুজীবের কাছে মানুষ পরাস্ত। তবে একমাত্র বাড়িতে থেকে এই করোনা ভাইরাস মোকাবেলা সম্ভব।ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে থেকেই এসময় লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়। কাপ্তাই বিএন স্কুল এন্ড কলেজে ভার্চুয়াল ক্লাস চালু করায় তারা অনলাইনে ক্লাসে অংশগ্রহন করতে পারছে। এই ভার্চুয়াল ক্লাসে অংশ নিতে পেরে অনেকের ভালো লাগছে। এখন প্রত্যাশা শুধু একটাই- নির্মল, সুস্থ বাতাসের। যেন তারা সবাই প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিয়ে আবার পথ চলতে পারে। সকলেই যাতে সুস্থ থাকেন, নিরাপদে থাকেন, এটাই কামনা। এদিকে, কাপ্তাই নৌ-বাহিনী স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র অর্নিবান দত্ত জানান, করোনা ভাইরাসের প্রকোপে অস্থির পুরো বিশ্ব। দেশে চলছে কার্যত লগডাউন।তারা সবাই করোনা মোকাবেলায় নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে। অনেক দিন বিদ্যালয়ে যেতে না পেরে, বন্ধুদের সাথে দেখা না হওয়ায় খুব বিরক্তিবোধ করছে এই শিক্ষার্থী। এমধ্যে তাদের বিদ্যালয়ে ভার্চুয়াল ক্লাস চালু করায় সেখানে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে। সোসাল মিডিয়ার কল্যাণে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে। এভাবে বাসায় সময়টা কাটছে।এই শিক্ষার্থী জানায়, মহামারীতে সবাইকে সচেতন ও বাড়িতে অবস্থান করতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোঁয়া ও মাস্ক পরে চলাফেরা করতে হবে। ওই শিক্ষার্থীর আশা, খুব শীঘ্রই আবার এই সংকট কাটিয়ে সুস্থ সুন্দর জীবনে ফিরবে গোটা বিশ্ব।