সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের দিকে নজর দিতে হবে

0
53

ক্রমবর্ধমান রোগের কারণে জনগণকে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদান সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাস্থ্যকে শুধু চিকিৎসা ব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের দিকে নজর দিতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী ‘সাসটেইনেবল ফান্ডিং ফর হেলথ প্রমোশন’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘থাই হেলথ ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্লানার্স, বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট’ সম্মিলিতভাবে এই সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ‘জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে খাদ্যগুলো ক্ষতিকর যেমন- কোমল পানীয়, তামাক, জাঙ্ক ফুডে উচ্চ কর আরোপ করতে হবে। অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা না গেলে ২০৫০ সালের মধ্যে আমাদের প্রতিটি পরিবারে একজন করে ডায়ালাসিস রোগী থাকবে। ডায়াবেটিসের কারণে দেশের ২০ ভাগ লোকের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।’সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত উল্লেখ করেন, ‘রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭০ ভাগ নিজের পকেট থেকে ব্যয় করতে হচ্ছে। আমাদের স্বাস্থ্য খাতে বাজেট কম। ১৪ ভাগ মানুষ তাদের মোট আয়ের ১০ ভাগ আয় ব্যয় করছে স্বাস্থ্য খাতে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম এনায়েত হোসেন বলেন, ‘স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকেই গুরুত্ব দিয়েই কর্ম পরিকল্পনা হচ্ছে।’

আসাদুল ইসলামের মতে, ‘চিকিৎসা নয়, হেলথ প্রমোশন শুধু স্বাস্থ্যের ইস্যু নয়। এটি একটি সামগ্রিক বিষয়। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যের সঙ্গে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানই কোনো না কোনোভাবে জড়িত।’
ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘চিকিৎসাই স্বাস্থ্য নয়। শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক।’

সম্মেলনে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন থাই হেলথের প্রতিষ্ঠাতা প্রাকিত ভাতিসাতোগকিত। অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক স ম গোলাম কিবরিয়া, হেলথ ব্রিজ-এর অঞ্চলিক পরিচালক দেবরা ইফরইমসন, পথিকৃত ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. লিয়াকত আলী প্রমুখ।