হিজড়া সম্প্রদায় লিঙ্গ স্বীকৃতি দাবী

0
29

হোসেন বাবলা:
সূর্যের আলো হিজড়া সংস্থার সভাপতি ফাল্গুনী হিজড়া বলেন, সরকার আমাদেরকে তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও এখনো আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র নিতে পারিনি। ব্যাংক একাউন্ট খুলতে গেলে বা পাসপোর্ট তৈরি করতে গেলে পরিচয় পত্রের অভাবে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যদি আমরা এ দেশের নাগরিক হয়ে থাকি তবে কেন আমরা বৈষম্যের শিকার হবো। সাহায্যের চাইতে আমাদের লিঙ্গ স্বীকৃতি’র এখন প্রধান সমস্যা। অঙ্কিতা হিজড়া বলেন, যেকোন ফরম পূরণ করতে গেলে নারী ও পুরুষ লেখা থাকে এতে আমাদের টিক চিহ্ন দেয়ার জায়গা কোথায়। এছাড়াও, আমরা মারা গেলে কবর বা চিতায় তোলার কোনই ব্যবস্থা নেই। ঝর্ণা হিজড়া বলেন, আমি যখন বুঝেছি যে আমি একজন হিজড়া তখনই পরিবারের সম্মান বাচাঁতে গৃহ ত্যাগ করি, আর তখন হতে পথে প্রন্তরে ঘুরতে ঘুরতে এখন চট্টগ্রামেই আছি।

কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলের অধীন স্মাইল প্রকল্প মাদারবাড়ি ড্রপ ইন সেন্টারের উদ্যোগে হিজড়া সম্প্রদায়ের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। হিজড়া সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা এবং তা সমাধান কল্পে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগিদের মনোযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই ৩১মে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ তৃণমূল পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে এ সভা আয়োজন করা হয়। স্মাইল প্রকল্পের ডিআইসি ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল জলিল ও দেবব্রত পালের সঞ্চালনায় শুরু হওয়া এ সভায় সভাপতিত্ব কারিতাস স্মাইল প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা আসনের কাউন্সিলর নীলু নাগ। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সদরঘাট থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোঃ মফিজ উদ্দিন, পিএসটিসির পীযুস দাশ গুপ্ত, ডিআইসি এ্যাডভাইজারী কমিটির সদস্য ও নারী নেত্রী রোকেয়া সুলতানাসহ হিজড়া সম্প্রদায়ের দশজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

কাউন্সিলর নীলু নাগ বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে হিজড়াদের উন্নয়নে কাজ করার অনেক প্রতিশ্রুতি দিতে পারি কিন্তু সত্যিকার অর্থে কোন কিছু করতে পারাটাই আসল। তিনি বলেন, হিজড়াদের কবরস্থানের সমস্যা সম্পর্কে আপনারা কোথায় খাস জমি বা সিটি কর্পোরেশনের খালি জায়গা আছে তার খোঁজ নেন আমি সর্বত্মক সহযোগিতা করবো। তিনি বলেন, সমাজে গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে হলে আপনাদেরকে আরও নমনীয় আচরণ করতে হবে। আর আপনাদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়সহ যেকোন প্রয়োজনে আমি আপনাদের পাশে থাকবো।

সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন, হিজড়ারা আমাদের সমাজেরই অংশ তাই যেকোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের উচিত তাদের পাশে দাড়াঁনোর এবং তাদের আবাসন, শিক্ষা এবং চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একযোগে কাজ করার। তাঁরা হিজড়াদের সার্বিক উন্নয়নে এ ধরণের সভা আয়োজনের জন্য স্মাইল প্রকল্প কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।